মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় এনসিপি, জামায়াতসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জোট থেকে এনসিপির সম্ভাব্য বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত আমির বলেন, বিষয়টি এনসিপির এজেন্ডাতেও নেই, তাদেরও এজেন্ডায় নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া-পড়শির ঘুম নাই—এ রকম আরকি বিষয়টা।’
তিনি জানান, তাদের সমঝোতাটি কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের কাঠামো নয়; এটি ছিল একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা। বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে তারা যুগপৎভাবে রাজপথে আন্দোলন করছে।
জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, একসময় চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিধি ধাপে ধাপে ১৮, ২০ এবং পরে ২৭ দলে বিস্তৃত হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যেক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে জোর করে কোনো অবস্থানে রাখা যায় না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে বিদ্যমান ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, এ নিয়ে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে। শুধু শরিক দলগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের নয়, দেশ-বিদেশে থাকা মেধাবী ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
সংসদ ও মাঠপর্যায়ে বিরোধী দলের অধিকার সীমিত করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন—জামায়াতকে ভোট দিলে উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে চাওয়া যাবে না। অথচ সংবিধান অনুযায়ী উন্নয়ন কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহার অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট গণরায় দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সংকট সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিরোধীদের রাজপথে নামতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পুরোপুরি বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের ঐক্য বজায় থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকটসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনস্বার্থে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইত্তেফাক

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ সময় এনসিপি, জামায়াতসহ সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জোট থেকে এনসিপির সম্ভাব্য বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জামায়াত আমির বলেন, বিষয়টি এনসিপির এজেন্ডাতেও নেই, তাদেরও এজেন্ডায় নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যার বাড়িতে বিয়ে তার কোনো ঠেকা নাই, আর পাড়া-পড়শির ঘুম নাই—এ রকম আরকি বিষয়টা।’
তিনি জানান, তাদের সমঝোতাটি কোনো স্থায়ী বা আনুষ্ঠানিক জোটের কাঠামো নয়; এটি ছিল একটি কার্যকর নির্বাচনী সমঝোতা। বর্তমানে জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবিতে তারা যুগপৎভাবে রাজপথে আন্দোলন করছে।
জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, একসময় চারদলীয় ঐক্যজোটের পরিধি ধাপে ধাপে ১৮, ২০ এবং পরে ২৭ দলে বিস্তৃত হয়েছিল। বহুদলীয় গণতন্ত্রে প্রত্যেক দলের নিজস্ব রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে এবং কাউকে জোর করে কোনো অবস্থানে রাখা যায় না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে বিদ্যমান ঐক্যের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য বিরোধী দলের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, এ নিয়ে ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে প্রাথমিক প্রস্তুতি বা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু হয়েছে। শুধু শরিক দলগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের নয়, দেশ-বিদেশে থাকা মেধাবী ও অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ কাজে লাগিয়ে একটি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে।
সংসদ ও মাঠপর্যায়ে বিরোধী দলের অধিকার সীমিত করার অভিযোগ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকার তুলনায় বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে উন্নয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় দায়িত্বশীল নেতারা প্রকাশ্যে বলছেন—জামায়াতকে ভোট দিলে উন্নয়ন ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে চাওয়া যাবে না। অথচ সংবিধান অনুযায়ী উন্নয়ন কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সংসদীয় রীতি ও সংবিধানের বাইরে গিয়ে বিরোধীদলীয় আসনগুলোতে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহার অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেকসই সংস্কারের পক্ষে স্পষ্ট গণরায় দিয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর সরকার সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে গেছে। সংকট সমাধানে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিরোধীদের রাজপথে নামতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামোর পুরোপুরি বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ ও রাজপথের ঐক্য বজায় থাকবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের তীব্র সংকটসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জনস্বার্থে রাজপথে সক্রিয় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বিদ্যমান কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক, সংস্কারকামী ও জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনের সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমানসহ এনসিপি, জাতীয় ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির কেন্দ্রীয় এবং মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন