ঢাকা    রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

জুলাই বিপ্লব

১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সহিংসতায় নিহত ৬৭, রাতে কারফিউ জারি

১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সহিংসতায় নিহত ৬৭, রাতে কারফিউ জারি
১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সহিংসতায় নিহত ৬৭, রাতে কারফিউ জারি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দ্বিতীয় দিনের মতো দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতির পর রাতে তৎকালীন সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংস ঘটনায় সারা দেশে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় নিহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ৬২। এছাড়া রংপুরে দুজন এবং সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে একজন করে নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে ২০ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক সমকাল-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর বাইরে ১২ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে রংপুরে পাঁচজন এবং গাজীপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট ও মাদারীপুরে একজন করে নিহতের তথ্য প্রকাশিত হয়।

দিনভর শিক্ষার্থী ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে চাপ তৈরি হয়। আহতদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। রামপুরা টিভি সেন্টারসংলগ্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয় এবং মালিবাগ মোড় থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় বিক্ষোভকারীদের অবস্থান দেখা যায়। পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, উত্তরা, মহাখালী, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড ও নতুনবাজার এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

জুমার নামাজের পর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রগতি সরণি অবরোধ করেন। কুড়িল চৌরাস্তা ও কালাচাঁদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। একই এলাকায় র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলি ছোড়ার অভিযোগও করা হয়।

উত্তরা এলাকায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক শোডাউন করেন। সে সময় গুলি ছোড়ার পর শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে তারা সরে যান বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিটিভি ভবনে আগুন লাগার পর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানো হয়। মিরপুর-১০ নম্বর থেকে পুরবী পর্যন্ত পাঁচটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। বনানীতে বিআরটিএর সদর কার্যালয়, মিরপুরের মেট্রো-১ কার্যালয় এবং মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে ভাঙচুরের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়কগুলোতে যান চলাচল, দূরপাল্লার বাস ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

ঢাকার বাইরে খুলনা, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, রংপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, সাভার ও মাদারীপুরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের জিম্মি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং কয়েদিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সে সময়ের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

একই সময়ে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ ও আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলেও র‍্যাব তা অস্বীকার করে জানায়, হেলিকপ্টার কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আন্দোলনের আড়ালে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, র‍্যাব ও ৭৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এদিন রাতে গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বৈঠক করেন। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সরকারের সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ছাত্রহত্যার দায় নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার, হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ছাত্র সংসদ চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি না করার নিশ্চয়তা।

এদিকে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির উদ্যোগের কথা জানান। তবে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই দিনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে 'সন্তানের পাশে অভিভাবক' ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬


১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সহিংসতায় নিহত ৬৭, রাতে কারফিউ জারি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দ্বিতীয় দিনের মতো দেশজুড়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। এদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, গুলি, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতির অবনতির পর রাতে তৎকালীন সরকার সারা দেশে কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়।

উপলব্ধ তথ্য অনুযায়ী, ওই দিনের সহিংস ঘটনায় সারা দেশে অন্তত ৬৭ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় নিহতের সংখ্যা ছিল অন্তত ৬২। এছাড়া রংপুরে দুজন এবং সাভার, সিলেট ও নরসিংদীতে একজন করে নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তবে ২০ জুলাই প্রকাশিত দৈনিক সমকাল-এর এক প্রতিবেদনে রাজধানীর বাইরে ১২ জন নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে রংপুরে পাঁচজন এবং গাজীপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ, সিলেট ও মাদারীপুরে একজন করে নিহতের তথ্য প্রকাশিত হয়।

দিনভর শিক্ষার্থী ও বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ চলে। বিভিন্ন স্থানে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটে এবং গুলিবিদ্ধদের নিয়ে হাসপাতালগুলোতে চাপ তৈরি হয়। আহতদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। রামপুরা টিভি সেন্টারসংলগ্ন সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে অবরোধ করা হয় এবং মালিবাগ মোড় থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত এলাকায় বিক্ষোভকারীদের অবস্থান দেখা যায়। পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, উত্তরা, মহাখালী, পল্টন, প্রেসক্লাব, বিজয়নগর, পুরান ঢাকা, সূত্রাপুর, লক্ষ্মীবাজার, গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড ও নতুনবাজার এলাকাতেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

জুমার নামাজের পর বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রগতি সরণি অবরোধ করেন। কুড়িল চৌরাস্তা ও কালাচাঁদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে। একই এলাকায় র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং গুলি ছোড়ার অভিযোগও করা হয়।

উত্তরা এলাকায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক শোডাউন করেন। সে সময় গুলি ছোড়ার পর শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার মুখে তারা সরে যান বলে সে সময়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিটিভি ভবনে আগুন লাগার পর সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। রামপুরা থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালানো হয়। মিরপুর-১০ নম্বর থেকে পুরবী পর্যন্ত পাঁচটি পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। বনানীতে বিআরটিএর সদর কার্যালয়, মিরপুরের মেট্রো-১ কার্যালয় এবং মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনেও হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

কাজীপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনে ভাঙচুরের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে রাজধানীর সড়কগুলোতে যান চলাচল, দূরপাল্লার বাস ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

ঢাকার বাইরে খুলনা, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম, রংপুর, মানিকগঞ্জ, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, গাজীপুর, সাভার ও মাদারীপুরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়। নরসিংদী জেলা কারাগারে হামলার ঘটনায় কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের জিম্মি করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং কয়েদিদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও সে সময়ের প্রতিবেদনে উঠে আসে।

একই সময়ে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এতে অনলাইনভিত্তিক যোগাযোগ ও আর্থিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলেও র‍্যাব তা অস্বীকার করে জানায়, হেলিকপ্টার কেবল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

তৎকালীন বিজিবি মহাপরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, আন্দোলনের আড়ালে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ, র‍্যাব ও ৭৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ১৯ জুলাই রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

এদিন রাতে গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বিজিবির মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বৈঠক করেন। একই রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে আটক করা হয়। অন্যদিকে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সরকারের সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ছাত্রহত্যার দায় নিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পদত্যাগ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগ, হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার, হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ছাত্র সংসদ চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল খুলে দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানি না করার নিশ্চয়তা।

এদিকে তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির উদ্যোগের কথা জানান। তবে আন্দোলনের সমন্বয়কেরা সংলাপের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই দিনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজধানীর শাহবাগে 'সন্তানের পাশে অভিভাবক' ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
১৯ জুলাই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ সহিংসতায় নিহত ৬৭, রাতে কারফিউ জারি
0:00 0:00
1.0x