ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের আশপাশে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে নতুন করে ভিটি বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে বিপুলসংখ্যক ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে ৪০ বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী হাজীরহাট বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মনপুরা উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে একপর্যায়ে দিনের মতো আন্দোলন স্থগিত করেন তাঁরা।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা পরিষদের আশপাশে এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে ৭০টির বেশি ভিটি বরাদ্দের কথা জানানো হয়। এতে উপজেলা চত্বরের ভিটির জন্য এক লাখ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে ভিটির জন্য ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে অবৈধ দাবি করে তা বন্ধের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হাজীরহাট বাজারে বর্তমানে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা বহন করছেন। এ অবস্থায় বাজারের আশপাশে একসঙ্গে এতগুলো নতুন ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে পুরোনো ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এতে ঐতিহ্যবাহী বাজারটির ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। তবে তাঁদের অভিযোগ, সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ২৫ অক্টোবর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং ২৬ অক্টোবর লটারির মাধ্যমে ভিটি বরাদ্দের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার সকালে লটারির জন্য আবেদনকারীদের উপজেলা পরিষদে ডাকা হলে হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা পরিষদ ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আবেদনকারীরা লটারির অনুষ্ঠান বর্জন করে বাইরে চলে আসেন। পরে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতেই পাঁচ ইউনিয়নের প্রশাসকদের নিয়ে লটারির কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইউএনও খান সালমান হাবিব বলে জানা গেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাজীরহাট বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রেখে উপজেলা পরিষদের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁরা এ বরাদ্দের পেছনে অনিয়ম ও আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলা পরিষদ ভবনে অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মো. কামাল উদ্দিন, সহসভাপতি আ. খালেক সেলিম মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক আ. রহিম ফরাজি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সদস্যসচিব আ. রহিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পলাশ এবং সদস্যসচিব হোসেন হাওলাদারসহ দলীয় নেতারা।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এভাবে ভিটি বরাদ্দ না দেওয়ার জন্য আমরা ইউএনও সাহেবকে বলেছি। আমরা তাঁকে জানিয়েছি, এভাবে ভিটি বরাদ্দ দিলে পুরোনো বাজারটি নষ্ট হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথাও তাঁকে জানিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদের দাবি যৌক্তিক। তাঁদের এই দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে আমরা বারবার ইউএনওকে সতর্ক করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথার তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে কাজ করছেন। এর ফলে আজকের এই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
অফেরতযোগ্য জামানত নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অফেরতযোগ্য জামানতের কোটি টাকা কার পকেটে যাবে?” এ সময় তিনি অবিলম্বে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানান।
পরে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ব্যবসায়ীরা সেদিনের মতো তাঁদের আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের আশপাশে ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে নতুন করে ভিটি বরাদ্দের উদ্যোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে বিপুলসংখ্যক ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে ৪০ বছরের বেশি সময়ের ঐতিহ্যবাহী হাজীরহাট বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মনপুরা উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির নেতারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকায় এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে একপর্যায়ে দিনের মতো আন্দোলন স্থগিত করেন তাঁরা।
ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবিব স্বাক্ষরিত একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা পরিষদের আশপাশে এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে ৭০টির বেশি ভিটি বরাদ্দের কথা জানানো হয়। এতে উপজেলা চত্বরের ভিটির জন্য এক লাখ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাছে ভিটির জন্য ৫০ হাজার টাকা অফেরতযোগ্য জামানত নির্ধারণ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। ব্যবসায়ীরা এ উদ্যোগকে অবৈধ দাবি করে তা বন্ধের জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ব্যবসায়ীদের দাবি, হাজীরহাট বাজারে বর্তমানে এক হাজারের বেশি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক ব্যবসায়ী ঋণের বোঝা বহন করছেন। এ অবস্থায় বাজারের আশপাশে একসঙ্গে এতগুলো নতুন ভিটি বরাদ্দ দেওয়া হলে পুরোনো ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এতে ঐতিহ্যবাহী বাজারটির ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন রাজনৈতিক নেতারা। তবে তাঁদের অভিযোগ, সেই আপত্তি উপেক্ষা করে ২৫ অক্টোবর আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই এবং ২৬ অক্টোবর লটারির মাধ্যমে ভিটি বরাদ্দের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
সোমবার সকালে লটারির জন্য আবেদনকারীদের উপজেলা পরিষদে ডাকা হলে হাজীরহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা পরিষদ ভবনের আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে আবেদনকারীরা লটারির অনুষ্ঠান বর্জন করে বাইরে চলে আসেন। পরে আবেদনকারীদের অনুপস্থিতিতেই পাঁচ ইউনিয়নের প্রশাসকদের নিয়ে লটারির কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইউএনও খান সালমান হাবিব বলে জানা গেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এ সময় ব্যবসায়ী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ করা না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য হাজীরহাট বাজারের সব দোকানপাট বন্ধ রেখে উপজেলা পরিষদের নিচে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁরা এ বরাদ্দের পেছনে অনিয়ম ও আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলা পরিষদ ভবনে অবস্থান নেয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মো. কামাল উদ্দিন, সহসভাপতি আ. খালেক সেলিম মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক আ. রহিম ফরাজি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সদস্যসচিব আ. রহিম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান পলাশ এবং সদস্যসচিব হোসেন হাওলাদারসহ দলীয় নেতারা।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এভাবে ভিটি বরাদ্দ না দেওয়ার জন্য আমরা ইউএনও সাহেবকে বলেছি। আমরা তাঁকে জানিয়েছি, এভাবে ভিটি বরাদ্দ দিলে পুরোনো বাজারটি নষ্ট হয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের আপত্তির কথাও তাঁকে জানিয়েছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথা শোনেননি।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদের দাবি যৌক্তিক। তাঁদের এই দাবির প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে। তবে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান থাকবে, যেন কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।”
উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ মোল্লা বলেন, “ভিটি বরাদ্দের বিষয়ে আমরা বারবার ইউএনওকে সতর্ক করেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথার তোয়াক্কা না করে নিজের মতো করে কাজ করছেন। এর ফলে আজকের এই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
অফেরতযোগ্য জামানত নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “অফেরতযোগ্য জামানতের কোটি টাকা কার পকেটে যাবে?” এ সময় তিনি অবিলম্বে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত করার আহ্বান জানান।
পরে রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে ব্যবসায়ীরা সেদিনের মতো তাঁদের আন্দোলন স্থগিত করেন। তবে ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ না হলে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন