বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট গলে যাচ্ছে, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে।
গত মাসের শেষ দিকে নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহজনিত ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢলে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের প্রভাব একত্র হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট গলার মতো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করেছে।
শাহ বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেপালের যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এই উদ্যোগে নেপাল, ভারত ও চীনকে যুক্ত করে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। একটি দেশের জন্য ওই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া যায়, ২ কোটি ডলারই সেই সীমা। তবে সরকারের হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতির তুলনায় এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড়ও করতে পারেনি। ফলে নেপালের আবেদন তহবিলটির বাস্তব কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে আরও ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক/এসএ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট গলে যাচ্ছে, হিমবাহ দ্রুত সরে যাচ্ছে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা বাড়ছে।
গত মাসের শেষ দিকে নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহজনিত ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ ঢলে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় ঘটে। এতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এই দুর্যোগে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।
ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়নের প্রভাব একত্র হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট গলার মতো প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত করেছে।
শাহ বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নেপালের যে বিপুল অর্থের প্রয়োজন, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এই উদ্যোগে নেপাল, ভারত ও চীনকে যুক্ত করে স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদ পর্যবেক্ষণ এবং যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। একটি দেশের জন্য ওই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া যায়, ২ কোটি ডলারই সেই সীমা। তবে সরকারের হিসাবে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের ক্ষতির তুলনায় এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড গঠন করা হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড়ও করতে পারেনি। ফলে নেপালের আবেদন তহবিলটির বাস্তব কার্যকারিতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে নেপালকে আরও ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
সূত্র: ইত্তেফাক/এসএ

আপনার মতামত লিখুন