ঢাকা    শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সংকট, ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং

৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সংকট, ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং
৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সংকট, ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং


তীব্র গ্যাস সংকট, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ ঘাটতি, পাশাপাশি বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও চলমান রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিন-রাতজুড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৬২টি কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং ৪২টি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। এর আগে ১০ আগস্ট চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। তবে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে সেখান থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে গ্যাসের বড় অংশ শিল্পকারখানায় দেওয়া হচ্ছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বাইরে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিং চলছিল। পরে ১২ আগস্ট থেকে সরকারি নির্দেশনার আওতায় ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়। ডিপিডিসি ও ডেসকো প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবে অনেক স্থানে এর চেয়ে বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাতে ছাড়াও দিনের ব্যস্ত সময়েও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে লিফটে আটকে পড়ার আশঙ্কা এবং বাসাবাড়িতে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। দেশের আটটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে রয়েছে। কারিগরি সমস্যার কারণে পায়রা ও বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে ভারতের আদানি গ্রুপের দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমিয়েছে। কেন্দ্রটি দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও পিক-আওয়ারে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয়বহুল জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্রগুলো বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও ২৪টি কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের ঘাটতি ছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, পিডিবির সঙ্গে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া ও অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে আবাসিক ও শিল্প খাতে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৩৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি গত জুলাই মাসে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। টার্মিনালটি সচল হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজি কার্গো না পৌঁছানোয় সংকট কাটেনি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানি, অযোগ্য জাহাজের ব্যবহার এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতার কারণে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার, বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি বন্ধ না করা গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হবে না।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সংকট, ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image


তীব্র গ্যাস সংকট, কয়লা ও তরল জ্বালানির সরবরাহ ঘাটতি, পাশাপাশি বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও চলমান রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় দিন-রাতজুড়ে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৩৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বৃহস্পতিবার ৬২টি কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল এবং ৪২টি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় সর্বোচ্চ লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াটে। এর আগে ১০ আগস্ট চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করা হয়েছিল।

বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাবে, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। তবে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৩ হাজার ২৮২ মেগাওয়াট। একই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৯৪৬ মেগাওয়াট। ফলে জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি হলেও বর্তমানে সেখান থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতে সরবরাহ কমিয়ে গ্যাসের বড় অংশ শিল্পকারখানায় দেওয়া হচ্ছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বাইরে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিং চলছিল। পরে ১২ আগস্ট থেকে সরকারি নির্দেশনার আওতায় ঢাকাতেও লোডশেডিং শুরু হয়। ডিপিডিসি ও ডেসকো প্রতিটি এলাকায় প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখার পরিকল্পনা নিলেও বাস্তবে অনেক স্থানে এর চেয়ে বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাতে ছাড়াও দিনের ব্যস্ত সময়েও একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোতে লিফটে আটকে পড়ার আশঙ্কা এবং বাসাবাড়িতে পানির সংকট দেখা দিচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। দেশের আটটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে উৎপাদন ৫ হাজার মেগাওয়াটের নিচে রয়েছে। কারিগরি সমস্যার কারণে পায়রা ও বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মাতারবাড়ী কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে কয়লা সরবরাহে সমস্যার কারণে গত ৭ আগস্ট থেকে ভারতের আদানি গ্রুপের দেড় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন কমিয়েছে। কেন্দ্রটি দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও পিক-আওয়ারে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত সরবরাহ দিচ্ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যয়বহুল জ্বালানি তেলচালিত কেন্দ্রগুলো বেশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলেও ২৪টি কেন্দ্রে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের ঘাটতি ছিল। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের সংগঠন বিইপ্পার সাবেক সভাপতি ইমরান করিম বলেন, পিডিবির সঙ্গে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বকেয়া ও অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তি করা গেলে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন দ্রুত বাড়ানো সম্ভব হবে।

এদিকে গ্যাস ও বিদ্যুতের ঘাটতির প্রভাব পড়ছে আবাসিক ও শিল্প খাতে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ২৩৫ কোটি ঘনফুট। মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি গত জুলাই মাসে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। টার্মিনালটি সচল হলেও নির্ধারিত সময়ে এলএনজি কার্গো না পৌঁছানোয় সংকট কাটেনি।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এ পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে এলএনজি আমদানি, অযোগ্য জাহাজের ব্যবহার এবং অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতার কারণে সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে মৌলিক কাঠামোগত সংস্কার, বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি বন্ধ না করা গেলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির স্থায়ী সমাধান হবে না।

সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
৬২ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন সংকট, ঢাকাসহ সারা দেশে বেড়েছে লোডশেডিং
0:00 0:00
1.0x