ঢাকা    সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীদের জন্য থাকবে ক্ষতিপূরণের বিধান

গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীদের জন্য থাকবে ক্ষতিপূরণের বিধান
গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীদের জন্য থাকবে ক্ষতিপূরণের বিধান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনের খসড়ায় গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে।

মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।

খসড়ায় আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

এ আইনের আওতায় ভুক্তভোগীরা তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবেন। এছাড়া সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং আরও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৮৮২ সালের আইনে দাতা যাতে নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করতে পারেন, সে বিষয়ে নতুন বিধান সংযোজনের জন্য এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পেতেন না। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিষয়টি আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাতিলের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া এ তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। ফলে এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

এরই মধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুসারে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা ওই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে।

২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীদের জন্য থাকবে ক্ষতিপূরণের বিধান

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনের খসড়ায় গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

খসড়া অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে।

মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি সমন্বিত আইনগত কাঠামো তৈরি করবে।

খসড়ায় আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।

এ আইনের আওতায় ভুক্তভোগীরা তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকার পাবেন। এছাড়া সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠনের পাশাপাশি দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

এ ছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের লক্ষ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার সংরক্ষণ এবং গুমসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং আরও সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে।

বৈঠকে আইন ও বিচার বিভাগের প্রস্তাবিত দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-এর খসড়াও নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

খসড়ায় বলা হয়েছে, ১৮৮২ সালের আইনে দাতা যাতে নিজের জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করতে পারেন, সে বিষয়ে নতুন বিধান সংযোজনের জন্য এই সংশোধনী আনা হয়েছে।

বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান না থাকায় পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি সন্তান কিংবা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা পেতেন না। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে এ বিষয়টি আইনি সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।

এ ছাড়া ‘অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ওষুধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাতিলের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ছাড়া এ তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হয়েছিল। ফলে এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।

এরই মধ্যে গত ২৯ জুন ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুসারে জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা ওই পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে।

২০২৬ সালের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা এবং সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওষুধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে, যাতে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গুমের শাস্তি যাবজ্জীবন, ভুক্তভোগীদের জন্য থাকবে ক্ষতিপূরণের বিধান
0:00 0:00
1.0x