ভোলার মনপুরায় পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য গেলে এক বিধবা নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেত্রী লাভলী হাওলাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নুর নাহার (৩০) মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারে জনৈক ইব্রাহিমের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুর নাহার দাসেরহাট এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তার পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এজাহারে নুর নাহার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন পাওনা টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তিনি হাজিরহাট বাজারে ইব্রাহিমের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে ১ নম্বর অভিযুক্ত মাকছুদ তাকে ধাক্কা, ঘুষি ও লাথি মারেন। একই সময় ২ নম্বর অভিযুক্ত রাসেলও তাকে মারধর করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে অভিযুক্তদের অন্য সহযোগীরাও ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ৬ নম্বর অভিযুক্ত লাভলী হাওলাদার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন এবং দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন এবং ১ নম্বর অভিযুক্ত তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় দোকানদার ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাকে অভিযুক্তদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে ভবিষ্যতে অভিযোগ করলে আরও বড় ধরনের ক্ষতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন নুর নাহার।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মাকছুদ (৪০), রাসেল (৩৫), তেয়াব (৩০), সোহেল (২৫), ফজলুল (৩০) ও লাভলীর (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আগেও অভিযোগকারী নুরুন্নাহারের উপর হামলা চালান অভিযুক্ত মাকছুদ। ওই ঘটনায় পূর্বেও মাকসুদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নুরনাহার। ভুক্তভোগী নুরুন্নাহারের দাবি ওই অভিযোগের কোন বিচার পাননি তিনি।
নুরনাহার আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি কোথাও বিচার না পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। তিনি মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জ এর উপর বিচারের দায়িত্বভার অর্পণ করেন। আমি এমপির কাছে বিচার দেওয়ায় মাকসুদ ও যুবলীগ নেত্রী লাভলী হাওলাদার আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
নুর নাহার জানান, অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ১নং আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
ভোলার মনপুরায় পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য গেলে এক বিধবা নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেত্রী লাভলী হাওলাদারসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নুর নাহার (৩০) মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারে জনৈক ইব্রাহিমের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুর নাহার দাসেরহাট এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্তদের সঙ্গে তার পূর্ব থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তার পাওনা টাকা পরিশোধ না করার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
এজাহারে নুর নাহার অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন পাওনা টাকা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে তিনি হাজিরহাট বাজারে ইব্রাহিমের দোকানের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ১ নম্বর ও ২ নম্বর ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে ১ নম্বর অভিযুক্ত মাকছুদ তাকে ধাক্কা, ঘুষি ও লাথি মারেন। একই সময় ২ নম্বর অভিযুক্ত রাসেলও তাকে মারধর করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে অভিযুক্তদের অন্য সহযোগীরাও ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ৬ নম্বর অভিযুক্ত লাভলী হাওলাদার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন এবং দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এ সময় অন্য অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন এবং ১ নম্বর অভিযুক্ত তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় দোকানদার ও আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে তাকে অভিযুক্তদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার আগে ভবিষ্যতে অভিযোগ করলে আরও বড় ধরনের ক্ষতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন নুর নাহার।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মাকছুদ (৪০), রাসেল (৩৫), তেয়াব (৩০), সোহেল (২৫), ফজলুল (৩০) ও লাভলীর (৩৫) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
আগেও অভিযোগকারী নুরুন্নাহারের উপর হামলা চালান অভিযুক্ত মাকছুদ। ওই ঘটনায় পূর্বেও মাকসুদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নুরনাহার। ভুক্তভোগী নুরুন্নাহারের দাবি ওই অভিযোগের কোন বিচার পাননি তিনি।
নুরনাহার আরো অভিযোগ করে বলেন, আমি কোথাও বিচার না পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। তিনি মনপুরা থানা অফিসার ইনচার্জ এর উপর বিচারের দায়িত্বভার অর্পণ করেন। আমি এমপির কাছে বিচার দেওয়ায় মাকসুদ ও যুবলীগ নেত্রী লাভলী হাওলাদার আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাননাশের হুমকি দিয়ে আসছে।
নুর নাহার জানান, অভিযুক্তদের হুমকির কারণে তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ১নং আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

আপনার মতামত লিখুন