টানা বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশই ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ, ডিম ও মুরগির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে অনেক স্থানের সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েক দিন আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালো মানের কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।
পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকা কেজি, আর রসুনের দাম পৌঁছেছে ১৪০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। হাঁসের ডিমের হালি ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৯০০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
নারিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে মাছের সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। তাঁর আশা, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।
রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে দাম কমতে পারে।
নারিন্দা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, টানা বৃষ্টি ও কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের বাজার করতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
টানা বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে সবজির সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েক দিনে বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি সবজি ছাড়া অধিকাংশই ১০০ টাকা বা তার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ, ডিম ও মুরগির বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় সবজি পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে অনেক স্থানের সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৫০ টাকা, করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কয়েক দিন আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়েছে। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালো মানের কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের দাম ১৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।
পেঁয়াজ ও রসুনের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আগে ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন ৬০ টাকা কেজি, আর রসুনের দাম পৌঁছেছে ১৪০ টাকায়।
সবজির পাশাপাশি ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে। হাঁসের ডিমের হালি ৭০ টাকা, ফার্মের লাল ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। মাঝারি আকারের চাষের রুই ও কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, টেংরা ৯০০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা।
নারিন্দা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, বন্যা ও টানা বৃষ্টির কারণে মাছের সরবরাহ কমেছে। পাইকারি বাজারে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে। তাঁর আশা, সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দামও কমে আসবে।
রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা আবু সাঈদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে রাজধানীতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। বিভিন্ন অঞ্চলের ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতির প্রভাবও বাজারে পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে দাম কমতে পারে।
নারিন্দা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, টানা বৃষ্টি ও কয়েকটি অঞ্চলের বন্যার কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের বাজার করতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন