বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে খবর এসেছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত হবে অসঙ্গত ও অন্যায়। বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত এটি সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের প্রয়োজনেই সংসদে গেছে, আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সবার সঙ্গে তারাও অংশীদার হতে পারবেন, তবে তার আগে নয়।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারা প্রতিবাদ করবেন এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন। এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, পুরো সমাজ যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি একটি শপথ নেয়নি। তার মতে, সেখান থেকেই সংকটের সূত্রপাত। নির্বাচনের আগে সবাই একই অবস্থানে ছিলেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদের ওই অবস্থান পরিবর্তন না করার অনুরোধ জানানো হলেও তা শোনা হয়নি বলে জানান তিনি।
সংসদে সব বিষয়ে ইচ্ছামতো আলোচনা করা যায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ বিধিতে নোটিশ দেওয়া হলে এক বা দুই মিনিটের আলোচনা হয়। বিশেষ কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে ৬২ বা ৬৮ ধারায় নোটিশ দিতে হয়। তারা ৬২ ধারায় দুটি নোটিশের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে একটি তাদের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি সরকারি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, এরপর জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জ্বালানি তেল নিয়ে তৃতীয় একটি নোটিশ দেওয়া হলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে ৬৮ ধারায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য দিতে বলা হলে তারা সেটিই করেন। এ বিষয়ে আলোচনার পর ১০ জনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের তিন দিনের মধ্যেই সংকটের অবসান ঘটে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, এরপর সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও সেগুলো আলোচনায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গার্মেন্টশিল্প বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি এবং পোশাকের অর্ডার ৫০ শতাংশ বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ অবস্থায় দেশকে দরদ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এক বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলেছে। অথচ ইতোমধ্যেই মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে শুরু করেছে। এসব সমস্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে সমাধান বের করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের এক্সপার্ট ও টেকনিক্যাল টিম দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানান তিনি। তার দাবি, দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরোধী দল থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা তার জানা নেই।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী দলের পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তাদের করারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফাইল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। তারা এমন বিরোধী দল হতে চান না যারা ফাইল ছোড়ে কিংবা চেয়ার তুলে স্পিকারকে আক্রমণ করে। কোনো অসভ্য বা জঙ্গলি কর্মকাণ্ডে তারা যাবেন না। নীতি, আইন ও মানবিকতাকে ধারণ করে জনগণের জন্য কাজ করার কথা জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি প্লট এবং ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই অবস্থান তারা বজায় রাখতে পেরেছেন। সরকারি দল নির্বাচিত হওয়ার পর একই বিষয়ে অবস্থান জানালে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা। সরকারি বাড়ি নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়িটি তাকে লিখে দেওয়া হয়নি; সংসদ ভেঙে গেলে তারা সবকিছু রেখে চলে আসবেন। তারা যে কথা বলেছেন, সেটিই বাস্তবায়ন করছেন। মাসিক বেতন নিতে বাধ্য হলেও তা একটি প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং বাড়তি কোনো সরকারি সুবিধা তারা নেন না বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, তিনি শাসক নন, সেবক হতে চান। তাই এখন শাসকের মানসিকতা পরিহার করে সেবকের মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।
দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নেই দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার কথা বলে। কিন্তু তাদের বিষয়ে কোনো অসঙ্গত সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা অদৃশ্য চাপের কথা বলেন। এই ধরনের চাপ থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। মিডিয়া মালিকদের সামনেও তিনি বিষয়টি বলেছেন, কিন্তু তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে জানান।
