শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে শাহবাগ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রথম শহীদ আরমানের বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, একই সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী মৌলিক শিক্ষার ঘাটতি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।
ছাত্র মজলিস ঘোষিত ১৩ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি দ্রুত সব স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ রায়হান আলী অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে সরিয়ে সেক্যুলার ও ভোগবাদী ধারায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যে শিক্ষা মানুষকে খোদাভীরু ও চরিত্রবান করে না, তা দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কুরআনিক আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
কনভেনশনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সেশনজট ও নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করা, আবাসন সংকট দূর করা এবং ক্যাম্পাসে হল দখল ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করা।
এছাড়া শিক্ষাসামগ্রীর দাম কমানো, ছাত্রীদের জন্য পৃথক শিফট চালু, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান, প্রতিটি জেলায় সরকারি আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং পাঠ্যবই থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী লেখা বাদ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাবেক উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুফতি গোলাম রাব্বানী এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।
এ সময় খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: হুদহুদ নিউজ

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে শাহবাগ থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এটি জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে গিয়ে শেষ হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় কনভেনশনে প্রধান অতিথি ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রথম শহীদ আরমানের বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, শিক্ষার লক্ষ্য শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, একই সঙ্গে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ তৈরি করা। তাঁর মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামী মৌলিক শিক্ষার ঘাটতি একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে।
ছাত্র মজলিস ঘোষিত ১৩ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি দ্রুত সব স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান এবং সরকারি নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধের আহ্বান জানান তিনি। গণভোটের রায়কে সম্মান জানিয়ে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠনের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ রায়হান আলী অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে আল্লাহর নির্দেশিত পথ থেকে সরিয়ে সেক্যুলার ও ভোগবাদী ধারায় নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যে শিক্ষা মানুষকে খোদাভীরু ও চরিত্রবান করে না, তা দিয়ে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। কুরআনিক আদর্শ ও ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে আগামী প্রজন্মকে গড়ে তোলার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।
কনভেনশনে উত্থাপিত ১৩ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, সেশনজট ও নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করা, আবাসন সংকট দূর করা এবং ক্যাম্পাসে হল দখল ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করা।
এছাড়া শিক্ষাসামগ্রীর দাম কমানো, ছাত্রীদের জন্য পৃথক শিফট চালু, শিক্ষিত বেকারদের বেকার ভাতা প্রদান, প্রতিটি জেলায় সরকারি আলিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং পাঠ্যবই থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধবিরোধী লেখা বাদ দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
কনভেনশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, সাবেক উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুফতি গোলাম রাব্বানী এবং ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান।
এ সময় খেলাফত মজলিস ও ইসলামী ছাত্র মজলিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: হুদহুদ নিউজ

আপনার মতামত লিখুন