নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী শরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের যে প্রতিশ্রুতি মামদানি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মেয়র ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
রোববার (২৭ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব শহরের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা—ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সবার। কিন্তু তার অভিযোগ, মামদানি একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে মামদানির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত বছরের নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন মামদানি এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে গত সপ্তাহে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, এ ধরনের পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নেই।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে মামদানি জানান, তার প্রশাসন বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাগত জানায় না।
এদিকে নিউইয়র্কে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি ছুরিকাঘাতের ঘটনাও মামদানির সমালোচনায় উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি কয়েক ব্লকের ব্যবধানে এক ইহুদি ও এক এশীয় ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। হামলার সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত দুজনই প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, এসব ঘটনার কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহুও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে তারা নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আগামী শরতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে তার নিউইয়র্ক সফরের কথা রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের যে প্রতিশ্রুতি মামদানি দিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, মেয়র ঘৃণা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
রোববার (২৭ জুলাই) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে মামদানির দায়িত্ব শহরের সব নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করা—ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সবার। কিন্তু তার অভিযোগ, মামদানি একটি সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়কে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে মামদানির কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
গত বছরের নির্বাচনী প্রচারে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেন মামদানি এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে গত সপ্তাহে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বলেন, এ ধরনের পরোয়ানা কার্যকর করার স্বাধীন আইনি ক্ষমতা নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের নেই।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে মামদানি জানান, তার প্রশাসন বিষয়টি আইনগতভাবে পর্যালোচনা করেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের প্রতি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আহ্বান জানান। এছাড়া তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে নিউইয়র্ক সিটি স্বাগত জানায় না।
এদিকে নিউইয়র্কে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি ছুরিকাঘাতের ঘটনাও মামদানির সমালোচনায় উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি কয়েক ব্লকের ব্যবধানে এক ইহুদি ও এক এশীয় ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করেন। হামলার সময় তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বলে চিৎকার করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত দুজনই প্রাণে বেঁচে গেছেন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর দাবি, এসব ঘটনার কারণে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহুও এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। ২০২৪ সালে গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আইসিসি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বাধীন হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার পর গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। এরপর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দাবি করেছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যানকে তারা নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে।
তথ্যসূত্র: ফক্স নিউজ, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি

আপনার মতামত লিখুন