জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি এবং সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর দেওয়া ভাষণ সম্পর্কে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই আন্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই মঞ্চে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও স্মরণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনাও বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণটি উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচি দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের—এই তিন ভাগে বিভক্ত ছিল।
দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ‘পিপল টু পিপল টাইস’ বা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান মাহ্দী আমিন।
এ ছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার থাকবেন নারী। পাশাপাশি মিডওয়াইফারি বা ধাত্রীসেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও বিশ্বনেতা ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের নানা বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিডিয়া চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের তৃতীয় দিনের কর্মসূচি এবং সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর দেওয়া ভাষণ সম্পর্কে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতেই আন্তোনিও গুতেরেস প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময় পর একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারার অনুভূতি প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক এই মঞ্চে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টিও স্মরণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা কিছুটা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অবদানের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, এতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনের মানুষের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ঐক্য আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে নারী, শিশু ও তরুণদের ক্ষমতায়নের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড এবং ভবিষ্যতে ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনাও বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
মাহ্দী আমিনের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষণটি উপস্থিত শ্রোতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। সফরের তৃতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী মোট সাতটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচি দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক ও উচ্চপর্যায়ের—এই তিন ভাগে বিভক্ত ছিল।
দ্বিপাক্ষিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার, সমতা ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং ‘পিপল টু পিপল টাইস’ বা জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানান মাহ্দী আমিন।
এ ছাড়া পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিষয়ক দুটি উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
পরিবেশবিষয়ক সম্মেলনে বাংলাদেশের পরিবেশনীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ, ২০ হাজার কিলোমিটারের বেশি খাল খনন এবং পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে চারটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও উপস্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
মিডওয়াইফারি ও স্বাস্থ্যবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মা ও শিশুর মৃত্যুহার কমানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। মাহ্দী আমিন জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ৮০ হাজার থাকবেন নারী। পাশাপাশি মিডওয়াইফারি বা ধাত্রীসেবায় ২৫ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনাও বিশ্বনেতা ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বহুপাক্ষিক কূটনীতি, বিশ্বশান্তি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণের নানা বিষয় উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি একেএম ওয়াহিদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্য এবং জাতিসংঘ মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন