বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। মানুষের প্রত্যাশা হলো শান্তিপূর্ণ জীবন, সন্তানের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুযোগ। একই সঙ্গে তারা সময়মতো নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগও চায়।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বহু অরাজনৈতিক মানুষ নানাভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার রয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশে প্রায় ৮০ হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চায় এবং এমন কাজ করতে চায় যার সুফল জনগণ সরাসরি পাবে। তার ভাষায়, জনগণ শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা বাস্তব কাজ দেখতে চায়। মানুষ যেন অনুভব করতে পারে যে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ফলে তারা ও তাদের পরিবার নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলবে, কিন্তু সবার সব কথায় কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, এখানে উপস্থিত অনেকেই নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছেন। তিনি নিজেও নিজের বাড়িঘর হারিয়েছেন এবং দেশ ছাড়ার পর সেই বাড়ি আর দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া বা জেলে পাঠানো সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিচিত ফাতেমার একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফাতেমা একসময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন এবং তার সঙ্গে কারাবাসও করেছেন। বর্তমানে তার ছেলে ঢাকায় তার সঙ্গে থাকে। একদিন ছেলেটি মাকে ফুটবল ক্লাবে ভর্তি করে দেওয়ার অনুরোধ করে। কারণ হিসেবে সে জানায়, কিছু বন্ধুর সঙ্গে না মিশে ফুটবল খেললে সে ভালো থাকতে পারবে এবং খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে পারবে।
এই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা কিংবা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তিনি সেই আদর্শেই বিশ্বাস করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন শহিদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশ ও মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতেন, তাই তিনিও একইভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল জনগণের আন্দোলন এবং জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেও বিএনপির অবস্থান ছিল স্পষ্ট—জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের, এটি কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী অন্যান্য রাজনৈতিক দল রাজপথে জনগণের সঙ্গে ছিল। বিএনপি কিংবা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কখনও জনগণকে একা রেখে যায়নি। তার মতে, জনগণের সম্পৃক্ততার কারণেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেদিনও জনগণের ঐক্যবদ্ধ আকাঙ্ক্ষার কারণেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার সংস্কার প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপির পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই নির্বাচনে দলটি জনগণের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিল। তার মতে, জনগণের এই সমর্থনের মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামতের ওই প্রস্তাবগুলোর প্রতিই জনগণ সম্মতি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ৩১ দফা আর শুধু বিএনপির কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সফলতার ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং ৩১ দফার মূল লক্ষ্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিভক্ত প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জুলাইয়ের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
এ সময় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন এবং ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ এখন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়। মানুষের প্রত্যাশা হলো শান্তিপূর্ণ জীবন, সন্তানের শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরির সুযোগ। একই সঙ্গে তারা সময়মতো নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগও চায়।
জুলাই আন্দোলনে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বহু অরাজনৈতিক মানুষ নানাভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছেন। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী যতটুকু সম্ভব সহায়তা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও করা হবে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে সরকার রয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে দেশে প্রায় ৮০ হাজার শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি বলেন, বিএনপি সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে চায় এবং এমন কাজ করতে চায় যার সুফল জনগণ সরাসরি পাবে। তার ভাষায়, জনগণ শুধু প্রতিশ্রুতি শুনতে চায় না, তারা বাস্তব কাজ দেখতে চায়। মানুষ যেন অনুভব করতে পারে যে বিএনপির কর্মকাণ্ডের ফলে তারা ও তাদের পরিবার নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই অনেক কথা বলবে, কিন্তু সবার সব কথায় কান দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, এখানে উপস্থিত অনেকেই নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং জীবনে অনেক কিছু হারিয়েছেন। তিনি নিজেও নিজের বাড়িঘর হারিয়েছেন এবং দেশ ছাড়ার পর সেই বাড়ি আর দেখেননি বলেও উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফুটবল প্রতিযোগিতায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। তিনি বলেন, তরুণ সমাজের মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া বা জেলে পাঠানো সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের পরিচিত ফাতেমার একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফাতেমা একসময় বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন এবং তার সঙ্গে কারাবাসও করেছেন। বর্তমানে তার ছেলে ঢাকায় তার সঙ্গে থাকে। একদিন ছেলেটি মাকে ফুটবল ক্লাবে ভর্তি করে দেওয়ার অনুরোধ করে। কারণ হিসেবে সে জানায়, কিছু বন্ধুর সঙ্গে না মিশে ফুটবল খেললে সে ভালো থাকতে পারবে এবং খারাপ সঙ্গ থেকে দূরে থাকতে পারবে।
এই প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও পুনর্গঠনের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনা, স্বাধীনতার চেতনা কিংবা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তিনি সেই আদর্শেই বিশ্বাস করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি দেখেছেন শহিদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া দেশ ও মানুষের কল্যাণের কথা ভাবতেন, তাই তিনিও একইভাবে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চান।
জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ছিল জনগণের আন্দোলন এবং জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আন্দোলন সফল হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এ আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হলেও বিএনপির অবস্থান ছিল স্পষ্ট—জুলাই আন্দোলনের সাফল্যের কৃতিত্ব দেশের সর্বস্তরের জনগণের, এটি কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের অর্জন নয়।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর বিএনপি ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী অন্যান্য রাজনৈতিক দল রাজপথে জনগণের সঙ্গে ছিল। বিএনপি কিংবা এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কখনও জনগণকে একা রেখে যায়নি। তার মতে, জনগণের সম্পৃক্ততার কারণেই জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেদিনও জনগণের ঐক্যবদ্ধ আকাঙ্ক্ষার কারণেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার সংস্কার প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সর্বশেষ নির্বাচনে জনগণ বিএনপির পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই নির্বাচনে দলটি জনগণের সামনে ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিল। তার মতে, জনগণের এই সমর্থনের মাধ্যমে রাষ্ট্র মেরামতের ওই প্রস্তাবগুলোর প্রতিই জনগণ সম্মতি জানিয়েছে।
তিনি বলেন, এখন ৩১ দফা আর শুধু বিএনপির কর্মসূচি নয়, এটি জনগণের ৩১ দফায় পরিণত হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সফলতার ধারাবাহিকতায় জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং ৩১ দফার মূল লক্ষ্য জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
১৭ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, বিভক্ত প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা একটি বিধ্বস্ত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা পেয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জুলাইয়ের যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
এ সময় বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আমিনুল হক, দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন এবং ছাত্রদলের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।

আপনার মতামত লিখুন