মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূ আছমা আক্তার (২৬) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তি, আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর (৩২)-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রী ও চার বছরের কন্যাকে নিয়ে পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে স্ত্রীর পূর্ববর্তী বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের সময় আছমা গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু ঘটে।
তদন্তকারীরা আরও জানান, মৃত্যুর পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে মরদেহ খাটে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি চার বছরের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পিবিআই ঘটনাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মুহাসিন মাতুব্বর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত তথ্য আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূ আছমা আক্তার (২৬) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তি, আলামত বিশ্লেষণ ও তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটন করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মুহাসিন মাতুব্বর (৩২)-কে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বর গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি স্ত্রী ও চার বছরের কন্যাকে নিয়ে পূর্ব বালিগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে স্ত্রীর পূর্ববর্তী বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ঘটনার দিন সকালে পারিবারিক বিরোধের একপর্যায়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চরমে পৌঁছায়। পিবিআইয়ের দাবি, একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের সময় আছমা গুরুতর আহত হন এবং পরে তার মৃত্যু ঘটে।
তদন্তকারীরা আরও জানান, মৃত্যুর পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে মরদেহ খাটে রেখে অভিযুক্ত ব্যক্তি চার বছরের শিশুকন্যাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পিবিআই ঘটনাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
পিবিআই জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে মুহাসিন মাতুব্বর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দিকও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তদন্তকারী সংস্থার উপস্থাপিত তথ্য আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের রায়ের ওপর নির্ভরশীল।

আপনার মতামত লিখুন