পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক লেনদেন সহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার তালিকাভুক্তিতে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়মের জেরে অতীতে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সাথে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধেও গ্রাহকরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে পছন্দের মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তাদের কারণে যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎসেবায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মে মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে আরইবির নির্দেশিকা (১০০-৫২) অনুযায়ী না থাকা কয়েকটি অতিরিক্ত শর্ত সংযোজন করা হয়। এর মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও লাইনম্যানের সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুরু থেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই এসব শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেয় রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়। একই সাথে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম। প্রাথমিকভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নোটিশ না দিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানো হয়। অনেক ঠিকাদার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ সময় পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পূর্বে তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হিসেবে ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হাসান সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন এবং পুরো তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর গোপনে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব রংপুরে পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সব প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ আবারও একই ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ১০ মে ওই ৩১টি এবং ২১ মে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ ঘটনায় তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান, ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, আমি ১৯৯০ সাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেমে সুনামের সাথে কাজ করে আসছি। এবারও নিয়ম অনুযায়ী আমার নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির আবেদন করেছি। আমার প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক তালিকাভুক্ত লাভ করে। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ঠাকুরগাঁও পবিসের ভৌগলিক এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও আমার প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হওয়া সত্ত্বেও আমার প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয় নাই। অথচ সাতক্ষীরা এবং ঢাকার মতো দূরের প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়। এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, সেখানে ইঞ্জিনিয়াররাই বিষয়টি দেখাশোনা করেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার ৪-৫ মাস হয়ে গেছে। বিষয়টি আমার মনে নেই। আমি চলে আসার পর সেখানে আরও জিএম ছিলেন, তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন বলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জেনারেল ম্যানেজার ও অনুমোদনকারি কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডেল করেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমি শুধু একজন সদস্য ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারি সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য অন্যদের কাগজপত্র গ্রহণ না করার বিষয়টি অফিস প্রধানের এখতিয়ার। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।
বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি আমি যোগদান করার আগে । ১৭২টি প্রাথমিক তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগে কীভাবে হয়েছে, তা আমার জানা নেই।অনিয়ম দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মোট ১৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঠিক থাকায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নিয়ে সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠায়। আমি উক্ত ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের ফাইল ফেরত প্রদান করে সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য লিখিত নির্দেশ দেই।
সব প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত অনুমোদন দিয়েছেন মর্মে প্রশ্ন করলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও ডিজিএম কারিগরি এর সাথে কথা বলেছিলাম , তারা আমাকে জানিয়েছিলেন এক সাথে সব প্রতিষ্ঠানের আবেদন ফাইল যাচাই-বাছাই করতে পর্যাপ্ত সময় লাগবে এতে অফিসের গ্রাহকসেবা বিঘ্ন হবে বিধায় পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব প্রেরণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোথাও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই। যারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছেন, তারা যেকোনো সময় সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে পারেন। নিজের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে, একই অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। আমি ঠাকুরগাঁও এর জেনারেল ম্যানেজার ও ডিজিএম কারিগরি কে ফোন করলে তারা বলেন আমাদের কাছে আর কোন প্রতিষ্ঠান সাময়িক তালিকাভুক্ত করার জন্য কাগজপত্র জমা দেননি।আমি দুইবার নির্দেশনা দিয়েছি, কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। কেন গড়িমসি করছে, সেটি আমার জানা নেই।
এছাড়াও তিনি বলেন, ১৭২টি প্রতিষ্ঠানই সাময়িক তালিকাভুক্ত হলেও কোনো সমস্যা নেই। যার ইচ্ছা সে কাজ করবে। ঠিকাদারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জমা দিতে গেলে অনেকের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে। ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রেরণকারি জেনারেল ম্যানেজার যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আছেন এবং ০৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রেরণকারি জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্রনাথ চাকরি হতে অবসরে গিয়েছেন। এবং ইতিমধ্যে এজিএম ইএন্ডসি নাহিদ সিরাজ পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এ বদলী হয়েছেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে নিউজ করা হয় এবং বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আশরাফুল আলম খান বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গত ১২/০৭/২০২৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ পত্রের কপি প্রেরণ করলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত এব্যাপারে কোন অগ্রগতি নেই। অভিযোগ প্রেরণের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।
উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভৌগলিক এলাকা ঠাকুরগাঁও জেলা এবং পঞ্চগড় জেলার মোট ১২ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুইটি জেলায় ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ০৯ টি জোনাল অফিস রয়েছে, এসব অফিসের মাধ্যমে দুটি জেলায় প্রায় আট লক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এবং প্রায় ২০ লক্ষ লোক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারগনের দাবি, বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল আলম খান সিন্ডিকেটের মূল হোতা ডিজিএম কারিগরি লূতফর হাসান সরকার এর যোগসাজশে ইচ্ছে করে বিধি মোতাবেক সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন না। যাহা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও এক তরফা ভাবে খামখেয়ালি ছাড়া কিছুই না।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মোঃ জাহিদ হাসান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আশরাফুল আলম খান এতো বড় ভৌগলিক এলাকায় জেনারেল ম্যানেজার এর দায়িত্ব পালন করলে দুটি জেলায় গ্রাহকসেবার মান বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত রাখলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎসেবায় ভোগান্তির মুখে পড়বেন। বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অযৌক্তিক বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবছর নবায়ন ফি থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুযায়ী সাময়িক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুলাই ২০২৬
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীনে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে (পবিস) মিনি ঠিকাদার তালিকাভুক্তিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, সিন্ডিকেট এবং আর্থিক লেনদেন সহ অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক পর্যায়ে ঘুষ বাণিজ্য, অতিরিক্ত ও ‘ভূতুড়ে’ বিল আদায়, টেন্ডারে অনিয়ম এবং দীর্ঘ লোডশেডিং ও ঠিকাদার তালিকাভুক্তিতে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
এসব অনিয়মের জেরে অতীতে জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সাথে পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধেও গ্রাহকরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি নীতিমালা ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপনে পছন্দের মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পর্যন্ত দেয়া হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। তাদের কারণে যোগ্য অনেক প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হয়েছে এবং সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎসেবায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা যায়, স্বল্প দৈর্ঘ্যের বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেডেশন কাজের জন্য ২০২৫ সালের ৬ মে মিনি ঠিকাদার প্রাথমিক তালিকাভুক্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার টাকা এবং ১৫ মে পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে আরইবির নির্দেশিকা (১০০-৫২) অনুযায়ী না থাকা কয়েকটি অতিরিক্ত শর্ত সংযোজন করা হয়। এর মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজার ও লাইনম্যানের সনদ বাধ্যতামূলক করা এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।
ভুক্তভোগীদের দাবি, শুরু থেকেই নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতেই এসব শর্ত যুক্ত করা হয়েছিল। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে মোট ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে অনুমোদন দেয় রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়। একই সাথে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণ করে সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর থেকেই শুরু হয় অনিয়ম। প্রাথমিকভাবে অনুমোদনপ্রাপ্ত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে কোনো নোটিশ না দিয়ে দিনের পর দিন অফিসে ঘোরানো হয়। অনেক ঠিকাদার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে গেলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, এ সময় পল্লী বিদ্যুতের কয়েকজন কর্মকর্তা এবং পূর্বে তালিকাভুক্ত কিছু ঠিকাদারকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হিসেবে ডিজিএম (কারিগরি) প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হাসান সরকারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন এবং পুরো তালিকাভুক্তি প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখেন।
তাদের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর গোপনে মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব রংপুরে পাঠানো হয়। এর প্রেক্ষিতে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সব প্রাথমিক অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করে ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ আবারও একই ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ১০ মে ওই ৩১টি এবং ২১ মে আরও ৮টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপন রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
এ ঘটনায় তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান, ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (ই অ্যান্ড সি) নাহিদ ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও আরাফাত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক বলেন, আমি ১৯৯০ সাল থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেমে সুনামের সাথে কাজ করে আসছি। এবারও নিয়ম অনুযায়ী আমার নিজস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির আবেদন করেছি। আমার প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক তালিকাভুক্ত লাভ করে। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক ঠাকুরগাঁও পবিসের ভৌগলিক এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও আমার প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার হওয়া সত্ত্বেও আমার প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয় নাই। অথচ সাতক্ষীরা এবং ঢাকার মতো দূরের প্রতিষ্ঠানকে সাময়িক তালিকাভুক্ত করা হয়। এটা সম্পূর্ণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর নির্দেশ অমান্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তৎকালীন জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান বলেন, সেখানে ইঞ্জিনিয়াররাই বিষয়টি দেখাশোনা করেন। আমি সেখান থেকে চলে আসার ৪-৫ মাস হয়ে গেছে। বিষয়টি আমার মনে নেই। আমি চলে আসার পর সেখানে আরও জিএম ছিলেন, তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন বলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
