ঢাকা    বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

ঠাকুরগাঁওয়ে টাটা ওয়ার্কশপের নাইট গার্ড হত্যা: নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা

ঠাকুরগাঁওয়ে টাটা ওয়ার্কশপের নাইট গার্ড হত্যা: নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা
গ্রেফতারকৃত জুয়েল

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় একটি টাটা ওয়ার্কশপে নাইট গার্ডকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান (৪৬) । ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। চুরির কাজে বাধা দেওয়ায় পাহারাদারকে পিটিয়ে হত্যার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জুয়েল রানা (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সবচেয়ে  বিরল বিষয় হলো, নিজের ছেলের এমন নৃশংস কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে সচেতন বাবা আব্দুল খালেক নিজেই তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার দিনদুপুরে জগন্নাথপুর এলাকার টাটা ওয়ার্কশপে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে জুয়েল রানা। এ সময় ওয়ার্কশপের নিরাপত্তাকর্মী টের পেয়ে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও আদালতের জবানবন্দিতে অভিযুক্ত জুয়েল স্বীকার করেছেন যে, বাধা পেয়ে তিনি ওয়ার্কশপে থাকা ভারী লোহার সরঞ্জাম দিয়ে পাহারাদারের মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নাইট গার্ডের মৃত্যু হয়। ​এদিকে হত্যাকান্ডের পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এর মধ্যেই এক বিরল নৈতিকতার নজির স্থাপন করেন অভিযুক্তের বাবা আবদুল খালেক। গভীর রাতে ছেলের নৃশংসতার কথা জানতে পেরে তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে নিজেই পুলিশকে খবর দেন এবং ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। বাবার এমন পদক্ষেপে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।​পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়, যা উপস্থিত লোকজনের মাঝে বাড়তি বিস্ময় ও কৌতূহলের জন্ম দেয়। গ্রেফতারকৃত জুয়েলের পিতা জানান, তাঁর ছেলে কিছুদিন ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। তবে অপরাধবিজ্ঞানী ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল তাৎক্ষণিক বাহ্যিক আচরণ বা মুখের হাসি দেখে কোনো অপরাধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; এর পেছনে মানসিক কোনো কারণ বা ট্রমা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


ঠাকুরগাঁওয়ে টাটা ওয়ার্কশপের নাইট গার্ড হত্যা: নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকায় একটি টাটা ওয়ার্কশপে নাইট গার্ডকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহমান (৪৬) । ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের হাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। চুরির কাজে বাধা দেওয়ায় পাহারাদারকে পিটিয়ে হত্যার এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জুয়েল রানা (২৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। সবচেয়ে  বিরল বিষয় হলো, নিজের ছেলের এমন নৃশংস কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে সচেতন বাবা আব্দুল খালেক নিজেই তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। ​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখ মঙ্গলবার দিনদুপুরে জগন্নাথপুর এলাকার টাটা ওয়ার্কশপে চুরির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করে জুয়েল রানা। এ সময় ওয়ার্কশপের নিরাপত্তাকর্মী টের পেয়ে বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। প্রাথমিক তদন্ত ও আদালতের জবানবন্দিতে অভিযুক্ত জুয়েল স্বীকার করেছেন যে, বাধা পেয়ে তিনি ওয়ার্কশপে থাকা ভারী লোহার সরঞ্জাম দিয়ে পাহারাদারের মাথা ও শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ওই নাইট গার্ডের মৃত্যু হয়। ​এদিকে হত্যাকান্ডের পর এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এর মধ্যেই এক বিরল নৈতিকতার নজির স্থাপন করেন অভিযুক্তের বাবা আবদুল খালেক। গভীর রাতে ছেলের নৃশংসতার কথা জানতে পেরে তিনি বিন্দুমাত্র দেরি না করে নিজেই পুলিশকে খবর দেন এবং ছেলেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। বাবার এমন পদক্ষেপে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।​পুলিশ জানিয়েছে, আটকের পর থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত জুয়েল রানাকে কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়, যা উপস্থিত লোকজনের মাঝে বাড়তি বিস্ময় ও কৌতূহলের জন্ম দেয়। গ্রেফতারকৃত জুয়েলের পিতা জানান, তাঁর ছেলে কিছুদিন ধরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। তবে অপরাধবিজ্ঞানী ও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, কেবল তাৎক্ষণিক বাহ্যিক আচরণ বা মুখের হাসি দেখে কোনো অপরাধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না; এর পেছনে মানসিক কোনো কারণ বা ট্রমা কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না বা এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সম্পন্ন হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।  


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ঠাকুরগাঁওয়ে টাটা ওয়ার্কশপের নাইট গার্ড হত্যা: নিজের ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন বাবা
0:00 0:00
1.0x