বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার আলোচনার আহ্বান জানালেও সিজেপি মন্ত্রীদের বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে অংশ নেবে না। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য সরকারকে যন্তর-মন্তরে অথবা উভয় পক্ষের সম্মত নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আগেও সরকার আলোচনার জন্য তাদের ডেকেছিল। তবে সে সময় দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে মাত্র ১০ মিনিট কথা বলা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার তারা মন্ত্রীদের বাসভবনে বৈঠকে যাবেন না।
দিপকের বক্তব্য, সরকার যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় আগ্রহী হয়, তাহলে যন্তর-মন্তর কিংবা উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা আয়োজন করা উচিত।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি পুরোনো ছবি প্রসঙ্গে, যেখানে তাকে ওড়িশায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল, দিপকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর যন্তর-মন্তরে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, সেখানে তাকে স্বাগত জানানো হবে এবং তার পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত রাখা হবে, যেখানে তাকে শুধু স্বাক্ষর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণার বিষয়ে দিপকে বলেন, এটি একটি অস্পষ্ট ঘোষণা। তার দাবি, প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি পুনরায় বলেন, তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে যন্তর-মন্তরে আর কোনো রক্ত ঝরানো উচিত নয়। তার দাবি, ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দায় শিক্ষামন্ত্রীর ওপর বর্তায়।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, আন্দোলন এখন আর শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই। মুম্বাই, নাসিক, মিজোরাম, জয়পুর, মধ্যপ্রদেশ ও বেঙ্গালুরুসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, লাখো মানুষ যখন একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে, তখন একজন মন্ত্রীর পদ রক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, তা তার বোধগম্য নয়। তার মতে, লাখো শিক্ষার্থীর চেয়ে কোনো শিক্ষামন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না।
দিপকের ভাষ্য, এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে-ই শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন, তিনি যেন বুঝতে পারেন—দায়িত্বে অবহেলা, প্রশ্নফাঁস বা কোনো শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার পদও নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরে হাজারো মানুষ সমবেত হন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই তরুণ শিক্ষার্থী। নিট প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বেকারত্ব, সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকারি নিয়োগ ও পাবলিক পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন যন্তর-মন্তরে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২৮ জুন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দিলে আন্দোলনটি দেশজুড়ে আরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার আলোচনার আহ্বান জানালেও সিজেপি মন্ত্রীদের বাসভবনে গিয়ে বৈঠকে অংশ নেবে না। তার ভাষ্য, আলোচনার জন্য সরকারকে যন্তর-মন্তরে অথবা উভয় পক্ষের সম্মত নিরপেক্ষ কোনো স্থানে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আগেও সরকার আলোচনার জন্য তাদের ডেকেছিল। তবে সে সময় দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে মাত্র ১০ মিনিট কথা বলা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার তারা মন্ত্রীদের বাসভবনে বৈঠকে যাবেন না।
দিপকের বক্তব্য, সরকার যদি আন্তরিকভাবে আলোচনায় আগ্রহী হয়, তাহলে যন্তর-মন্তর কিংবা উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা আয়োজন করা উচিত।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের একটি পুরোনো ছবি প্রসঙ্গে, যেখানে তাকে ওড়িশায় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল, দিপকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর যন্তর-মন্তরে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, সেখানে তাকে স্বাগত জানানো হবে এবং তার পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত রাখা হবে, যেখানে তাকে শুধু স্বাক্ষর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণার বিষয়ে দিপকে বলেন, এটি একটি অস্পষ্ট ঘোষণা। তার দাবি, প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপের কথা সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। তিনি পুনরায় বলেন, তাদের মূল দাবি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে রক্ষা করতে গিয়ে যন্তর-মন্তরে আর কোনো রক্ত ঝরানো উচিত নয়। তার দাবি, ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর দায় শিক্ষামন্ত্রীর ওপর বর্তায়।
অভিজিৎ দিপকের দাবি, আন্দোলন এখন আর শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ নেই। মুম্বাই, নাসিক, মিজোরাম, জয়পুর, মধ্যপ্রদেশ ও বেঙ্গালুরুসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, লাখো মানুষ যখন একজন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছে, তখন একজন মন্ত্রীর পদ রক্ষা এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, তা তার বোধগম্য নয়। তার মতে, লাখো শিক্ষার্থীর চেয়ে কোনো শিক্ষামন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না।
দিপকের ভাষ্য, এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য জবাবদিহি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যে-ই শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন, তিনি যেন বুঝতে পারেন—দায়িত্বে অবহেলা, প্রশ্নফাঁস বা কোনো শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনায় তার পদও নিরাপদ থাকবে না।
এদিকে বৃহস্পতিবারও দিল্লির যন্তর-মন্তরে হাজারো মানুষ সমবেত হন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই তরুণ শিক্ষার্থী। নিট প্রশ্নফাঁসের পাশাপাশি বেকারত্ব, সিবিএসইর অনলাইন মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ এবং সরকারি নিয়োগ ও পাবলিক পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৬ জুন যন্তর-মন্তরে এ আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে ২৮ জুন লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দিলে আন্দোলনটি দেশজুড়ে আরও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সূত্র: এনডিটিভি

আপনার মতামত লিখুন