সংবাদপত্র পরিচালনাকে চ্যালেঞ্জিং কাজ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, খুব কম প্রতিষ্ঠান নিজেদের আয়ে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে। মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হলে ক্ষতির জায়গা পূরণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে পলিসি পর্যায়ে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য তিনটি স্তম্ভের তুলনায় মিডিয়াও শক্তিশালী একটি স্তম্ভ। গণমাধ্যম ঠিক থাকলে বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু গণমাধ্যম আড়ালে চলে গেলে সেই ভারসাম্যও থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশ সবার—সরকারি দল বা বিরোধী দলের একক সম্পত্তি নয়। দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে এবং দেশ বিপদে পড়লে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সত্যকে সত্য এবং ভুলকে ভুল হিসেবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রংপুরের আঞ্চলিক একটি দাবির বাইরে তাদের জাতীয় দাবি সাতটি। এসবের কোনোটি দলীয় দাবি নয়; জনগণের স্বার্থেই এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চে তারা পাঁচ হাজার গাড়ি নিতে পারতেন, কিন্তু প্রতীকীভাবে কয়েকশ গাড়ি নিয়ে গেছেন। এসব গাড়ি এমনিতেই সড়কে চলাচল করে। এর আগেও লংমার্চ হয়েছে, এটি প্রথম নয়। লংমার্চের আগের রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিরোধী দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসূচি বানচালের উদ্দেশ্যে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তার দায় তাদের।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এটিএম মা‘ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে খবর এসেছে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত হবে অসঙ্গত ও অন্যায়। বিরোধীদল হিসেবে জামায়াত এটি সমর্থন করে না বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জনগণের প্রয়োজনেই সংসদে গেছে, আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়। ১৮ কোটি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হলে তখন সবার সঙ্গে তারাও অংশীদার হতে পারবেন, তবে তার আগে নয়।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি এ ধরনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তারা প্রতিবাদ করবেন এবং তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন। এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, পুরো সমাজ যখন সংকটের মধ্যে রয়েছে, তখন সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দুটি শপথ নেওয়ার কথা থাকলেও বিএনপি একটি শপথ নেয়নি। তার মতে, সেখান থেকেই সংকটের সূত্রপাত। নির্বাচনের আগে সবাই একই অবস্থানে ছিলেন এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর সেই অবস্থান থেকে সরে যাওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাদের ওই অবস্থান পরিবর্তন না করার অনুরোধ জানানো হলেও তা শোনা হয়নি বলে জানান তিনি।
সংসদে সব বিষয়ে ইচ্ছামতো আলোচনা করা যায় না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ৭১ বিধিতে নোটিশ দেওয়া হলে এক বা দুই মিনিটের আলোচনা হয়। বিশেষ কোনো বিষয়ে আলোচনা করতে ৬২ বা ৬৮ ধারায় নোটিশ দিতে হয়। তারা ৬২ ধারায় দুটি নোটিশের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এর মধ্যে একটি তাদের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি সরকারি দলের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, এরপর জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে জ্বালানি তেল নিয়ে তৃতীয় একটি নোটিশ দেওয়া হলেও সেটি গ্রহণ করা হয়নি। পরে ৬৮ ধারায় সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য দিতে বলা হলে তারা সেটিই করেন। এ বিষয়ে আলোচনার পর ১০ জনের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গঠনের তিন দিনের মধ্যেই সংকটের অবসান ঘটে এবং মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, এরপর সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, শিশু ধর্ষণ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হলেও সেগুলো আলোচনায় আনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে গার্মেন্টশিল্প বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি এবং পোশাকের অর্ডার ৫০ শতাংশ বাতিল হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ অবস্থায় দেশকে দরদ ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে দেখতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এক বছরের মধ্যে এক থেকে দেড় কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলেছে। অথচ ইতোমধ্যেই মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে শুরু করেছে। এসব সমস্যা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে বসে সমাধান বের করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাদের এক্সপার্ট ও টেকনিক্যাল টিম দেওয়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছিল। কিন্তু সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি বলে জানান তিনি। তার দাবি, দেশের সংসদীয় ইতিহাসে বিরোধী দল থেকে এমন প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা তার জানা নেই।
