মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ; চর গোলাবাড়িতে মানুষের ঢল, আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি মায়ের স্বপ্ন ছিল—একদিন তাঁর দুই ছেলে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়িতে আসবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি তিনি। মৃত্যুর পরও মায়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকে বুকে ধারণ করে অবশেষে তা বাস্তবে রূপ দিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সহোদর দুই ভাই আলামিন ও সোলাইমান।
বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর গোলাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান তারা। হেলিকপ্টারটি গ্রামের মাঠে অবতরণ করার খবর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জানা যায়, আলামিন ও সোলাইমান উপজেলার চর গোলাবাড়ি দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তারা মালয়েশিয়ায় কর্মরত। জীবদ্দশায় তাদের মা প্রায়ই বলতেন, তাঁর বড় ইচ্ছা—একদিন ছেলেরা বিদেশ থেকে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
মায়ের মৃত্যুর পর দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর সেই শেষ ইচ্ছাকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবেন। অবশেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকেই হেলিকপ্টারে গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। গ্রামের আকাশে হেলিকপ্টার দেখা মাত্রই মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঠে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন দৃশ্য এর আগে চর গোলাবাড়ি গ্রামে কখনো দেখা যায়নি। অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি ধন-সম্পদের প্রদর্শন নয়; বরং প্রয়াত মায়ের প্রতি দুই সন্তানের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা বলেন, "মা বেঁচে থাকতে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ছেলেরা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল ও হৃদয়স্পর্শী।"
ঘটনাটি দেখতে আসা অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সন্তানের কাছে মায়ের মর্যাদা কতটা গভীর হতে পারে, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা। এলাকার প্রবীণরাও দুই ভাইয়ের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই এই আয়োজন। তাঁর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে দুই ভাইও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনায় দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তারা জানান।

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ আগস্ট ২০২৬
মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ; চর গোলাবাড়িতে মানুষের ঢল, আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি মায়ের স্বপ্ন ছিল—একদিন তাঁর দুই ছেলে বিদেশ থেকে দেশে ফিরে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়িতে আসবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিজের চোখে দেখে যেতে পারেননি তিনি। মৃত্যুর পরও মায়ের সেই অপূর্ণ ইচ্ছাকে বুকে ধারণ করে অবশেষে তা বাস্তবে রূপ দিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী সহোদর দুই ভাই আলামিন ও সোলাইমান।
বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি একটি হেলিকপ্টার ভাড়া করে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চর গোলাবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ পাড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছান তারা। হেলিকপ্টারটি গ্রামের মাঠে অবতরণ করার খবর মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
জানা যায়, আলামিন ও সোলাইমান উপজেলার চর গোলাবাড়ি দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তারা মালয়েশিয়ায় কর্মরত। জীবদ্দশায় তাদের মা প্রায়ই বলতেন, তাঁর বড় ইচ্ছা—একদিন ছেলেরা বিদেশ থেকে হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।
মায়ের মৃত্যুর পর দুই ভাই সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর সেই শেষ ইচ্ছাকে যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করবেন। অবশেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকেই হেলিকপ্টারে গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। গ্রামের আকাশে হেলিকপ্টার দেখা মাত্রই মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই মাঠে মানুষের উপচে পড়া ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন দৃশ্য এর আগে চর গোলাবাড়ি গ্রামে কখনো দেখা যায়নি। অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ও ছবি ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি ধন-সম্পদের প্রদর্শন নয়; বরং প্রয়াত মায়ের প্রতি দুই সন্তানের গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তারা বলেন, "মা বেঁচে থাকতে তাঁর স্বপ্ন পূরণ করতে না পারলেও মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ছেলেরা যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই বিরল ও হৃদয়স্পর্শী।"
ঘটনাটি দেখতে আসা অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, সন্তানের কাছে মায়ের মর্যাদা কতটা গভীর হতে পারে, তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে এই ঘটনা। এলাকার প্রবীণরাও দুই ভাইয়ের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকেই এই আয়োজন। তাঁর অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে দুই ভাইও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন। গ্রামের মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনায় দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তারা জানান।

আপনার মতামত লিখুন