ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো যে বিপুল ঋণ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন ঋণ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর পাশাপাশি পুরোনো খেলাপি ঋণের সঙ্গে নতুন করে আরও ঋণখেলাপি তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু ঋণ নীতি-সুবিধার মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিয়মিত দেখানো হলেও নতুন খেলাপি ও পুরোনো বকেয়া বাড়তে থাকায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এই সময়ে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও অন্য তিন ব্যাংকে তা বেড়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। তবে মোট ঋণের তুলনায় এর হার এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিতরণ করা ঋণের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। এতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে। এ কারণেও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার এখনো তুলনামূলক বেশি।
হল-মার্ক কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত সোনালী ব্যাংক কয়েক বছর ধরে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রাহকের আমানতের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি মুনাফা করছে। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি বেশ সংযত। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বাড়ার পরিবর্তে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা পাঁচ বছর ধরে সোনালী ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক হয়েছে। সেখানে গভর্নর ঋণ বিতরণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সোনালী ব্যাংকের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত ছয় মাসে পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এ ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক শীর্ষ ২০ বড় ঋণগ্রহীতার কাছে আটকে আছে। এসব বড় গ্রাহক ঋণ পরিশোধে এগিয়ে না আসায় খেলাপি ঋণ কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনি প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকার পরিবর্তনের পরও বড় ঋণখেলাপিরা আগের প্রভাব ও শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে। গত ছয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা। গত জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে ছিল ৭২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ আদায় অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়েছে। আদায় কমে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।
জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছে আটকে রয়েছে। বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৯ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ১৫৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, জুন শেষে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ১০২ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটির মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার এখনো প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। এরই মধ্যে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।
এই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণ আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মেয়াদ পূরণের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম অনেকটাই দায়সারা হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ঋণ আদায়, নতুন ঋণ বিতরণ এবং খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগে।
সূত্র: আমার দেশ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বড় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলো যে বিপুল ঋণ নিয়েছিল, তাদের অনেকেই এখন ঋণ পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এর পাশাপাশি পুরোনো খেলাপি ঋণের সঙ্গে নতুন করে আরও ঋণখেলাপি তৈরি হচ্ছে। ফলে কিছু ঋণ নীতি-সুবিধার মাধ্যমে সাময়িকভাবে নিয়মিত দেখানো হলেও নতুন খেলাপি ও পুরোনো বকেয়া বাড়তে থাকায় সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমছে না।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংক হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। গত জুন শেষে এসব ব্যাংকের সম্মিলিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা। এই সময়ে সোনালী ও বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমলেও অন্য তিন ব্যাংকে তা বেড়েছে।
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কিছুটা কমেছে। তবে মোট ঋণের তুলনায় এর হার এখনো প্রায় ১৫ শতাংশ। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে যা ছিল প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে বিতরণ করা ঋণের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। এতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা খেলাপি হয়ে পড়ে। এ কারণেও ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার এখনো তুলনামূলক বেশি।
হল-মার্ক কেলেঙ্কারির কারণে আলোচিত সোনালী ব্যাংক কয়েক বছর ধরে নতুন ঋণ বিতরণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গ্রাহকের আমানতের বড় অংশ সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাংকটি মুনাফা করছে। ফলে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকটি বেশ সংযত। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির ঋণ বাড়ার পরিবর্তে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা পাঁচ বছর ধরে সোনালী ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। সম্প্রতি ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈঠক হয়েছে। সেখানে গভর্নর ঋণ বিতরণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সোনালী ব্যাংকের বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গত ছয় মাসে পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে এ ব্যাংকেই সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ডিসেম্বরে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ২৮ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ৩ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের প্রায় অর্ধেক শীর্ষ ২০ বড় ঋণগ্রহীতার কাছে আটকে আছে। এসব বড় গ্রাহক ঋণ পরিশোধে এগিয়ে না আসায় খেলাপি ঋণ কমানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের আইনি প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। সরকার পরিবর্তনের পরও বড় ঋণখেলাপিরা আগের প্রভাব ও শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে। গত ছয় মাসে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা। গত জুন শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে ছিল ৭২ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। জুন শেষে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ২২৬ কোটি টাকা।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেক ব্যবসায়ী দেশ ছেড়েছেন, আবার কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ঋণ আদায় অনেক ক্ষেত্রে ধীর হয়েছে। আদায় কমে যাওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে।
জনতা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৭২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫২ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা, শীর্ষ ২০টি গ্রুপের কাছে আটকে রয়েছে। বড় খেলাপি গ্রাহকদের মধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ রয়েছে।
গত ডিসেম্বরে রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১৯ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৯ হাজার ৭৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে বেড়েছে ১৫৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ছিল ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, জুন শেষে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। গত ডিসেম্বরে এর পরিমাণ ছিল ৮ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে ১০২ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকটির মোট ঋণের তুলনায় খেলাপি ঋণের হার এখনো প্রায় ৭০ শতাংশের কাছাকাছি।
নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে। এরই মধ্যে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।
এই সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ঋণ আদায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে বড় কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি। সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আশঙ্কার কারণে কর্মকর্তাদের মধ্যেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর চেইন অব কমান্ড দুর্বল হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের মেয়াদ পূরণের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকেই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম অনেকটাই দায়সারা হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ঋণ আদায়, নতুন ঋণ বিতরণ এবং খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন