ঢাকা    শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আন্তর্জাতিক

মোদির রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেটিই তরুণদের প্রতিবাদের মাধ্যম

মোদির রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেটিই তরুণদের প্রতিবাদের মাধ্যম
মোদির রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেটিই তরুণদের প্রতিবাদের মাধ্যম

ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের ধারণ করা ভিডিও, ছবি, মিম ও বিভিন্ন অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনের নানা দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

২০ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ অভিযান চালালে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অবন্তিকা সিং আল-জাজিরাকে বলেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মধ্যেও তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সম্পাদনা করে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, এখন সারা দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনের ঘটনাগুলো দেখতে পারছে।

প্রায় এক যুগ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি। তবে বর্তমানে একই প্ল্যাটফর্মে সরকারের সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের পর পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে লাঠিচার্জ, ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং যন্তর মন্তরের বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্য দেখা যায়।

এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ ও আইজলসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে ‘ককারোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সরকারি নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান।

আন্দোলনের ভিডিও দেখে অনেক পরিবারের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ১৯ বছর বয়সী নিহারিকা সনি জানান, তার মা আগে নরেন্দ্র মোদির সমর্থক ছিলেন। তবে দিল্লির ঘটনার ভিডিও দেখার পর তারা একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শুরু করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীরা মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী ইপসিতা গুলিয়ারি বলেন, সরকার তরুণদের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অনেককে মার্ভেলের সুপারহিরোদের পোশাক কিংবা জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’–এর প্রতীক ব্যবহার করে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যম আন্দোলনের পর্যাপ্ত প্রচার না করায় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ছোট স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককারোচ জনতা পার্টি’ নামটি সামনে আসে। পরে আন্দোলনকারীরা সেটিকেই নিজেদের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করেন।

সংস্কৃতিক সমালোচক অনুরাগের মতে, বর্তমান প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা ভয় না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মুখ দেখিয়েই ব্যঙ্গাত্মক মিম তৈরি করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও হংকংয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের মিম থেকেও তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে।

এর পরই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপ শিক্ষামন্ত্রীর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে লেখা ছিল, “Hi, My Name Is Nothing”

সূত্র: আমার দেশ
ছবি: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬


মোদির রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেটিই তরুণদের প্রতিবাদের মাধ্যম

প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষার্থীদের ধারণ করা ভিডিও, ছবি, মিম ও বিভিন্ন অনলাইন পোস্টের মাধ্যমে আন্দোলনের নানা দৃশ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির বিরুদ্ধে তরুণদের প্রতিবাদের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

২০ জুলাই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থী ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের সরাতে পুলিশ অভিযান চালালে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

১৮ বছর বয়সী আন্দোলনকারী অবন্তিকা সিং আল-জাজিরাকে বলেন, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জের মধ্যেও তিনি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সম্পাদনা করে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, এখন সারা দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলনের ঘটনাগুলো দেখতে পারছে।

প্রায় এক যুগ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক প্রচারের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপি। তবে বর্তমানে একই প্ল্যাটফর্মে সরকারের সমালোচনা ও শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ আরও বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভের পর পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে লাঠিচার্জ, ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ এবং যন্তর মন্তরের বিভিন্ন ঘটনার দৃশ্য দেখা যায়।

এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পাটনা, লখনউ ও আইজলসহ ভারতের বিভিন্ন শহরেও প্রতিবাদ কর্মসূচি বিস্তৃত হয়।

বর্তমানে ‘ককারোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার সরকারি নিশ্চয়তা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ লাখ ৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান।

আন্দোলনের ভিডিও দেখে অনেক পরিবারের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ১৯ বছর বয়সী নিহারিকা সনি জানান, তার মা আগে নরেন্দ্র মোদির সমর্থক ছিলেন। তবে দিল্লির ঘটনার ভিডিও দেখার পর তারা একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শুরু করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীরা মিম, ব্যঙ্গচিত্র ও বিভিন্ন প্রতীকী উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ২০ বছর বয়সী ইপসিতা গুলিয়ারি বলেন, সরকার তরুণদের প্রতি দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে।

আন্দোলনকারীদের অনেককে মার্ভেলের সুপারহিরোদের পোশাক কিংবা জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’–এর প্রতীক ব্যবহার করে বিক্ষোভে অংশ নিতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, মূলধারার অনেক সংবাদমাধ্যম আন্দোলনের পর্যাপ্ত প্রচার না করায় তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ছোট স্বাধীন সংবাদমাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককারোচ জনতা পার্টি’ নামটি সামনে আসে। পরে আন্দোলনকারীরা সেটিকেই নিজেদের পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করেন।

সংস্কৃতিক সমালোচক অনুরাগের মতে, বর্তমান প্রজন্মের আন্দোলনকারীরা ভয় না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের মুখ দেখিয়েই ব্যঙ্গাত্মক মিম তৈরি করছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও হংকংয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের মিম থেকেও তারা অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।

চাপের মুখে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করা হয়েছে।

এর পরই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপ শিক্ষামন্ত্রীর ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট প্রকাশ করেন। সেখানে লেখা ছিল, “Hi, My Name Is Nothing”

সূত্র: আমার দেশ
ছবি: আমার দেশ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মোদির রাজনৈতিক শক্তির হাতিয়ার ছিল সোশ্যাল মিডিয়া, এখন সেটিই তরুণদের প্রতিবাদের মাধ্যম
0:00 0:00
1.0x