বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০১ ধারার অধীনে নেওয়া এ পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কের তুলনায় আরও শক্তিশালী। কারণ, অতীতেও এ ধারা আদালতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে টিকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) শেষ হবে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসবে না।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। তার মতে, এ উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।
গ্রিয়ার আরও জানান, যেসব দেশ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না। কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক বর্তমান বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদোত্তীর্ণ ১০ শতাংশ শুল্কের স্থলাভিষিক্ত হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তার বক্তব্য, নতুন শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়; বরং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের অংশ। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলো তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই প্রতিফলন।
ওই কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক উপায় ব্যবহার করে তাদের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে।
নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার অধীনে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক রয়েছে—যেমন গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে। কারণ এসব পণ্য উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ এবং এগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন উপাদান ব্যবহৃত হয়।
৩০১ ধারার অধীনে আরোপিত এ চূড়ান্ত শুল্ক কাঠামো মূলত ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক প্রস্তাবের অনুসরণে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইন ও তার প্রয়োগ রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং যেখানে এ ধরনের আইন বা প্রয়োগ অপর্যাপ্ত, সেসব দেশের পণ্যে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আইন সংশোধন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা এখন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।
গণশুনানির পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করেছে।
সূত্র: রয়টার্স

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯.৪ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট কিছু খাদ্যপণ্য এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এ শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০১ ধারার অধীনে নেওয়া এ পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি আগের শুল্কের তুলনায় আরও শক্তিশালী। কারণ, অতীতেও এ ধারা আদালতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে টিকে ছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করেছিল, যার মেয়াদ শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) শেষ হবে। একই সময় থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট (ইডিটি) পর্যন্ত পরিবহনাধীন পণ্য নতুন শুল্কের আওতায় আসবে না।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রায় এক শতাব্দী ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে আসছে। এখন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোরও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করা প্রয়োজন। তার মতে, এ উদ্যোগ মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিকৃত বাণিজ্যিক চর্চা মোকাবিলার পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।
গ্রিয়ার আরও জানান, যেসব দেশ ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন শুল্কের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক সেই সীমা অতিক্রম করবে না। কারণ এসব চুক্তিতে জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, ব্রিটেন, কম্বোডিয়া, কানাডা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চীনসহ বাকি ৩৮টি দেশের জন্য ১২.৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াইলি রেইনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল বলেন, নতুন শুল্ক বর্তমান বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মেয়াদোত্তীর্ণ ১০ শতাংশ শুল্কের স্থলাভিষিক্ত হবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তার বক্তব্য, নতুন শুল্ক কেবল আগের শুল্কের বিকল্প নয়; বরং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের অংশ। তার দাবি, এ ক্ষেত্রে অন্য দেশগুলো তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে থাকায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে।
তিনি আরও বলেন, কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলই দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে জোরপূর্বক শ্রম নির্মূলের আহ্বান জানিয়ে আসছে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই প্রতিফলন।
ওই কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজন হলে ট্রাম্প প্রশাসন শুল্কসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক উপায় ব্যবহার করে তাদের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে।
নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তেল ও গ্যাস, সার, নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য এবং যেসব পণ্যের ওপর আগে থেকেই ২৩২ ধারার অধীনে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত শুল্ক রয়েছে—যেমন গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামা।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা (ইউএসএমসিএ) বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্কের বাইরে থাকবে। কারণ এসব পণ্য উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশ এবং এগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মার্কিন উপাদান ব্যবহৃত হয়।
৩০১ ধারার অধীনে আরোপিত এ চূড়ান্ত শুল্ক কাঠামো মূলত ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রম শুল্ক প্রস্তাবের অনুসরণে নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইন ও তার প্রয়োগ রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং যেখানে এ ধরনের আইন বা প্রয়োগ অপর্যাপ্ত, সেসব দেশের পণ্যে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
এদিকে ভারতসহ কয়েকটি দেশ সাম্প্রতিক সময়ে আইন সংশোধন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তারা এখন ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।
গণশুনানির পর মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত পণ্য এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থকেও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতির তালিকায় যুক্ত করেছে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন