ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জন দুর্ভোগ

নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা বন্ধের ভোগান্তি, সমাধান কবে

নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা বন্ধের ভোগান্তি, সমাধান কবে
নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা বন্ধের ভোগান্তি, সমাধান কবে

নোয়াখালী সদর উপজেলার ৭ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের। কবে এই সংকটের সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিদ্দিকুর রহমান সাবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনে জোরপূর্বক ভোট গ্রহণ ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়।

পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হাফেজ মহিউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের কার্যক্রম চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরপর সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সাবুর পুনরায় পরিষদে ফেরার চেষ্টা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হাফেজ মহিউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মণ্ডলকে জম্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁর হাতে পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে মূলত জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবাই সীমিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

একজন সেবাপ্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলের জন্মনিবন্ধন করাতে প্রথমে কম্পিউটারের দোকানে, এরপর ইউপি সদস্যের কাছে, তারপর ইউনিয়ন পরিষদে এবং সবশেষে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিন দিন এই কাজের পেছনে ব্যয় হয়েছে। সময়, অর্থ ও হয়রানি তো আছেই।”

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন নাগরিক সেবা পেতে কেন তাঁদের একাধিক দপ্তরে ঘুরতে হবে? একটি জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক সেবা পেতেই যদি কয়েক দিন ব্যয় করতে হয়, তাহলে অন্যান্য সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?

স্থানীয়দের দাবি, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হোক। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যেন সাধারণ মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকুক কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বিঘ্নে নাগরিক সেবা পাওয়া।

ধর্মপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে কবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা বন্ধের ভোগান্তি, সমাধান কবে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালী সদর উপজেলার ৭ নং ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের। কবে এই সংকটের সমাধান হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সিদ্দিকুর রহমান সাবু চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তবে ওই নির্বাচনে জোরপূর্বক ভোট গ্রহণ ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়।


পরবর্তী সময়ে ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-১ হাফেজ মহিউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে পরিষদের কার্যক্রম চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।


এরপর সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান সাবুর পুনরায় পরিষদে ফেরার চেষ্টা নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে হাফেজ মহিউদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মানস মণ্ডলকে জম্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁর হাতে পরিষদের আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে বর্তমানে মূলত জন্মনিবন্ধন ও মৃত্যুনিবন্ধনসংক্রান্ত সেবাই সীমিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।


একজন সেবাপ্রত্যাশী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছেলের জন্মনিবন্ধন করাতে প্রথমে কম্পিউটারের দোকানে, এরপর ইউপি সদস্যের কাছে, তারপর ইউনিয়ন পরিষদে এবং সবশেষে মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিন দিন এই কাজের পেছনে ব্যয় হয়েছে। সময়, অর্থ ও হয়রানি তো আছেই।”


সাধারণ মানুষের প্রশ্ন নাগরিক সেবা পেতে কেন তাঁদের একাধিক দপ্তরে ঘুরতে হবে? একটি জন্মনিবন্ধনের মতো মৌলিক সেবা পেতেই যদি কয়েক দিন ব্যয় করতে হয়, তাহলে অন্যান্য সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে?


স্থানীয়দের দাবি, ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা নিয়ে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হোক। রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যেন সাধারণ মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।


জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকুক কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্বিঘ্নে নাগরিক সেবা পাওয়া।


ধর্মপুর ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে কবে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এখন এটাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়ন পরিষদে সেবা বন্ধের ভোগান্তি, সমাধান কবে
0:00 0:00
1.0x