ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জাতীয়

কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন ভোলার সোহেল

কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন ভোলার সোহেল
কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন ভোলার সোহেল

যে কলাগাছ একসময় কলা সংগ্রহের পর কৃষকের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়ত, সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের সুতা। আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে সোহেল (২৮)।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নয়, শুধুমাত্র ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি সফলভাবে সুতা উৎপাদন শুরু করেছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এবং সম্ভাবনাময় একটি কুটির শিল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আঞ্চলিক সড়কের পাশে মুন্সি বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির মেশিন স্থাপন করেছেন সোহেল। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ

সোহেল জানান, সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকলই এখন মূল্যবান কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদিত সুতা মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট, হস্তশিল্পসহ পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরি করা যায়।

‎তিনি আরও জানান, সুতা সংগ্রহের পর যে অবশিষ্ট বর্জ্য বের হয়, তা ফেলে দেওয়া হয় না। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা হয়। এছাড়া কলাগাছের বাকল থেকে কাগজ, মশার কয়েল, মাছের খাবার এবং কলাগাছের রস থেকে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কলাগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগানো সম্ভব।

সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই উদ্যোগকে শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও পরিত্যক্ত কলাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবেন।

‎স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলাগাছ নষ্ট হয়ে যায়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কুটির শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। সোহেলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে কৃষি বর্জ্যও হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন উপাদান।

‎‎চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ‎রুমানা আফরোজ বলেন, কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬


কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন ভোলার সোহেল

প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

যে কলাগাছ একসময় কলা সংগ্রহের পর কৃষকের কাছে মূল্যহীন হয়ে পড়ত, সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকল থেকেই এখন তৈরি হচ্ছে উন্নতমানের সুতা। আর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে সোহেল (২৮)।


কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নয়, শুধুমাত্র ইউটিউবের ভিডিও দেখে নিজের আগ্রহ, অধ্যবসায় ও নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আয়ত্ত করেন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি সফলভাবে সুতা উৎপাদন শুরু করেছেন। তার এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর দৃষ্টি কেড়েছে এবং সম্ভাবনাময় একটি কুটির শিল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে।


সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, চরমানিকা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আঞ্চলিক সড়কের পাশে মুন্সি বাড়ির প্রবেশমুখে একটি সুতা তৈরির মেশিন স্থাপন করেছেন সোহেল। সেখানে প্রতিদিন কলাগাছের বাকল সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে সুতা উৎপাদন করছেন। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ

সোহেল জানান, সাধারণত কলা সংগ্রহের পর গাছ কেটে ফেলে দেওয়া হয়। অথচ সেই পরিত্যক্ত কলাগাছের বাকলই এখন মূল্যবান কাঁচামালে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৬০ কেজি কলাগাছ থেকে এক কেজি সুতা উৎপাদন করা সম্ভব। উৎপাদিত সুতা মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। এই সুতা দিয়ে ব্যাগ, দড়ি, ম্যাট, হস্তশিল্পসহ পরিবেশবান্ধব নানা পণ্য তৈরি করা যায়।


‎তিনি আরও জানান, সুতা সংগ্রহের পর যে অবশিষ্ট বর্জ্য বের হয়, তা ফেলে দেওয়া হয় না। সেই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার তৈরি করা হয়। এছাড়া কলাগাছের বাকল থেকে কাগজ, মশার কয়েল, মাছের খাবার এবং কলাগাছের রস থেকে বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত উপাদান উৎপাদনেরও সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কলাগাছের প্রায় প্রতিটি অংশই কাজে লাগানো সম্ভব।


সোহেলের দাবি, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই উদ্যোগকে শিল্পে রূপ দেওয়া সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে কৃষকরাও পরিত্যক্ত কলাগাছ বিক্রি করে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাবেন।


‎স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, চরফ্যাশনসহ উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ কলাগাছ নষ্ট হয়ে যায়। এসব গাছের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে কৃষকের অতিরিক্ত আয়ের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কুটির শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে। সোহেলের এই উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্ভাবনী চিন্তা থাকলে কৃষি বর্জ্যও হতে পারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন উপাদান।


‎‎চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) ‎রুমানা আফরোজ বলেন, কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির এই উদ্ভাবনী উদ্যোগ নতুন শিল্পের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করবে। সরকারি সহযোগিতার সুযোগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
কলাগাছের বাকলে স্বপ্ন বুনছেন ভোলার সোহেল
0:00 0:00
1.0x