তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের এবং তাদের সহযোগীরা ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দেবহাটা উপজেলার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় নিজেদের জমির দখল বুঝে পেয়েছেন বলে দাবি করেন শরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
শরিফুল ইসলাম জানান, ৮ দশমিক ১৫ একর জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের ও তাদের সহযোগীরা জমিটি দখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। ক্ষমতার প্রভাব এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় সে সময় তারা প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
শরিফুল বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই সকালে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ সুপার দেবহাটা থানাকে নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত পক্ষ কোনো বৈঠকে অংশ নেয়নি।
এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই বৈঠকেও রওশন আরা রুবি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে সেখান থেকে চলে যান।
পরিবারটির আরও দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলায় রওশন আরা রুবি নিম্ন আদালত ও জজ আদালতে পরাজিত হওয়ার পর উচ্চ আদালতে রিট করেন। তবে উচ্চ আদালতের রায় তাঁর পক্ষে এসেছে—এমন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের দাবি, এ তথ্য সঠিক নয়।
অবশেষে মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শরিফুল ইসলাম ও তাঁর শরিকরা জমিটির দখল বুঝে নেন বলে জানান। দীর্ঘদিন পর পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে শরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রওশন আরা রুবির ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ বিন কাদের প্রবাসী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রওশন আরা রুবি বা তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সূত্র: কালবেলা

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের এবং তাদের সহযোগীরা ওই জমি দখলে নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছিলেন।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় দেবহাটা উপজেলার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় নিজেদের জমির দখল বুঝে পেয়েছেন বলে দাবি করেন শরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
শরিফুল ইসলাম জানান, ৮ দশমিক ১৫ একর জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তারা ভোগদখল করে আসছিলেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের ও তাদের সহযোগীরা জমিটি দখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। ক্ষমতার প্রভাব এবং প্রাণনাশের আশঙ্কায় সে সময় তারা প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।
শরিফুল বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশে ফেরেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই সকালে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে জমিতে গেলে রওশন আরা রুবি, তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদের, মাহাফুজ সরদার, বনি আমিন ও আব্দুল আলিমসহ ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় পরে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি মীমাংসার জন্য পুলিশ সুপার দেবহাটা থানাকে নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত পক্ষ কোনো বৈঠকে অংশ নেয়নি।
এরপর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও সাতক্ষীরা আদালতের জিপির উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরিবারের অভিযোগ, ওই বৈঠকেও রওশন আরা রুবি ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করে সেখান থেকে চলে যান।
পরিবারটির আরও দাবি, জমি সংক্রান্ত মামলায় রওশন আরা রুবি নিম্ন আদালত ও জজ আদালতে পরাজিত হওয়ার পর উচ্চ আদালতে রিট করেন। তবে উচ্চ আদালতের রায় তাঁর পক্ষে এসেছে—এমন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। তাদের দাবি, এ তথ্য সঠিক নয়।
অবশেষে মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শরিফুল ইসলাম ও তাঁর শরিকরা জমিটির দখল বুঝে নেন বলে জানান। দীর্ঘদিন পর পৈতৃক সম্পত্তি ফিরে পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
এদিকে শরিফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, রওশন আরা রুবির ছেলে ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জায়েদ বিন কাদের প্রবাসী শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করার চেষ্টা করছেন। এ ধরনের হয়রানি থেকে রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রওশন আরা রুবি বা তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সূত্র: কালবেলা

আপনার মতামত লিখুন