ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় ব্যবসায়ী ও তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ডাকাত দল নগদ ১০ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপাসহ বিপুল মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভোররাত ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলার ৬ নম্বর মঠবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর বাঘরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তর বাঘরী গ্রামের ব্যবসায়ী পরিমল হালদার (৬৫) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী আলো রানী হালদার (৫০), ছেলে পলাশ হালদার (৩৫), পুত্রবধূ দীপা মিস্ত্রি (৩০) এবং দুই নাতি প্রাচুর্য হালদার (১২) ও মাধুর্য হালদার (৮)। পলাশ হালদার পেশায় সৌদি প্রবাসী, বর্তমানে দেশে ছুটিতে আছেন।
ভুক্তভোগী দীপা মিস্ত্রি জানান, রাত ১টার দিকে তাদের শোবার ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দ হয়। স্বামী পলাশ দরজা খুলতেই ৭ থেকে ৮ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল ঘরে ঢুকে পড়ে। ডাকাতরা ধারালো রামদা দিয়ে পলাশের মাথায় একাধিক কোপ দেয় এবং লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বাবা পরিমল হালদার ছুটে এলে ডাকাতরা তাকেও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপর পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আলমারি ওয়্যারড্রবের চাবি আদায় করে।
ডাকাতরা ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তারা আলমারি ওয়্যারড্রব ভেঙে নগদ ১০ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ, ১৫ ভরি রুপা, ৪টি বিদেশি টর্চলাইট, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ১টি বাটন মোবাইল লুট করে। রাত আড়াইটার দিকে পেছনের দরজা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আহত পরিমল ও পলাশকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দেড় ঘণ্টাব্যাপী ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাতদের হামলায় ব্যবসায়ী ও তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। ডাকাত দল নগদ ১০ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ ভরি রুপাসহ বিপুল মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভোররাত ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলার ৬ নম্বর মঠবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর বাঘরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উত্তর বাঘরী গ্রামের ব্যবসায়ী পরিমল হালদার (৬৫) পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতে খাবার শেষে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিবারে রয়েছেন তার স্ত্রী আলো রানী হালদার (৫০), ছেলে পলাশ হালদার (৩৫), পুত্রবধূ দীপা মিস্ত্রি (৩০) এবং দুই নাতি প্রাচুর্য হালদার (১২) ও মাধুর্য হালদার (৮)। পলাশ হালদার পেশায় সৌদি প্রবাসী, বর্তমানে দেশে ছুটিতে আছেন।
ভুক্তভোগী দীপা মিস্ত্রি জানান, রাত ১টার দিকে তাদের শোবার ঘরের দরজায় জোরে ধাক্কার শব্দ হয়। স্বামী পলাশ দরজা খুলতেই ৭ থেকে ৮ জনের মুখোশধারী ডাকাত দল ঘরে ঢুকে পড়ে। ডাকাতরা ধারালো রামদা দিয়ে পলাশের মাথায় একাধিক কোপ দেয় এবং লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
চিৎকার শুনে পাশের ঘর থেকে বাবা পরিমল হালদার ছুটে এলে ডাকাতরা তাকেও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এরপর পরিবারের সবাইকে একটি কক্ষে আটকে রেখে আলমারি ওয়্যারড্রবের চাবি আদায় করে।
ডাকাতরা ঘরের পেছনের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তারা আলমারি ওয়্যারড্রব ভেঙে নগদ ১০ লাখ টাকা, ১৫ ভরি স্বর্ণ, ১৫ ভরি রুপা, ৪টি বিদেশি টর্চলাইট, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ১টি বাটন মোবাইল লুট করে। রাত আড়াইটার দিকে পেছনের দরজা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।
ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর পরিবারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আহত পরিমল ও পলাশকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
রাজাপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফিরোজ কামাল বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।"
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন