পাকিস্তানের ভাষ্য, নিহতরা ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ সন্ত্রাসী। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে দেশটি।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত ও আফগানিস্তানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশ করার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে আফগান বাহিনী। কাবুলের দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের এ দাবি অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এটিকে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে অভিহিত করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নুরিস্তানসহ আফগানিস্তানের অন্য কোনো এলাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততার দাবি তারা দৃঢ়ভাবে নাকচ করছে। একই সঙ্গে সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ কিংবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগকেও ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান একাধিকবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। টিটিপি কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও তারা জানিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় একটি অংশ টিটিপি চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পাকিস্তানের দাবি, হামলাগুলো কেবল শনাক্ত করা সামরিক স্থাপনাগুলোতেই পরিচালিত হয়েছে। এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান আফগান তালেবানকে তাদের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পাকিস্তানের ভাষ্য, নিহতরা ভারত ও আফগানিস্তানের ‘মদতপুষ্ট’ সন্ত্রাসী। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে দেশটি।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
তবে পাকিস্তানের এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ভারত ও আফগানিস্তানের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে আফগানিস্তান জানিয়েছে, পাকিস্তান থেকে কথিত দায়েশ সদস্যরা সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে প্রবেশ করার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে আফগান বাহিনী। কাবুলের দাবি, ওই অভিযানে ২৮ জন নিহত এবং আরও ৩২ জন আহত হয়েছেন।
আফগানিস্তানের এ দাবি অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এটিকে ‘হাস্যকর, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে অভিহিত করেছে।
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নুরিস্তানসহ আফগানিস্তানের অন্য কোনো এলাকায় অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সম্পৃক্ততার দাবি তারা দৃঢ়ভাবে নাকচ করছে। একই সঙ্গে সাবেক আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগ বা প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আফগানিস্তানে সক্রিয় দায়েশ কিংবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার অভিযোগকেও ‘সম্পূর্ণ বানোয়াট’ বলে উল্লেখ করেছে তারা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে ধারাবাহিকভাবে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পেছনে ভারত ও আফগানিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বলে পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তান বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান একাধিকবার আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী তালেবান সরকারকে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। টিটিপি কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট।
ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগও অস্বীকার করে আসছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না বলেও তারা জানিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পর এবং তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। এসব হামলার বড় একটি অংশ টিটিপি চালিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাটে একটি পুলিশ সদর দপ্তরে বিস্ফোরণ ও বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তান থেকে উৎক্ষেপণ করা ড্রোন শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার পর দেশটির ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদ এসব হামলাকে ‘পরিকল্পিত, নির্ভুল, পরিমিত ও আনুপাতিক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
পাকিস্তানের দাবি, হামলাগুলো কেবল শনাক্ত করা সামরিক স্থাপনাগুলোতেই পরিচালিত হয়েছে। এসব স্থাপনা ড্রোন হামলার চেষ্টার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল বলেও দাবি করেছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান আফগান তালেবানকে তাদের বিরুদ্ধে বৈরী তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ‘কার্যকর, সুনির্দিষ্ট, যাচাইযোগ্য ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ’ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

আপনার মতামত লিখুন