শফিকুর রহমান বলেন, সরকারকে পাশ কাটিয়ে বিরোধী দলের পক্ষে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। সরকার প্রস্তাব গ্রহণ না করলে তাদের করারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফাইল ছুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সংসদ থেকে বেরিয়ে গেলে সমস্যার সমাধান হবে না। তারা এমন বিরোধী দল হতে চান না যারা ফাইল ছোড়ে কিংবা চেয়ার তুলে স্পিকারকে আক্রমণ করে। কোনো অসভ্য বা জঙ্গলি কর্মকাণ্ডে তারা যাবেন না। নীতি, আইন ও মানবিকতাকে ধারণ করে জনগণের জন্য কাজ করার কথা জানান তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে তারা সরকারি প্লট এবং ট্যাক্সমুক্ত গাড়ি কেনার সুবিধা নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং সেই অবস্থান তারা বজায় রাখতে পেরেছেন। সরকারি দল নির্বাচিত হওয়ার পর একই বিষয়ে অবস্থান জানালে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সংসদকে জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে চান তারা। সরকারি বাড়ি নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাড়িটি তাকে লিখে দেওয়া হয়নি; সংসদ ভেঙে গেলে তারা সবকিছু রেখে চলে আসবেন। তারা যে কথা বলেছেন, সেটিই বাস্তবায়ন করছেন। মাসিক বেতন নিতে বাধ্য হলেও তা একটি প্রতিষ্ঠানে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন এবং বাড়তি কোনো সরকারি সুবিধা তারা নেন না বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, তিনি শাসক নন, সেবক হতে চান। তাই এখন শাসকের মানসিকতা পরিহার করে সেবকের মানসিকতা ধরে রাখতে হবে।
দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা নেই দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন গণমাধ্যম ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার কথা বলে। কিন্তু তাদের বিষয়ে কোনো অসঙ্গত সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা অদৃশ্য চাপের কথা বলেন। এই ধরনের চাপ থাকলে স্বাধীন সাংবাদিকতা কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। মিডিয়া মালিকদের সামনেও তিনি বিষয়টি বলেছেন, কিন্তু তারা কোনো প্রতিবাদ করেননি বলে জানান।
সংবাদপত্র পরিচালনাকে চ্যালেঞ্জিং কাজ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, খুব কম প্রতিষ্ঠান নিজেদের আয়ে পরিচালিত হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে। মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তৈরি হলে ক্ষতির জায়গা পূরণ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে পলিসি পর্যায়ে সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য তিনটি স্তম্ভের তুলনায় মিডিয়াও শক্তিশালী একটি স্তম্ভ। গণমাধ্যম ঠিক থাকলে বাকি তিনটি স্তম্ভও সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু গণমাধ্যম আড়ালে চলে গেলে সেই ভারসাম্যও থাকে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশ সবার—সরকারি দল বা বিরোধী দলের একক সম্পত্তি নয়। দেশ ভালো থাকলে সবাই ভালো থাকবে এবং দেশ বিপদে পড়লে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সত্যকে সত্য এবং ভুলকে ভুল হিসেবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ নিয়ে সরকারের সমালোচনার প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রংপুরের আঞ্চলিক একটি দাবির বাইরে তাদের জাতীয় দাবি সাতটি। এসবের কোনোটি দলীয় দাবি নয়; জনগণের স্বার্থেই এসব দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লংমার্চে তারা পাঁচ হাজার গাড়ি নিতে পারতেন, কিন্তু প্রতীকীভাবে কয়েকশ গাড়ি নিয়ে গেছেন। এসব গাড়ি এমনিতেই সড়কে চলাচল করে। এর আগেও লংমার্চ হয়েছে, এটি প্রথম নয়। লংমার্চের আগের রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিরোধী দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগকে অযৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসূচি বানচালের উদ্দেশ্যে কেউ এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তার দায় তাদের।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, এটিএম মা‘ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আব্দুল হালিম ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, মোবারক হোসাইন, মতিউর রহমান আকন্দ, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপিসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন