কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। বরং চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার মজুত রয়েছে। তবে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে যারা সার সরবরাহ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব। কৃষকের উন্নতি হলে দেশেরও অগ্রগতি হবে। ফরিদপুরের মাটি দেশের অন্যতম উর্বর ও উৎকৃষ্ট মাটি। ফলে এ অঞ্চলের কৃষিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।কৃষিপণ্য উৎপাদনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু খুচরা বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত অর্থ দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। তাহলে সংকটটা কোথায়?জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কোনো ডিলার বরাদ্দ পাওয়া সার নির্ধারিত সময়ে উত্তোলন না করলে কিংবা কৃষকদের কাছে সঠিক দামে সরবরাহ না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেনসহ অন্যরা। সূত্র: বিডিপ্রতিদিন
দেশে সারের কোনো সংকট নেই এবং বাজারে সবজির দামও বেশি নয় বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সার মজুত রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার সারের পরিমাণও বেশি। সারের সংকটের বিষয়টি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতি মাসে সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ কৃষক কার্ড দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।পেঁয়াজের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। আগে পেঁয়াজ সংরক্ষণের সমস্যা ছিল এবং নষ্ট হয়ে যেত। বর্তমানে ছয় মাস পর্যন্ত পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। আগামীতে ৩ লাখ টন পেঁয়াজ সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরি হবে বলে জানান তিনি।আমিন উর রশিদ জানান, গত ছয় মাসে ২৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যের বিপরীতে ২৪ লাখ ১৮ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে আগামী দিনে সরকারের প্রধান লক্ষ্য থাকবে যেন কোনো কৃষিপণ্য আমদানি করতে না হয়। এ উদ্দেশ্যে সব ধরনের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর কাজ চলছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।কৃষিমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে ‘ব্রি ১১৮’ নামে নতুন জাতের ধানের চাষ শুরু হবে। হাওর অঞ্চলে প্রচলিত সময়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে এই ধানের চারা রোপণ করা সম্ভব হবে।তিনি আরও বলেন, ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ বেশি হয়। সেচের কাজে দেশের সব পাম্প সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ থেকে ৬২ হাজার পাম্প সৌরবিদ্যুতে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, তিনি প্রতিদিন বাজারে যান। বৃষ্টির সময় সবজি উৎপাদন সহজ নয় এবং এ সময়ে উৎপাদন ব্যয়ও বেশি হয়। তবে বর্তমানে বাজারে সবজির দাম বেশি নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
নওগাঁর বদলগাছীতে “রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, পোনামাছ অবমুক্তকরণ, আলোচনা সভা ও মৎস্য পুরস্কার প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে জাতীয় মৎস্য পক্ষের কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।পরে উপজেলা পরিষদ পুকুরে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও মৎস্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি।আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ফজলে হুদা বলেন, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে মৎস্য খাত। মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, জলাশয়ের সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মাছ চাষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।তিনি আরও বলেন, সরকারি খাস পুকুরগুলো প্রভাবশালীরা লিজ নিয়ে চাষ করায় প্রকৃত মৎস্যজীবীরা তাদের পেশা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের পেশা টিকিয়ে রাখতে আগামী বছর থেকে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের হাতে সরকারি খাস পুকুরগুলো লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দেশীয় মাছ রক্ষায় কারেন্ট জালসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার বন্ধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ে মৎস্য চাষি ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে ১৬ আগস্ট থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় মৎস্য পক্ষ পালন করা হবে।অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. ফারুক আহম্মেদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাদি চৌধুরী টিপু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল হাসান, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজ উল হকসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ফ্যাসিস্ট সরকারকে হটাতে ছাত্র-জনতা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, ইলিশ ও দেশীয় মাছ রক্ষায়ও একই ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ চাঁদপুরের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।নিষিদ্ধ ফাঁদ ও জালের ব্যবহারকে ইলিশসহ দেশীয় মাছ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৎস্য আহরণে নিয়োজিতরা চায়না দুয়ারী জালের মতো ক্ষতিকর ফাঁদ ব্যবহার বন্ধ রাখলে আগামী দুই বছরের মধ্যেই দেশে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে জেলা মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, বড় কোনো সংকট মোকাবিলায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতা যেভাবে এক হয়ে রাজপথে নেমেছিল, তাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়। নদীবেষ্টিত জেলা চাঁদপুরে ইলিশসহ সামগ্রিকভাবে মাছ রক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করলে সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো সফল হবে।তিনি আরও বলেন, শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। সরকারি উদ্যোগে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না। সাধারণ জেলে থেকে শুরু করে সমাজের সব স্তরের মানুষ এগিয়ে এলে এর সুফল সবাই ভোগ করতে পারবেন।জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ জিয়াউর রহমান এবং পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান।এ ছাড়া বক্তব্য দেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএমএন জামিউল হিকমা, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট সিফাত খালিদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. তায়েফা আহমেদ এবং চাঁদপুর মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ বি এম মোস্তফা কামাল।আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারী জালের মতো অনিয়ন্ত্রিত ফাঁদের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে মাছের পাশাপাশি জলজ প্রাণীর বিভিন্ন প্রজাতিও বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একসময় উচ্চবিত্তদের জন্যও ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।অনুষ্ঠান শেষে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনজনকে সম্মাননা স্মারক ও সনদ দেওয়া হয়। কার্পজাতীয় মাছের পোনা উৎপাদনে মো. ইমাম হোসেন, মনোসেক্স তেলাপিয়া উৎপাদনে মো. শরীফ হোসেন এবং কার্প মাছ উৎপাদনে বিশেষ অবদানের জন্য তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়।এর আগে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদে গিয়ে শেষ হয়। পরে অতিথিরা উপজেলা পরিষদের পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। কর্মসূচিতে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মৎস্যজীবীরা অংশ নেন। সূত্র: দেশ রূপান্তর
"রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নওগাঁর পোরশায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য খাতের উন্নয়ন এবং এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম।উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সংশ্লিষ্ট মৎস্য দপ্তরের সহযোগিতায় র্যালিটি পোরশার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় মৎস্যচাষি এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।এ সময় "রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ"—এই শ্লোগান সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়। র্যালি শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংশ্লিষ্টরা বলেন, দেশের আমিষের চাহিদা পূরণে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের ভূমিকা অপরিসীম। পোরশা উপজেলায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে চাষিদের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম স্থানীয় পর্যায়ে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নওগাঁর পোরশা উপজেলার ১ নং নিতপুর ইউনিয়নে তীব্র ডিএপি (DAP) সার সংকট দেখা দিয়েছে। সময়মতো পর্যাপ্ত ডিএপি সার না পেয়ে চরম হতাশ ও উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এতে আসন্ন ফসল উৎপাদন ও কৃষকদের জীবন-জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলতি কৃষি মৌসুমে জমির তুলনায় ডিএপি সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় মাঠে ফসল নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। সময়মতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এ বিষয়ে স্থানীয় সার ডিলারদের কাছে ডিএপি সারের সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা জানান, চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ অনেক কম। নিতপুর এলাকায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ অনুযায়ী যে পরিমাণ ডিএপি সারের প্রয়োজন, তার তুলনায় বরাদ্দ বেশ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ডিলাররা আরও জানান, বর্তমান সংকট নিরসনে এবং কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে ইতিমধ্যে বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত যেন ডিএপি সারের বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয় এবং কৃষকরা সহজে সার পেতে পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ডিএপি সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিশ্চিত করে ডিলারদের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহ করা না হলে মাঠের ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হবে। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানিয়েছেন এলাকার কৃষক সমাজ।
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় কৃষকদের জন্য সরকারি বরাদ্দের বিএডিসির সার খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।কৃষকদের দাবি, সরকারি ডিলারের কাছে সার নিতে গেলে ‘সার নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও একই সার খুচরা বাজারে বেশি দামে সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকরা সরকারি ভর্তুকির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বেড়ে যাচ্ছে ফসল উৎপাদনের ব্যয়।কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি বরাদ্দের সার যথাযথভাবে বিতরণ না হয়ে বিভিন্নভাবে খোলা বাজারে চলে যাচ্ছে। ফলে প্রয়োজনের সময় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।এতে একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকদের স্বার্থে বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি বরাদ্দের সার সঠিকভাবে বিতরণ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।উল্লেখ্য, নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দের সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে না পৌঁছে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বা বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ অতীতেও উঠেছে।
নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী নওজোয়ান মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী আঞ্চলিক বৃক্ষ মেলা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তরুণ প্রজন্মসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার শুভ উদ্বোধন করেন স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা বলেন, "গাছ কেবল আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে না, বরং অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবেও সমাজকে সমৃদ্ধ করে। সবুজ নওগাঁ গড়ে তুলতে সবাইকে বাড়ির আঙিনা ও পতিত জায়গায় ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করতে হবে।"
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ২৬ কেজি ওজনের একটি সামুদ্রিক ভোল মাছ ধরা পড়েছে।শনিবার (১ আগস্ট) সকালে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনা হলে সেটি দেখতে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ভিড় জমে।জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের সোনারচর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় রহিম মাঝির জালে বড় আকৃতির ভোল মাছটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আলিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের একটি আড়তে নেওয়া হলে নিলামের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।জেলে রহিম মাঝি জানান, জাল তোলার সময় হঠাৎ একটি বড় মাছ উঠে আসে। পরে তারা বুঝতে পারেন এটি একটি বিশাল আকৃতির ভোল মাছ। তিনি বলেন, এ ধরনের মাছ খুব বেশি ধরা পড়ে না। ভালো দাম পাওয়ায় তারা আনন্দিত।মাছটির ক্রেতা ও আড়তদার মো. মিজানুর রহমান জানান, মাছটির ওজন ২৬ কেজি। আকার বড় এবং মান ভালো হওয়ায় তিনি এটি ৩৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। মাছটি ঢাকার একটি পাইকারি বাজারে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, বড় আকারের সামুদ্রিক ভোল মাছের বাজারে সবসময় ভালো চাহিদা রয়েছে।মৎস্য বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, ভোল মাছ (Croaker বা Drum Fish) Sciaenidae (সিয়েনিডি) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ। বঙ্গোপসাগরের মোহনা, উপকূলীয় অগভীর জলরাশি এবং কাদামাটিযুক্ত তলদেশে এ মাছের বিচরণ বেশি দেখা যায়। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি লক্ষ্য করা যায়।কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, সাধারণত এত বড় আকারের ভোল মাছ খুব বেশি ধরা পড়ে না। এ ধরনের মাছের বাজারমূল্যও তুলনামূলক বেশি। তিনি আরও বলেন, ভোল মাছ উচ্চমানের প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ হওয়ায় এর পুষ্টিগুণ অনেক এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সূত্র: কালবেলা
নওগাঁর পোরশা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বড়রনাইল মরাকাটা গ্রামের কৃষক জুয়েল বাবু নতুন পদ্ধতিতে করলা চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। কম খরচে ভালো ফলনের আশায় এবার তিনি ১০ কাঠা জমিতে এই সবজির আবাদ করেছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে পরীক্ষামূলকভাবে অল্প কিছু জমিতে করলা চাষ করে সফলতা পান জুয়েল বাবু। সেই অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে চলতি মৌসুমে তিনি ১০ কাঠা জমিতে নতুন আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষ করেন। এতে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা।বর্তমানে জমিগুলোতে সবেমাত্র করলা ধরতে শুরু করেছে। গাছের সতেজতা ও চমৎকার ফুল-ফল দেখে চলতি মৌসুমে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।কৃষক জুয়েল বাবু জানান, "আগে অল্প জমিতে চাষ করে ভালো ফলন দেখে উৎসাহিত হই। এবার নতুন পদ্ধতি অনুসরণ করে ১০ কাঠা জমিতে চাষ করেছি। খরচ ১৮ হাজার টাকার মতো পড়েছে। আশা করছি বাজারদর ভালো থাকলে সব খরচ উঠিয়ে ভালো লাভ করতে পারব।"স্থানীয় অন্য কৃষকরা জানান, জুয়েল বাবুর এই নতুন পদ্ধতির সাফল্য দেখে অনেকেই এখন করলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।