রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী সালাহউদ্দিন আম্মারের আবেদনে পাঁচজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনে জিএসের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে জড়ো হয়ে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে ২০২ নম্বর অফিসকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে ঢোকার পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সময়ে তার অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার প্রতিবাদ করায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন লাঠি দিয়ে মেহেদীর বাম কানে আঘাত করেন। এতে মেহেদীও রক্তাক্ত জখম হন।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, তার জানা মতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে এটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন রয়েছে। পিবিআই তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সরকার একটি ‘গেম’ খেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সম্পাদকদের সম্পৃক্ত করে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নথিতে মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার) উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
রাকসুর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে রাজশাহীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মতিহার আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী সালাহউদ্দিন আম্মারের আবেদনে পাঁচজনকে এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস, সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মো. মাহমুদ হাসান মাহিন ও মামুন মিয়া, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মাহফুজুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আজহারুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিট থেকে ৩টা ১৫ মিনিটের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবনে জিএসের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ছাড়াও রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা মেহেদী আহত হন।
আদালতে দেওয়া আবেদনে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ঘটনার সময় তিনি রাকসুর জিএসের অফিসে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা লোহার রড, বাঁশ ও লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবৈধভাবে জড়ো হয়ে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। পরে তারা রাকসু ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে ২০২ নম্বর অফিসকক্ষে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অফিসে ঢোকার পর অভিযুক্তরা সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তাকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। একই সময়ে তার অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার প্রতিবাদ করায় রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং মেহেদীকেও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আনাসের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে নাজমুস সাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে গেলে তার ডান হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নাজমুস সাকিবকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত মাহিন লাঠি দিয়ে মেহেদীর বাম কানে আঘাত করেন। এতে মেহেদীও রক্তাক্ত জখম হন।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, তার জানা মতে আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং বর্তমানে এটি পিবিআইয়ের তদন্তাধীন রয়েছে। পিবিআই তদন্ত শেষ করার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মামলার বিষয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তার সম্পাদকদের ওপর হামলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে সরকার একটি ‘গেম’ খেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে সম্পাদকদের সম্পৃক্ত করে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
আদালতে দেওয়া দরখাস্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৬, ৩০৭, ৩৪১, ৩৪৮, ৩২৪ ও ৪২৭ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। নথিতে মামলাটির নম্বর ১৫১ সি/২৬ (মতিহার) উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন