ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

সারাদেশ

স্বামীকে হারিয়েছেন মেঘনায়, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু একমাত্র ছেলে অসহায় রানু বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

স্বামীকে হারিয়েছেন মেঘনায়, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু একমাত্র ছেলে অসহায় রানু বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

২০ বছর আগে মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়েছেন রানু বেগম। এরপর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর জীবনসংগ্রাম। নানা কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের বড় করেছেন, চালিয়েছেন সংসার। একমাত্র ছেলে হাসিব শান্ত বড় হয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু সেই ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন পঙ্গুত্বের শঙ্কা নিয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে থমকে গেছে তাঁর চিকিৎসা। স্বামী হারানোর শোক আর সন্তানের চিকিৎসার দুশ্চিন্তায় দিশেহারা এখন মা রানু বেগম।

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা রানু বেগমের পরিবারের এমন করুণ চিত্র এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়।

গত ২৯ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি বেকারির পণ্য নিয়ে মার্কেটিংয়ের কাজ করার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন হাসিব শান্ত। এতে তাঁর দুই পা গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁর পা কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানান।

পরবর্তীতে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের আর্থিক সহায়তায় ঢাকার ম্যাক্স হাসপাতাল ও বিডিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু অর্থসংকটে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন হাসিব। বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর।

স্বামী হারানোর পর সন্তানদের নিয়ে সংগ্রাম
রানু বেগমের স্বামী মো. শাহজাহান প্রায় ২০ বছর আগে মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর দুই মেয়ে সুরভি ও রাত্রি এবং একমাত্র ছেলে হাসিব শান্তকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম। অভাবের সংসারে সন্তানদের বড় করতে কখনো শাকসবজি, কখনো নারকেল বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন।

দুই মেয়ের মধ্যে সুরভির বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে রাত্রি মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। আর একমাত্র ছেলে হাসিব শান্তই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পড়ালেখা শেষ না করেই ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজাদ বেকারিতে মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করেন হাসিব। নিজের কষ্টের কথা ভুলে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন তিনি। পাশাপাশি মানবিক কাজেও যুক্ত ছিলেন। অসহায় রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দিতেন। এমনকি মনপুরা উপকূলের কেউ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে তাঁদের জন্যও রক্তের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করতেন।

কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। যিনি অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন, আজ তিনিই নিজের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতা চাইছেন।
‘আবারও ছেলের চিকিৎসা আর সংসারের বোঝা বইতে হবে’

ছেলের অসুস্থতা ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রানু বেগম বলেন, “স্বামীকে হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন চালিয়েছি। তাদের পড়ালেখা করিয়েছি, এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। কখনো শাকসবজি, কখনো নারকেল বিক্রি করেছি, আবার ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছি। একমাত্র ছেলে বড় হয়ে আমার কষ্ট বুঝে সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো একটু স্বস্তি পাব। কিন্তু সেই ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। এখন ছেলের চিকিৎসার খরচ আর সংসারের বোঝা—সবই আবার আমাকে বহন করতে হবে।”

ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হাসিব, চান মানুষের সহযোগিতা

হাসিব শান্ত বলেন, “সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়ালেখা শেষ করতে পারিনি। চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। পাশাপাশি অসহায় রোগীদের জন্য রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় নিজেই গুরুতর আহত হয়ে এখন মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চান। আবারও পরিবারের দায়িত্ব নিতে চান এবং আগের মতো অসহায় রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

এ জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন হাসিব শান্ত।

একসময় অন্যের প্রয়োজনে রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া এই তরুণ আজ নিজের জীবনকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়। রানু বেগমের আকুতি—সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তাঁর পরিবার।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬


স্বামীকে হারিয়েছেন মেঘনায়, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু একমাত্র ছেলে অসহায় রানু বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

প্রকাশের তারিখ : ২২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

২০ বছর আগে মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় স্বামীকে হারিয়েছেন রানু বেগম। এরপর দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর জীবনসংগ্রাম। নানা কষ্ট সহ্য করে সন্তানদের বড় করেছেন, চালিয়েছেন সংসার। একমাত্র ছেলে হাসিব শান্ত বড় হয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন। কিন্তু সেই ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এখন পঙ্গুত্বের শঙ্কা নিয়ে বাড়িতে পড়ে আছেন। অর্থের অভাবে থমকে গেছে তাঁর চিকিৎসা। স্বামী হারানোর শোক আর সন্তানের চিকিৎসার দুশ্চিন্তায় দিশেহারা এখন মা রানু বেগম।