ডিজিএম (কারিগরি) মো. লুৎফুল হাসান সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার তালিকাভুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে জেনারেল ম্যানেজার ও অনুমোদনকারি কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডেল করেন। এখানে আমার কোনো হাত নেই। যাচাই-বাছাই কমিটিতে আমি শুধু একজন সদস্য ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারি সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য অন্যদের কাগজপত্র গ্রহণ না করার বিষয়টি অফিস প্রধানের এখতিয়ার। এখানে আমার কিছু করার ছিল না।
বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, মিনি ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি আমি যোগদান করার আগে । ১৭২টি প্রাথমিক তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৯টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হয়েছে। আগে কীভাবে হয়েছে, তা আমার জানা নেই।অনিয়ম দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে বলেন, অনিয়ম বা দুর্নীতির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
অন্যদিকে রংপুর জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, মোট ১৭৬টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ১৭২টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সঠিক থাকায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারকে সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নিয়ে সাময়িক তালিকাভুক্তির প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা মাত্র ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠায়। আমি উক্ত ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবের ফাইল ফেরত প্রদান করে সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাঠানোর জন্য লিখিত নির্দেশ দেই।
সব প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়ার পরেও কেন ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত অনুমোদন দিয়েছেন মর্মে প্রশ্ন করলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, আমি ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ও ডিজিএম কারিগরি এর সাথে কথা বলেছিলাম , তারা আমাকে জানিয়েছিলেন এক সাথে সব প্রতিষ্ঠানের আবেদন ফাইল যাচাই-বাছাই করতে পর্যাপ্ত সময় লাগবে এতে অফিসের গ্রাহকসেবা বিঘ্ন হবে বিধায় পর্যায়ক্রমে সব প্রতিষ্ঠানের সাময়িক তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব প্রেরণ করবেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের কোথাও কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা নেই। যারা প্রাথমিকভাবে অনুমোদিত হয়েছেন, তারা যেকোনো সময় সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে পারেন। নিজের নির্দেশনা অমান্যের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে যে অভিযোগ এসেছে, একই অভিযোগ আমার কাছেও এসেছে। আমি ঠাকুরগাঁও এর জেনারেল ম্যানেজার ও ডিজিএম কারিগরি কে ফোন করলে তারা বলেন আমাদের কাছে আর কোন প্রতিষ্ঠান সাময়িক তালিকাভুক্ত করার জন্য কাগজপত্র জমা দেননি।আমি দুইবার নির্দেশনা দিয়েছি, কিন্তু তারা তা বাস্তবায়ন করেনি। কেন গড়িমসি করছে, সেটি আমার জানা নেই।
এছাড়াও তিনি বলেন, ১৭২টি প্রতিষ্ঠানই সাময়িক তালিকাভুক্ত হলেও কোনো সমস্যা নেই। যার ইচ্ছা সে কাজ করবে। ঠিকাদারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, সাময়িক তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জমা দিতে গেলে অনেকের আবেদন গ্রহণ করা হয়নি এবং বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয়েছে। ৩১টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রেরণকারি জেনারেল ম্যানেজার যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে আছেন এবং ০৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব প্রেরণকারি জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্রনাথ চাকরি হতে অবসরে গিয়েছেন। এবং ইতিমধ্যে এজিএম ইএন্ডসি নাহিদ সিরাজ পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ এ বদলী হয়েছেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে নিউজ করা হয় এবং বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আশরাফুল আলম খান বরাবর রেজিস্ট্রি ডাকযোগে গত ১২/০৭/২০২৬ ইং তারিখে লিখিত অভিযোগ ও সংবাদ পত্রের কপি প্রেরণ করলেও অদ্যাবধি পর্যন্ত এব্যাপারে কোন অগ্রগতি নেই। অভিযোগ প্রেরণের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি।
উল্লেখ্য যে, ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভৌগলিক এলাকা ঠাকুরগাঁও জেলা এবং পঞ্চগড় জেলার মোট ১২ টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। দুইটি জেলায় ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ০৯ টি জোনাল অফিস রয়েছে, এসব অফিসের মাধ্যমে দুটি জেলায় প্রায় আট লক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ আছে এবং প্রায় ২০ লক্ষ লোক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সেবার আওতায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারগনের দাবি, বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মোঃ আশরাফুল আলম খান সিন্ডিকেটের মূল হোতা ডিজিএম কারিগরি লূতফর হাসান সরকার এর যোগসাজশে ইচ্ছে করে বিধি মোতাবেক সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন না। যাহা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও এক তরফা ভাবে খামখেয়ালি ছাড়া কিছুই না।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মোঃ জাহিদ হাসান এর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মোঃ আশরাফুল আলম খান এতো বড় ভৌগলিক এলাকায় জেনারেল ম্যানেজার এর দায়িত্ব পালন করলে দুটি জেলায় গ্রাহকসেবার মান বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
মাত্র ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত রাখলে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎসেবায় ভোগান্তির মুখে পড়বেন। বিদ্যুৎ সংযোগ, লাইন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে অযৌক্তিক বিলম্ব, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং গ্রাহক হয়রানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবছর নবায়ন ফি থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হবে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদাররা নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পাওয়া সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে বিধি অনুযায়ী সাময়িক তালিকাভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দুর্নীতি দমন কমিশনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন