দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান। অনুসন্ধানের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে তাকে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত দুদক দেয়নি।
দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে ভিলা, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।
এদিকে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা ওই চিঠিতে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না, বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পাশাপাশি বিভিন্ন টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তও যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায় দুদক। পরে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলোও চলমান অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা জানানো হয়।
তবে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগ প্রকাশের কারণে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: প্রজন্ম ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের অনুসন্ধান বর্তমানে চলমান। অনুসন্ধানের কাজ নির্বিঘ্ন রাখতে তাকে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানের পর্যায়ে রয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত দুদক দেয়নি।
দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছে বিদেশে অর্থপাচার, সরকারি বিভিন্ন পদে নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। এর মধ্যে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগটি বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে ভিলা, জমি ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এ ছাড়া পর্তুগালে জমি কেনা, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।
এদিকে আসিফ মাহমুদ ও তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার পান্নার দেশ ও বিদেশে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা ওই চিঠিতে তাদের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা চালু, সুপ্ত ও বন্ধ হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, এফডিআর, ডিপিএস এবং ঋণসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে জমি কেনা, অর্থপাচার এবং শেল কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলিল ও রেকর্ডপত্র চেয়েছে দুদক। ওই পাঁচ দেশে তাদের কোনো ব্যাংক হিসাব বা বিনিয়োগ রয়েছে কি না, বিদেশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে সেই তথ্য সংগ্রহের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি পদে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পাশাপাশি বিভিন্ন টেন্ডার এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তও যাচাই করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানায় দুদক। পরে পাওয়া নতুন অভিযোগগুলোও চলমান অনুসন্ধানের আওতায় আনার কথা জানানো হয়।
তবে আসিফ মাহমুদ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং দুদকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগ প্রকাশের কারণে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: প্রজন্ম ২৪

আপনার মতামত লিখুন