ভোলার মনপুরায় খাদ্য গুদামের নতুন ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, পাথর ব্যবহার, নির্ধারিত অনুপাতে বালি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী একসঙ্গে আটটি সাইটের দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে নির্মাণাধীন ভবন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল নির্মাণ ও ঢালাইয়ের কাজে নির্ধারিত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেয়ালে দুই স্তরে ৫ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনির মাঝখানে ২.৫ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এছাড়া ঢালাইয়ের কাজে ১.৮ অনুপাতে মোটা (স্লিক্সেন) বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ০.৮০ অনুপাতের নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু ইটের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দেয়ালে ঢালাই দেওয়ার বিষয়ে সাইটের কেরানি তাদের নিষেধ করেছেন। তবে কেন ঢালাই দিতে নিষেধ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ওয়াল ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হবে।”
তবে একসঙ্গে একাধিক সাইটের দায়িত্বে থাকায় প্রতিটি নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন তিনি। প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি একসঙ্গে আটটি সাইট দেখাশোনা করছি। তাই আমার পক্ষে সবগুলো সাইট সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হয় না।”
প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার কাজে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে নির্মাণমান কীভাবে বজায় থাকবে?
ডিসি ফুড সরোয়ার আলমের বক্তব্য
সরোয়ার আলম ( ডিসি ফুড) মুঠোফোনে জানান, এটি আমার তদারকি করা দাপ্তরিক কাজের মধ্যে পড়েনা। আমার এই বিষয়ে কোন অফিসিয়াল বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। তবু ও আপনারা যেহেতু জানিয়েছেন আমি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে বলে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। অফিসিয়াল বক্তব্য নিতে হলে আমাদের বিভাগীয় কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে কথা বলতে হবে বলে ও জানান মি. সারোয়ার আলম।
ঠিকাদারের বক্তব্য
নির্মাণকাজে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, নির্ধারিত ওয়ার্ক অর্ডারে দেয়ালের দুই গাঁথুনির মাঝখানে ঢালাই দেয়ার কোন নির্দেশনা নাই। তবে ইঞ্জিনিয়ার আমাকে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেয় যে, ঢালাই দিতে হবে। সে অনুয়ায়ী দেয়াল ভেঙে ঢালাইয়ের কাজ চলমান আছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণকাজে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়ে থাকলে তা অপসারণ করে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরকারি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও ভবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
ভোলার মনপুরায় খাদ্য গুদামের নতুন ভবন নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, পাথর ব্যবহার, নির্ধারিত অনুপাতে বালি না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী একসঙ্গে আটটি সাইটের দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত ও কার্যকর তদারকি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিনে নির্মাণাধীন ভবন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল নির্মাণ ও ঢালাইয়ের কাজে নির্ধারিত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দেয়ালে দুই স্তরে ৫ ইঞ্চি ইটের গাঁথুনির মাঝখানে ২.৫ ইঞ্চি ঢালাই দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। এছাড়া ঢালাইয়ের কাজে ১.৮ অনুপাতে মোটা (স্লিক্সেন) বালি ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে প্রায় ০.৮০ অনুপাতের নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু ইটের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হলে ভবনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
নির্মাণকাজে নিয়োজিত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, দেয়ালে ঢালাই দেওয়ার বিষয়ে সাইটের কেরানি তাদের নিষেধ করেছেন। তবে কেন ঢালাই দিতে নিষেধ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে সে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি।
প্রকৌশলীর বক্তব্য
অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কাজের প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। ওয়াল ভেঙে নতুন করে ঢালাই দেওয়া হবে।”
তবে একসঙ্গে একাধিক সাইটের দায়িত্বে থাকায় প্রতিটি নির্মাণকাজ যথাযথভাবে তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও স্বীকার করেন তিনি। প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান বলেন, “আমি একসঙ্গে আটটি সাইট দেখাশোনা করছি। তাই আমার পক্ষে সবগুলো সাইট সঠিকভাবে তদারকি করা সম্ভব হয় না।”
প্রকৌশলীর এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি অর্থে নির্মাণাধীন গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার কাজে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না হলে নির্মাণমান কীভাবে বজায় থাকবে?
ডিসি ফুড সরোয়ার আলমের বক্তব্য
সরোয়ার আলম ( ডিসি ফুড) মুঠোফোনে জানান, এটি আমার তদারকি করা দাপ্তরিক কাজের মধ্যে পড়েনা। আমার এই বিষয়ে কোন অফিসিয়াল বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। তবু ও আপনারা যেহেতু জানিয়েছেন আমি ইঞ্জিনিয়ার সাহেবের সাথে বলে যথাযথ ব্যবস্থা নিবো। অফিসিয়াল বক্তব্য নিতে হলে আমাদের বিভাগীয় কর্মকর্তা মহোদয়ের সাথে কথা বলতে হবে বলে ও জানান মি. সারোয়ার আলম।
ঠিকাদারের বক্তব্য
নির্মাণকাজে অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জানান, নির্ধারিত ওয়ার্ক অর্ডারে দেয়ালের দুই গাঁথুনির মাঝখানে ঢালাই দেয়ার কোন নির্দেশনা নাই। তবে ইঞ্জিনিয়ার আমাকে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেয় যে, ঢালাই দিতে হবে। সে অনুয়ায়ী দেয়াল ভেঙে ঢালাইয়ের কাজ চলমান আছে।
তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত এ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণকাজে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার হয়ে থাকলে তা অপসারণ করে নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরকারি প্রকল্পের অর্থের যথাযথ ব্যবহার ও ভবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন