ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

১২ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকার মামলা: ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১২ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকার মামলা: ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
দাদন ব্যবসায়ী খাদেমুল গ্রেফতার

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১২ হাজার টাকা সুদের ধারের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে খাদেমুল ইসলাম নামের এক আলোচিত দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের শিধোর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী দিনমজুর উত্তম কুমার রায়ের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর উত্তম কুমার রায় চরম অভাবের তাড়নায় প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী খাদেমুল ইসলামের কাছ থেকে সুদে ১২ হাজার টাকা ধার নেন। বছর ঘুরতেই সুদের বেড়াজালে সেই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়। ​ভুক্তভোগী উত্তম কুমার ধার নেওয়া টাকার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলেও জামানত হিসেবে রাখা ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন দাদন ব্যবসায়ী খাদেমুল। গত তিন বছর ধরে এই মিথ্যা মামলার আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ওই দিনমজুর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেবল উত্তম কুমার একা নন; খাদেমুলের অবৈধ সুদের কারবার ও ফাঁকা চেকের প্রতারণামূলক মামলার শিকার হয়ে ওই অঞ্চলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে। খাদেমুলের সুদের ভয়াল থাবায় সবকিছু হারিয়ে বহু মানুষ এখন দিনমজুরি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এলাকায় সুদের রমরমা জালের আড়ালে নিরীহ পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে আসছিলেন ভুক্তভোগী খমির উদ্দীন জানান, ২০২০ সালে তিনি ৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কয়েক মাস আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি তিনি সেই মামলা থেকে নিস্তার পান। মামলার বাদী দিনমজুর উত্তম কুমার রায় আক্ষেপ করে বলেন, "কয়েকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বসেছিল। স্থানীয়রা ১১ মাসের সুদসহ ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দিতে বললে আমি তাতে রাজি ছিলাম। আমি তার পায়ে পর্যন্ত ধরেছি, কিন্তু সে এক কথাতেই অনড় ছিল। উল্টো আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। তার এই মিথ্যা মামলার খাড়ায় আজ আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।" এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, সুদের কারবার ও ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খাদেমুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


১২ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকার মামলা: ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মাত্র ১২ হাজার টাকা সুদের ধারের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে খাদেমুল ইসলাম নামের এক আলোচিত দাদন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের শিধোর বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী দিনমজুর উত্তম কুমার রায়ের দায়ের করা মামলায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে সোপর্দ করে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা কাজীপাড়া গ্রামের দিনমজুর উত্তম কুমার রায় চরম অভাবের তাড়নায় প্রায় তিন বছর আগে প্রতিবেশী খাদেমুল ইসলামের কাছ থেকে সুদে ১২ হাজার টাকা ধার নেন। বছর ঘুরতেই সুদের বেড়াজালে সেই অঙ্ক গিয়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়। ​ভুক্তভোগী উত্তম কুমার ধার নেওয়া টাকার দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলেও জামানত হিসেবে রাখা ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকা বসিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা ঠুকে দেন দাদন ব্যবসায়ী খাদেমুল। গত তিন বছর ধরে এই মিথ্যা মামলার আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন ওই দিনমজুর। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কেবল উত্তম কুমার একা নন; খাদেমুলের অবৈধ সুদের কারবার ও ফাঁকা চেকের প্রতারণামূলক মামলার শিকার হয়ে ওই অঞ্চলের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি পরিবার আজ ধ্বংসের মুখে। খাদেমুলের সুদের ভয়াল থাবায় সবকিছু হারিয়ে বহু মানুষ এখন দিনমজুরি করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি এলাকায় সুদের রমরমা জালের আড়ালে নিরীহ পরিবারগুলোকে নিঃস্ব করে আসছিলেন ভুক্তভোগী খমির উদ্দীন জানান, ২০২০ সালে তিনি ৭ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। অথচ তার বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকার মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়। কয়েক মাস আইনি লড়াইয়ের পর সম্প্রতি তিনি সেই মামলা থেকে নিস্তার পান। মামলার বাদী দিনমজুর উত্তম কুমার রায় আক্ষেপ করে বলেন, "কয়েকবার স্থানীয়ভাবে শালিস বসেছিল। স্থানীয়রা ১১ মাসের সুদসহ ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দিতে বললে আমি তাতে রাজি ছিলাম। আমি তার পায়ে পর্যন্ত ধরেছি, কিন্তু সে এক কথাতেই অনড় ছিল। উল্টো আমার বিরুদ্ধে মামলা করে দেয়। তার এই মিথ্যা মামলার খাড়ায় আজ আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।" এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানায়, সুদের কারবার ও ভুক্তভোগীদের ফাঁদে ফেলে হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খাদেমুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ দাদন ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১২ হাজার টাকা ঋণের বিপরীতে ফাঁকা চেকে ১৩ লাখ টাকার মামলা: ঠাকুরগাঁওয়ে আলোচিত দাদন ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x