সরকারে দায়িত্বে থাকলেও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জনগণের রাজনীতি থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হননি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত অশালীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদদের নিয়ে কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলটি মালিটোলা পার্ক থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, "দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যারা নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ, অশ্রাব্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—আমরা রাজনীতি কিংবা আত্মমর্যাদার সংগ্রাম ভুলে যাইনি। গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সেই পুরোনো সংগ্রামের কথাও আমাদের স্মরণে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা মহান স্বাধীনতার চেতনাকে সর্বদা ধারণ করি। তবে স্বাধীনতার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যের চরিত্র হনন বা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।"
তরুণদের রাজনীতি ও নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "গণতান্ত্রিক যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই। তরুণদের নতুন একটি রাজনৈতিক দলকে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি। তাদের অনেকেই বর্তমানে আমাদের সঙ্গে সংসদে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সেই দলের মধ্যে দু-একজন বেয়াদব ঢুকে পড়েছে, যারা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে মূলত ক্ষমতাচ্যুত খুনি হাসিনার এজেন্ডা ও স্বার্থ বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হলে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে পরাজিত স্বৈরাচারী দল।
অশালীন বক্তব্য এবং রাজনীতিকে নষ্ট করার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—সরকার আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে; কিন্তু রাজপথ ও জনগণের রাজনীতি থেকে কখনো পিছিয়ে পড়া যাবে না। জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।"
প্রতিবাদী মশাল মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু, শ্রমিক দল দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণ শাখার সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং ছাত্রদল দক্ষিণ শাখার সভাপতি শামীম মাহমুদসহ যুবদল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
সরকারে দায়িত্বে থাকলেও রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জনগণের রাজনীতি থেকে তারা বিচ্ছিন্ন হননি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত অশালীন বক্তব্য অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শীর্ষ রাজনীতিবিদদের নিয়ে কটূক্তি ও অশালীন বক্তব্যের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল মশাল মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। মিছিলটি মালিটোলা পার্ক থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নয়াপল্টনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, "দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যারা নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ, অশ্রাব্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—আমরা রাজনীতি কিংবা আত্মমর্যাদার সংগ্রাম ভুলে যাইনি। গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সেই পুরোনো সংগ্রামের কথাও আমাদের স্মরণে রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা মহান স্বাধীনতার চেতনাকে সর্বদা ধারণ করি। তবে স্বাধীনতার নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যের চরিত্র হনন বা গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে, তাহলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।"
তরুণদের রাজনীতি ও নতুন রাজনৈতিক দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "গণতান্ত্রিক যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই। তরুণদের নতুন একটি রাজনৈতিক দলকে আমরা সাদরে গ্রহণ করেছি। তাদের অনেকেই বর্তমানে আমাদের সঙ্গে সংসদে রয়েছেন এবং তাদের সঙ্গে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তবে সেই দলের মধ্যে দু-একজন বেয়াদব ঢুকে পড়েছে, যারা দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করে মূলত ক্ষমতাচ্যুত খুনি হাসিনার এজেন্ডা ও স্বার্থ বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হলে এর সবচেয়ে বড় সুবিধা পাবে পরাজিত স্বৈরাচারী দল।
অশালীন বক্তব্য এবং রাজনীতিকে নষ্ট করার অপচেষ্টা বন্ধ না হলে রাজপথে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—সরকার আজ আছে, কাল নাও থাকতে পারে; কিন্তু রাজপথ ও জনগণের রাজনীতি থেকে কখনো পিছিয়ে পড়া যাবে না। জনগণের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলব।"
প্রতিবাদী মশাল মিছিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান মিন্টু, শ্রমিক দল দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল দক্ষিণ শাখার সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন এবং ছাত্রদল দক্ষিণ শাখার সভাপতি শামীম মাহমুদসহ যুবদল, মহিলা দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

আপনার মতামত লিখুন