বাবার হাত ধরেই জীবনের প্রথম স্কুলে পা রাখা, পরীক্ষার আগের রাতে যার দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না—সেই প্রিয় বাবাকে চিরতরে হারিয়েও পরীক্ষার টেবিলে বসতে হলো নওগাঁর পত্নীতলার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা মৌকে। বাড়িতে পরম মমতায় রাখা বাবার নিথর দেহ, আর কেন্দ্রে বসে এক হাতে চোখের জল মুছে অন্য হাতে খাতায় উত্তর লিখে চলেছেন বাকরুদ্ধ আয়শা।
বুধবার নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। আয়শা সিদ্দিকা মৌ নজিপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি নজিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা এবং ধামইরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মরহুম মিজানুর রহমানের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আয়শার বাবা মিজানুর রহমান। বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও স্বজন ও সহপাঠীদের সাহসে বুধবার সকালে জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে ছোটেন আয়শা।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হতেই বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আয়শার সহপাঠীরা জানান, “মাথার ওপর থেকে জীবনের সবচেয়ে বড় বটবৃক্ষ হারিয়েও পরীক্ষা দিতে হয়েছিল মৌকে। কান্না সামলে পুরোটা সময় ও যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে, তা দেখে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছিল।”

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
বাবার হাত ধরেই জীবনের প্রথম স্কুলে পা রাখা, পরীক্ষার আগের রাতে যার দুশ্চিন্তার অন্ত ছিল না—সেই প্রিয় বাবাকে চিরতরে হারিয়েও পরীক্ষার টেবিলে বসতে হলো নওগাঁর পত্নীতলার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আয়শা সিদ্দিকা মৌকে। বাড়িতে পরম মমতায় রাখা বাবার নিথর দেহ, আর কেন্দ্রে বসে এক হাতে চোখের জল মুছে অন্য হাতে খাতায় উত্তর লিখে চলেছেন বাকরুদ্ধ আয়শা।
বুধবার নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। আয়শা সিদ্দিকা মৌ নজিপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি নজিপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ পাড়ার বাসিন্দা এবং ধামইরহাট উপজেলার গাংরা ইসলামিয়া বালিকা আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মরহুম মিজানুর রহমানের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগে মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আয়শার বাবা মিজানুর রহমান। বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও স্বজন ও সহপাঠীদের সাহসে বুধবার সকালে জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে ছোটেন আয়শা।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হতেই বাঁধভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আয়শার সহপাঠীরা জানান, “মাথার ওপর থেকে জীবনের সবচেয়ে বড় বটবৃক্ষ হারিয়েও পরীক্ষা দিতে হয়েছিল মৌকে। কান্না সামলে পুরোটা সময় ও যেভাবে পরীক্ষা দিয়েছে, তা দেখে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছিল।”

আপনার মতামত লিখুন