ঢাকা    শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

অপরাধ

জুলাইয়ে কমেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা

জুলাইয়ে কমেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা
জুলাইয়ে কমেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা

দেশে জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের সামগ্রিক ঘটনা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির সভাপতি সুলতানা কামালের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমএসএফ জানায়, জুলাই মাসে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে, যেখানে জুন মাসে এ সংখ্যা ছিল ৬৮। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির মতে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক চাপ—এসব বিষয় এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১১ নবজাতক বা শিশুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এমএসএফের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা শিশু অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি অধিকাংশ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত কিংবা আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও জোরদার হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ জুন মাসের ১৩টি থেকে জুলাইয়ে বেড়ে ১৪টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে এ-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৯৩ জন হয়েছে। এছাড়া, মাদক কারবারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। এমএসএফের মতে, এ ধরনের অভিযোগ মানুষের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নতুন সামাজিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুন মাসে অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য না থাকলেও জুলাই মাসে এ অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমএসএফ মনে করে, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিস্তার বহুমাত্রিক সামাজিক ও মানবাধিকার সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে এমএসএফ বলেছে, শুধু অপরাধের মোট সংখ্যা বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন যথেষ্ট নয়। বরং অপরাধের ধরন, এর নির্মমতা এবং ভুক্তভোগীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার, মাদক ও অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬


জুলাইয়ে কমেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা

প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

দেশে জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের সামগ্রিক ঘটনা কিছুটা কমলেও ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির সভাপতি সুলতানা কামালের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি জাতীয় দৈনিক এবং স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩৩ শতাংশ এবং আত্মহত্যার ঘটনা প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমএসএফ জানায়, জুলাই মাসে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ পৌঁছেছে, যেখানে জুন মাসে এ সংখ্যা ছিল ৬৮। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে ধর্ষণের ঘটনা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে আত্মহত্যার ঘটনা ১৭ থেকে বেড়ে ২৮-এ দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটির মতে, নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং মানসিক চাপ—এসব বিষয় এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১১ নবজাতক বা শিশুকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এমএসএফের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা শিশু অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। পাশাপাশি অধিকাংশ ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত কিংবা আইনের আওতায় আনা সম্ভব না হওয়ায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও জোরদার হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়েছে।

মাদক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ জুন মাসের ১৩টি থেকে জুলাইয়ে বেড়ে ১৪টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে এ-সংক্রান্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৩৪ থেকে বেড়ে ৯৩ জন হয়েছে। এছাড়া, মাদক কারবারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে। এমএসএফের মতে, এ ধরনের অভিযোগ মানুষের ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থাকে দুর্বল করতে পারে।

অন্যদিকে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নতুন সামাজিক সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জুন মাসে অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত কোনো গ্রেপ্তারের তথ্য না থাকলেও জুলাই মাসে এ অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমএসএফ মনে করে, তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনলাইন জুয়ার বিস্তার বহুমাত্রিক সামাজিক ও মানবাধিকার সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে এমএসএফ বলেছে, শুধু অপরাধের মোট সংখ্যা বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন যথেষ্ট নয়। বরং অপরাধের ধরন, এর নির্মমতা এবং ভুক্তভোগীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দ্রুত বিচার, মাদক ও অনলাইন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

সূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - সর্বজিৎ চাকমা

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
জুলাইয়ে কমেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মোট ঘটনা, তবে বেড়েছে ধর্ষণ ও আত্মহত্যা
0:00 0:00
1.0x