ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মোবাইল-কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ মার্কিন বাহিনীর

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মোবাইল-কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ মার্কিন বাহিনীর
ইরানের হামলার আশঙ্কায় মোবাইল-কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ মার্কিন বাহিনীর

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা নিজেদের মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি (এমএআইডি) নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন। মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত শুক্রবার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।

কয়েকজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তাও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ করা ‘লোকেশন ডেটা’ ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন খবরের মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে।

‘অ্যাড ট্র্যাকার’ এমন এক ধরনের প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মোবাইলফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন এবং অনলাইন কার্যক্রম অনুসরণ করা সম্ভব। সাধারণত ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য এসব তথ্য কাজে লাগানো হয়।

মার্কিন বিমানবাহিনী সিনেটর ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তাদের কম্পিউটার ও মোবাইলফোনে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় থাকা এসব শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মোবাইলফোনে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

লোকেশন ডেটা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ

ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর রন ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

মোবাইলফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞাপনশিল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করাও সম্ভব।

ডেটা ব্রোকার হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের পর সেগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করে।

মার্কিন বিমানবাহিনী ও স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ওয়াইডেনকে দেওয়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পৃথক চিঠিতে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ডিভাইসগুলোতে বিজ্ঞাপন আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে এসব বিধিনিষেধ ঠিক কবে থেকে কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোয় বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগেই বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের মোবাইলফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর বক্তব্য জানতে পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মোবাইলফোন ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ

স্মার্টফোন থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা লোকেশন ডেটা সংগ্রহের সুযোগ সীমিত করার এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মোবাইলফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে কিছু সদস্যকে তাঁদের মোবাইলফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। ইন্টারনেটে তাঁদের পোস্ট করা ভিডিও ব্যবহার করে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে—এমন উদ্বেগের পর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ওয়াইডেন ও নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান। তাঁরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে সামরিক বাহিনী ও এর সদস্যদের অবস্থানের তথ্য কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সামরিক শাখার দেওয়া তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। ওই তথ্যগুলোতে সামরিক বাহিনীর মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে ‘অ্যাড আইডি’ নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপগুলো যে ‘এ হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর হয়নি, তা এখন স্পষ্ট’।

হ্যারিগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের এমন তথ্য কেনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যা তাঁদের মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণে সহায়তা করতে পারে।

পেন্টাগন এক ই-মেইলে জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের পাঠানো চিঠির জবাব তারা সরাসরি তাঁদের কাছেই দেবে।

অ্যাড আইডি বন্ধ হলেও পুরোপুরি কাটছে না ঝুঁকি

মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি বা এমএআইডি হচ্ছে প্রতিটি ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মোবাইলফোনের বিভিন্ন অ্যাপে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ অনুসরণ করা যায়। একই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর অবস্থানও শনাক্ত করা সম্ভব।

মোবাইলফোন ও কম্পিউটারের মতো ডিভাইস ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ডিভাইসে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ ‘নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ’।

এডওয়ার্ডসের মতে, এসব বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন কোম্পানি যে বিপুল পরিমাণ ডেটা বিক্রি করে, সেখানে সামরিক সদস্যদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকার সম্ভাবনা কমবে।

তবে আরও জটিল কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেও সামরিক সদস্যদের গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ডিভাইসের কারিগরি তথ্যের সঙ্গে নেটওয়ার্ক ডেটা বা লোকেশন তথ্য একত্র করলে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

যুদ্ধের ছয় মাস পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন নেতৃত্বের প্রত্যাশা ছিল, ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে তেহরানের নেতৃত্বকাঠামোয় পরিবর্তন আসবে।

তবে ছয় মাস পর এখন স্পষ্ট হয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরানের হামলার আশঙ্কায় মোবাইল-কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ মার্কিন বাহিনীর

প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের হামলার আশঙ্কায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা নিজেদের মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বা মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি (এমএআইডি) নিষ্ক্রিয় করে রেখেছেন। মার্কিন সিনেটর রন ওয়াইডেনের লেখা একটি চিঠিতে বিষয়টি উঠে এসেছে। গত শুক্রবার চিঠিটি প্রকাশ করা হয়।

কয়েকজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তাও বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে সংগ্রহ করা ‘লোকেশন ডেটা’ ব্যবহার করে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে—এমন খবরের মধ্যেই মার্কিন বাহিনীর এই পদক্ষেপের বিষয়টি সামনে এসেছে।

‘অ্যাড ট্র্যাকার’ এমন এক ধরনের প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে মোবাইলফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর অবস্থান, ব্রাউজিং তথ্য, অ্যাপ ব্যবহারের ধরন এবং অনলাইন কার্যক্রম অনুসরণ করা সম্ভব। সাধারণত ব্যবহারকারীদের লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্য এসব তথ্য কাজে লাগানো হয়।

মার্কিন বিমানবাহিনী সিনেটর ওয়াইডেনকে জানিয়েছে, দুই মাস আগে তাদের কম্পিউটার ও মোবাইলফোনে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

মার্কিন স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের উইন্ডোজচালিত ডিভাইসগুলোয় থাকা এসব শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই তাদের মোবাইলফোনে থাকা ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।

লোকেশন ডেটা নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ

ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট দলীয় সিনেটর রন ওয়াইডেন কয়েক মাস ধরে বিষয়টি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন।

মোবাইলফোন ও কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বিজ্ঞাপনশিল্পের মাধ্যমে সংগ্রহ করে ডেটা ব্রোকারদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের লক্ষ্যবস্তু করাও সম্ভব।

ডেটা ব্রোকার হচ্ছে এমন প্রতিষ্ঠান, যারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও সংকলনের পর সেগুলো অন্যদের কাছে বিক্রি করে।

মার্কিন বিমানবাহিনী ও স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ওয়াইডেনকে দেওয়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর পৃথক চিঠিতে জানানো হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ডিভাইসগুলোতে বিজ্ঞাপন আইডি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তবে এসব বিধিনিষেধ ঠিক কবে থেকে কার্যকর হয়েছে, সে বিষয়ে চিঠিতে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উইন্ডোজ কম্পিউটারগুলোয় বিজ্ঞাপন আইডি ২০২১ সালের আগেই বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে অ্যান্ড্রয়েড ও অ্যাপলের মোবাইলফোনে অন্তত ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর বক্তব্য জানতে পাঠানো বার্তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

মোবাইলফোন ব্যবহারে আরও কঠোর বিধিনিষেধ

স্মার্টফোন থেকে ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা লোকেশন ডেটা সংগ্রহের সুযোগ সীমিত করার এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা মোবাইলফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

গত জুলাইয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে কিছু সদস্যকে তাঁদের মোবাইলফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। ইন্টারনেটে তাঁদের পোস্ট করা ভিডিও ব্যবহার করে ইরান ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারছে—এমন উদ্বেগের পর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে গত শুক্রবার পেন্টাগনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ওয়াইডেন ও নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি প্যাট হ্যারিগান। তাঁরা বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে সামরিক বাহিনী ও এর সদস্যদের অবস্থানের তথ্য কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। এতে বিভিন্ন সামরিক শাখার দেওয়া তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। ওই তথ্যগুলোতে সামরিক বাহিনীর মোবাইলফোন ও কম্পিউটারে ‘অ্যাড আইডি’ নিষ্ক্রিয় করার বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ওয়াইডেন এক বিবৃতিতে বলেন, সামরিক বাহিনীর নেওয়া পদক্ষেপগুলো যে ‘এ হুমকি মোকাবিলায় কার্যকর হয়নি, তা এখন স্পষ্ট’।

হ্যারিগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের এমন তথ্য কেনার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, যা তাঁদের মার্কিন সেনাদের গতিবিধি অনুসরণে সহায়তা করতে পারে।

পেন্টাগন এক ই-মেইলে জানিয়েছে, আইনপ্রণেতাদের পাঠানো চিঠির জবাব তারা সরাসরি তাঁদের কাছেই দেবে।

অ্যাড আইডি বন্ধ হলেও পুরোপুরি কাটছে না ঝুঁকি

মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি বা এমএআইডি হচ্ছে প্রতিটি ডিভাইসের সঙ্গে যুক্ত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকারী ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মোবাইলফোনের বিভিন্ন অ্যাপে ব্যবহারকারীর কার্যকলাপ অনুসরণ করা যায়। একই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারীর অবস্থানও শনাক্ত করা সম্ভব।

মোবাইলফোন ও কম্পিউটারের মতো ডিভাইস ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা রক্ষায় কাজ করা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ডিক্রিপ্টঅ্যাডসের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক এডওয়ার্ডস বলেন, সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ডিভাইসে মোবাইল অ্যাডভার্টাইজিং আইডি নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ ‘নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ’।

এডওয়ার্ডসের মতে, এসব বিধিনিষেধের কারণে বিভিন্ন কোম্পানি যে বিপুল পরিমাণ ডেটা বিক্রি করে, সেখানে সামরিক সদস্যদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য থাকার সম্ভাবনা কমবে।

তবে আরও জটিল কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করেও সামরিক সদস্যদের গতিবিধি অনুসরণ করা সম্ভব বলে সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ডিভাইসের কারিগরি তথ্যের সঙ্গে নেটওয়ার্ক ডেটা বা লোকেশন তথ্য একত্র করলে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

যুদ্ধের ছয় মাস পরও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন নেতৃত্বের প্রত্যাশা ছিল, ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে তেহরানের নেতৃত্বকাঠামোয় পরিবর্তন আসবে।

তবে ছয় মাস পর এখন স্পষ্ট হয়েছে, সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর প্রভাব মোকাবিলায় অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সূত্র: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - মোঃ ওলিউল্লাহ

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
ইরানের হামলার আশঙ্কায় মোবাইল-কম্পিউটারের ‘অ্যাড ট্র্যাকার’ বন্ধ মার্কিন বাহিনীর
0:00 0:00
1.0x