রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও নৈশভোজে মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত সোমবার যমুনায় ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ‘৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার করমর্দনের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কামাল উদ্দিন অতীতে চট্টগ্রাম মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো ভিডিও ও বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ও তিনি আন্দোলনবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক, লেখক, টিভি উপস্থাপক ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। চট্টগ্রামে তিনি ‘ব্যাটারি কামাল’ নামেও পরিচিত।
সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ঢাকার মতিঝিল থানায় ইয়াবা-সংক্রান্ত একটি মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এছাড়া অতীতে চট্টগ্রামের একটি আবাসিক ভবনে মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে তিনি কীভাবে প্রবেশের অনুমতি পেলেন এবং আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের তালিকায় তার নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
জানা গেছে, কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে কোনো সাংবাদিক পরিচয়ে নয়, ‘গণদল’-এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেন। গণদলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সৈনিক লীগে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গোলাম মাওলা দাবি করেন, অতীতের সেই পদ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে মো. কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতীতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তবে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবিও জানানো হয়েছে।
সূত্র: তথ্য ও ছবি—আমার দেশ (সংগৃহীত)

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুলাই ২০২৬
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও নৈশভোজে মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত সোমবার যমুনায় ৪১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ‘৩১ দফা’ এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা ও নৈশভোজ অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে মো. কামাল উদ্দিনের উপস্থিতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার করমর্দনের ছবি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, কামাল উদ্দিন অতীতে চট্টগ্রাম মহানগর বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো ভিডিও ও বিভিন্ন প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং শেখ হাসিনার বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সক্রিয় ছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ও তিনি আন্দোলনবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক, লেখক, টিভি উপস্থাপক ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন। চট্টগ্রামে তিনি ‘ব্যাটারি কামাল’ নামেও পরিচিত।
সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ৬ জুলাই ঢাকার মতিঝিল থানায় ইয়াবা-সংক্রান্ত একটি মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এছাড়া অতীতে চট্টগ্রামের একটি আবাসিক ভবনে মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরিও করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনের মতো স্পর্শকাতর স্থানে তিনি কীভাবে প্রবেশের অনুমতি পেলেন এবং আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের তালিকায় তার নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা পরিকল্পিত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
জানা গেছে, কামাল উদ্দিন অনুষ্ঠানে কোনো সাংবাদিক পরিচয়ে নয়, ‘গণদল’-এর ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেন। গণদলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রতিনিধি হিসেবেই তিনি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সৈনিক লীগে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে গোলাম মাওলা দাবি করেন, অতীতের সেই পদ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে মো. কামাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অতীতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তবে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাই আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবিও জানানো হয়েছে।
সূত্র: তথ্য ও ছবি—আমার দেশ (সংগৃহীত)

আপনার মতামত লিখুন