জামালপুরের বকশীগঞ্জে পুষ্টি উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ইউনিয়ন মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রোববার (১১ অক্টোবর) বকশীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন (গেইন)-এর সহযোগিতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। সভা সঞ্চালনা করেন গেইন প্রকল্পের সমন্বয়কারী মো. মাহবুবুল আলম। এ সময় গেইনের কনসালট্যান্ট কানিজা ও স্বেচ্ছাসেবক মুহাইমিন উপস্থিত ছিলেন।সভায় বকশীগঞ্জ পৌরসভাসহ উপজেলার নিলক্ষিয়া, সাধুরপাড়া, বগারচর, ধানুয়া কামালপুর ও বাট্টাজোড় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, নারী ইউপি সদস্য, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের ভিজিটর, প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, ইমাম, সাংবাদিক এবং ইউনিয়ন ও বাজার কমিটির সদস্যরা ছিলেন।সভায় অংশগ্রহণকারীদের কয়েকটি দলে ভাগ করে স্থানীয় পর্যায়ে পুষ্টি উন্নয়নের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পরে দলগুলো তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে। এসব পরিকল্পনায় পুষ্টি উন্নয়নের সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা এবং সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পুষ্টি উন্নয়নে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধানের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং পোকার আক্রমণ দেখা দিলে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।এ সময় কৃষকদের ধানক্ষেত নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার পাশাপাশি ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপকারী পোকা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।কৃষকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ প্রদান করেন কৃষি অফিসার মামুন উর রশিদ, কৃষিবিদ শাহীন আকতার,এবং আঃ রহমান, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, ধানক্ষেতে পোকামাকড়ের উপস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে কীটনাশক ব্যবহার না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
মেয়ের ভালোবাসায় বদলে গেল বাবার জীবন, পাশে থাকার আশ্বাস উজিরপুরের ইউএনও আলী সুজার কয়েক দিন আগেও যাকে ঘিরে ছিল চোর কিংবা মাদকাসক্তের অপবাদ, আজ তার বাড়িতেই ভিড় করছেন শত শত মানুষ—সহানুভূতি ও আর্থিক সহায়তা নিয়ে।বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল এলাকার অনিক সরদারের পরিবারের জীবনে এই আকস্মিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি হৃদয়স্পর্শী ভিডিও।গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে বামরাইল এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে গ্রামবাসী অনিক সরদারকে বেঁধে মারধর করেন। ওই দিন সকালে তার নয় বছর বয়সী মেয়ে তুবা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় বাবার মুখে খাবার তুলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই ভিডিওটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর উপস্থিতি পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।অনিকের স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদাউস জানান, তিনি এইচএসসি পাস। তাঁদের দুই সন্তান—তুবা (৯) ও তুরিন ইসলাম তুনা (৩)। সংসারে আয়ের নির্দিষ্ট কোনো পথ নেই। অভাব-অনটনের মধ্যেই তাঁদের দিন কাটছে। সন্তানদের মানুষ করতে হলে স্বামীর কর্মসংস্থান কিংবা নিজের জন্য একটি চাকরির প্রয়োজন বলে জানান তিনি।জান্নাতুল ফিরদাউস বলেন, তাঁর স্বামী অনিক এখন অন্ধকারের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক ও সুন্দর জীবনে ফিরতে চান।অশ্রুসজল চোখে অনিক সরদার বলেন, ‘আমি ভালোভাবে জীবনযাপন করতে চাই। কেউ যদি আমাকে আয়-রোজগারের একটি পথ তৈরি করে দেন, আমি নিজেকে বদলে ফেলব।’ দুই মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে হলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য একটি চাকরির সুযোগ করে দিতে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, ‘বাবার প্রতি মেয়ের এই ভালোবাসা দেখেছে সারা বিশ্বের মানুষ।’ তিনি জানান, অনিক সরদার যদি সত্যিকার অর্থে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তাহলে সরকারি সহায়তার মাধ্যমে পরিবারটির পাশে দাঁড়াবে প্রশাসন।
উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুরে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দুই হতদরিদ্র ব্যক্তিকে অটোভ্যান দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাঁদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সামনে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে গড়িয়া গ্রামের রফিক গোমস্তা ও পূর্ব ধামুরা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের হাতে দুটি অটোভ্যান তুলে দেওয়া হয়।অটোভ্যান দুটি তাঁদের হাতে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা।এ সময় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রুবেল হাওলাদারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভিক্ষাবৃত্তি থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে হতদরিদ্র ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করাই ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল জেলার জন্য মোট ১ হাজার টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের মুখেও একই কথা—‘জেলায় সারের কোনো সংকট নেই।’ তবে সরকারি এই দাবি আর নেতাদের আশ্বাসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকরা।আজও কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নে সারের জন্য সকাল থেকেই দেখা গেছে তীব্র হাহাকার। ভোর রাত থেকে ডিলারের দোকানের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে খালি হাতেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে শত শত কৃষককে।সারের সংকট কতটা চরমে পৌঁছেছে, তার এক করুণ দৃশ্য দেখা যায় মোহনগঞ্জের এক ডিলারের দোকানে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে ক্ষোভে ও বাধ্য হয়ে এক নারী কৃষককে দোকানের বেড়া টপকে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতে দেখা যায়।ডিলারদের দাবি, তারা কয়েকশত বস্তা সার বরাদ্দ পেয়ে তা বিতরণ করছেন। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নের মোট কৃষকের চাহিদার তুলনায় বরাদ্দকৃত সারের পরিমাণ একেবারেই নগণ্য। ফলে প্রতিদিন ভোর থেকে লাইন ধরেও অধিকাংশ কৃষক প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না।ক্ষুব্ধ কৃষকরা প্রশ্ন তুলেছেন—‘ডিসি সাহেবের ঘোষিত ১ হাজার টন সার যদি বরাদ্দ হয়েই থাকে, তবে তা গেল কোথায়?’ একই সঙ্গে যারা বলছেন জেলায় কোনো সার সংকট নেই, তাদেরকে শীত-কুয়াশা উপেক্ষা করে মাঠে এসে সরেজমিন রাজিবপুরের চিত্র দেখে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষোভে ফুসে ওঠা সাধারণ কৃষকরা।সারের এই কৃত্রিম বা প্রকৃত সংকট দ্রুত সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে ফসল উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিসমত গনকড় ইউনিয়নের আড়ইল গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ বস্তা সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আড়ইল গ্রামের সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সার ডিলারের কাছ থেকে সার সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে মজুত করে আসছিলেন। পরে এসব সার কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।এলাকাবাসীর অভিযোগ, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার ডিলারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে। এর ফলে প্রয়োজনের সময় প্রকৃত কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, মজুত করা সার পরে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করা হতো।স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সাইদুর রহমানের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার মজুতের বিষয়টি এলাকায় আলোচনায় ছিল। কৃষকরা সরকারি মূল্যে সার না পেলেও তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সার থাকার খবর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে। পরে উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলে অভিযান পরিচালনা করা হয়।অভিযান সম্পর্কে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, বিশেষ অভিযান চালিয়ে সাইদুর রহমানের বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। এসব সার কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং অবৈধভাবে মজুত কিংবা বেশি দামে বিক্রির সঙ্গে তিনি জড়িত কি না, তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র: আমার দেশ
পটুয়াখালীর ছোটবিঘাই ইউনিয়নে রাতের আঁধারে পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে এক কৃষকের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দেওয়ার নৃশংস ঘটনা ঘটেছে। এতে পুকুরে থাকা আনুমানিক এক লাখ টাকারও বেশি মূল্যের মাছ মরে ভেসে উঠেছে। পরিবারের উপার্জনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন একেবারেই নিঃস্ব ভুক্তভোগী কৃষক মোতালেব মাতব্বর।পুরনো শত্রুতা ও মামলার জেরে সন্দেহস্থানীয় সূত্র ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী মোতালেব মাতব্বরের সঙ্গে একই বাড়ির খবির মাতব্বরদের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এই জঘন্য ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। রাতের আঁধারে কে বা কারা পুকুরে বিষ ঢেলে দেয়, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সকালে ঘুম থেকে উঠে কৃষক মোতালেব মাতব্বর দেখতে পান পুরো পুকুরজুড়ে ভেসে আছে তার কষ্টের ফসল শত শত মরা মাছ।জনপ্রতিনিধির পরিদর্শন ও ক্ষোভঘটনার খবর পেয়ে ছোটবিঘাই ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দ্রুত সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। স্বজনদের কান্না ও পুকুরের করুণ দৃশ্য দেখে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়ে বলেন, "এ ধরনের জঘন্য কাজের সঙ্গে যারা জড়িত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।"আহাজারি ও সুবিচারের দাবিকান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী মোতালেব মাতব্বর বলেন, "কষ্টের উপার্জনে ধার-দেনা করে পুকুরে মাছ চাষ করেছিলাম। আর কোনো সম্বল নেই আমার। আমি এই জঘন্য ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।"