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার চরফৈজুদ্দিন গ্রামের বাসিন্দা রানু বেগমের পরিবারের এমন করুণ চিত্র এখন মানবিক সহায়তার অপেক্ষায়।

গত ২৯ মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে একটি বেকারির পণ্য নিয়ে মার্কেটিংয়ের কাজ করার সময় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন হাসিব শান্ত। এতে তাঁর দুই পা গুরুতর আহত হয়। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসকেরা তাঁর পা কেটে ফেলতে হতে পারে বলে জানান।

পরবর্তীতে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের আর্থিক সহায়তায় ঢাকার ম্যাক্স হাসপাতাল ও বিডিএম হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। কিন্তু অর্থসংকটে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন হাসিব। বর্তমানে চিকিৎসার অভাবে অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তাঁর।

স্বামী হারানোর পর সন্তানদের নিয়ে সংগ্রাম
রানু বেগমের স্বামী মো. শাহজাহান প্রায় ২০ বছর আগে মেঘনায় ট্রলার দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর দুই মেয়ে সুরভি ও রাত্রি এবং একমাত্র ছেলে হাসিব শান্তকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর কঠিন জীবনসংগ্রাম। অভাবের সংসারে সন্তানদের বড় করতে কখনো শাকসবজি, কখনো নারকেল বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছেন।

দুই মেয়ের মধ্যে সুরভির বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে রাত্রি মনপুরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। আর একমাত্র ছেলে হাসিব শান্তই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে পড়ালেখা শেষ না করেই ময়মনসিংহের ত্রিশালে আজাদ বেকারিতে মার্কেটিংয়ের কাজ শুরু করেন হাসিব। নিজের কষ্টের কথা ভুলে পরিবারের জন্য উপার্জন করতেন তিনি। পাশাপাশি মানবিক কাজেও যুক্ত ছিলেন। অসহায় রোগীদের রক্তের প্রয়োজন হলে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দিতেন। এমনকি মনপুরা উপকূলের কেউ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গেলে তাঁদের জন্যও রক্তের ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করতেন।

কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর জীবনই এখন অনিশ্চয়তার মুখে। যিনি অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতেন, আজ তিনিই নিজের চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতা চাইছেন।
‘আবারও ছেলের চিকিৎসা আর সংসারের বোঝা বইতে হবে’

ছেলের অসুস্থতা ও পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে রানু বেগম বলেন, “স্বামীকে হারানোর পর তিন সন্তানকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন চালিয়েছি। তাদের পড়ালেখা করিয়েছি, এক মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। কখনো শাকসবজি, কখনো নারকেল বিক্রি করেছি, আবার ঘরে সেলাইয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছি। একমাত্র ছেলে বড় হয়ে আমার কষ্ট বুঝে সংসারের দায়িত্ব নিয়েছিল। ভেবেছিলাম, এবার হয়তো একটু স্বস্তি পাব। কিন্তু সেই ছেলেও সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে বাড়িতে পড়ে আছে। এখন ছেলের চিকিৎসার খরচ আর সংসারের বোঝা—সবই আবার আমাকে বহন করতে হবে।”

ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে না পেরে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় হাসিব, চান মানুষের সহযোগিতা

হাসিব শান্ত বলেন, “সংসারের হাল ধরতে গিয়ে পড়ালেখা শেষ করতে পারিনি। চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। পাশাপাশি অসহায় রোগীদের জন্য রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় নিজেই গুরুতর আহত হয়ে এখন মায়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে চান। আবারও পরিবারের দায়িত্ব নিতে চান এবং আগের মতো অসহায় রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

এ জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন ও সহৃদয় মানুষের কাছে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন হাসিব শান্ত।

একসময় অন্যের প্রয়োজনে রক্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া এই তরুণ আজ নিজের জীবনকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনতে মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়। রানু বেগমের আকুতি—সন্তানের চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তাঁর পরিবার।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
স্বামীকে হারিয়েছেন মেঘনায়, সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু একমাত্র ছেলে অসহায় রানু বেগমের পাশে দাঁড়ানোর আকুতি
0:00 0:00
1.0x