আল জাজিরার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য মাহমুদ আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এবারও একই পদ্ধতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএ কর্মকর্তা এবং পিএলও সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হবে। সংস্কার কার্যকর করতে ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘোষণা দিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, পিএলও ও পিএ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আবারও পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা এবং ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ অব্যাহত রাখার অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল ওয়াশিংটন। ২০২৫ সালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি অথবা তাদের আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। জাতিসংঘ সদর দপ্তর সম্পর্কিত চুক্তিতে কিছু ছাড়ের বিধান থাকলেও মাহমুদ আব্বাস সরাসরি অধিবেশনে উপস্থিত হতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে বার্তাসংস্থা আনাদোলু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মাহমুদ আব্বাস এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও এর আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছিল। এর জবাবে উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে প্রতিটি ভিসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
চাকন বলেন, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের দায়িত্বকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমেরিকানদের সুরক্ষা অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে ভিসা আবেদনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কিংবা নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
সূত্র: ইত্তেফাক/এবিএস

বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আল জাজিরার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য মাহমুদ আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। গত বছর সদস্য দেশগুলোর অনুমোদনের পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। এবারও একই পদ্ধতিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।
আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, পিএ কর্মকর্তা এবং পিএলও সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হবে। সংস্কার কার্যকর করতে ব্যর্থতা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র এ ঘোষণা দিল। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে, পিএলও ও পিএ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আবারও পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আলোচনার পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা এবং ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা প্রদান ও সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ অব্যাহত রাখার অভিযোগও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত বছরও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল ওয়াশিংটন। ২০২৫ সালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি অথবা তাদের আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল। জাতিসংঘ সদর দপ্তর সম্পর্কিত চুক্তিতে কিছু ছাড়ের বিধান থাকলেও মাহমুদ আব্বাস সরাসরি অধিবেশনে উপস্থিত হতে পারেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এবারের ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে বার্তাসংস্থা আনাদোলু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে মাহমুদ আব্বাস এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও এর আইনি ভিত্তি জানতে চেয়েছিল। এর জবাবে উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে প্রতিটি ভিসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।
চাকন বলেন, জাতিসংঘের আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের দায়িত্বকে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানের যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমেরিকানদের সুরক্ষা অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে ভিসা আবেদনের বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিনিধিদলকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হলে কিংবা নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।
সূত্র: ইত্তেফাক/এবিএস

আপনার মতামত লিখুন