বর্তমানে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড় শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। রাতে কৃষিজমিতে স্থাপন করা এ আলোর ফাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পোকামাকড় আকৃষ্ট করে শনাক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।ছবিতে দেখা যায়, কৃষিজমির পাশে বাঁশের তৈরি কাঠামোর ওপর আলো স্থাপন করে নিচে পানির পাত্র রাখা হয়েছে। আলোর আকর্ষণে পোকামাকড় এসে পানিতে পড়ে আটকে যায়। এভাবে জমিতে কোন কোন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ রয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসওভিপি আব্দুর রহমান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফজাল হোসেনসহ স্থানীয় সাধারণ কৃষকরা। কৃষি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কৃষকরাও সরাসরি আলোর ফাঁদ স্থাপন ও এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন।সংশ্লিষ্টরা জানান, আলোর ফাঁদ কৃষিতে একটি পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যায় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও টেকসই কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা রাখা সম্ভব।স্থানীয় কৃষকরা বলেন, মাঠ পর্যায়ে এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে তারা বাস্তব অভিজ্ঞতা পাচ্ছেন। কৃষি অফিসের এমন উদ্যোগ নিয়মিত অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।
চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মায়ের হাত ধরে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ইঞ্জিনচালিত অবৈধ ট্রলির ধাক্কায় ফারিয়া নামে তিন বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। রোববার ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মতলব উত্তর থানার পূর্ব পাশে সুরুজ প্লাজার সামনে পাকা সড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ফারিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের বেপারী বাড়ির কাউসার বেপারীর মেয়ে। তার মায়ের নাম ফারজানা আক্তার। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ফারিয়া মায়ের হাত ধরে ছেংগারচর বাজারে সুরুজ প্লাজার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় শিশুটি। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।দুর্ঘটনার পর ট্রলির চালক পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রলি গাড়িটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।নিহত শিশুর মা ফারজানা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মেয়ে আমার হাত ধরে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ ট্রলিটি এসে তাকে ধাক্কা দেয়। চোখের সামনে আমার মেয়েটা পড়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার বললেন, আমার মেয়ে আর নেই। যারা এভাবে বেপরোয়া গাড়ি চালায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর কোনো মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।স্থানীয়রা বলছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, জনবহুল সড়কে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান প্রয়োজন। তাদের দাবি, ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী চালককে দ্রুত গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অবৈধ ট্রলির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে রাতের আঁধারে এক কৃষকের লাউখেতের সব গাছ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাউ চাষ করা কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার পরিবার এ ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষতিগ্রস্ত খেতের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষকের স্ত্রী মাধবী রানী।উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের হার্টশহর গ্রামের সোনারপাড়া ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ শতাংশ জমিতে চাষ করা লাউগাছগুলো কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খেতের পাশেই হতাশ হয়ে বসে ছিলেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র বর্মন ও তার স্ত্রী।কৃষক শরণ্যচন্দ্র জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ১৬ শতাংশ জমি বর্গা করে সেখানে লাউ চাষ শুরু করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে খেতে গিয়ে প্রথমে দেখতে পান, গাছগুলো নুয়ে আছে। পরে কাছে গিয়ে দেখেন, রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা লাউগাছগুলোর গোড়া কেটে দিয়েছে।লাউ ধরার আগেই সব গাছ কেটে দেওয়ায় তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। এ অবস্থায় নেওয়া ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক শরণ্যচন্দ্র।কান্নাজড়িত কণ্ঠে মাধবী রানী বলেন, ঋণ নিয়ে জমি বর্গা করে লাউ চাষ করেছিলেন তারা। শত্রুতার জেরে তাদের সব গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে। মেয়েসন্তানের লেখাপড়ার খরচসহ সংসার কীভাবে চালাবেন, এখন সেটিই বুঝতে পারছেন না তিনি।স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মল্লিকা রানী সেহানবীশ জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরাসরি সরকারি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলেও ভবিষ্যতে তাকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।