ঢাকা    মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

বিশেষ সংবাদ

গোদাগাড়ীতে সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

গোদাগাড়ীতে সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মোসা. কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, অপারেশন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত বলেও দাবি করেন তারা।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী কমলি বেগমকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তানজিল কুমার। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে কমলি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

প্রসূতির ভাতিজা রুবেল ইসলাম তার চাচি পারভিন বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, অপারেশনে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি জানালা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বড় চাদর রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল ইসলাম অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় একটি রক্তনালি কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ওই সময় হাসপাতালে না রেখে দ্রুত রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল খালেক বলেন, ডা. শারমিন শওকতের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি হয়। এ সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. তানজিল কুমার, হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুর উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শারমিন শওকত বলেন, সহযোগী হিসেবে কাউকে উপস্থিত থাকতে হয়, সে কারণেই তিনি সেখানে ছিলেন। তবে তিনি প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ সহযোগী কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসকটি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের পরিচালক নিজেও কখনো কখনো সিজারিয়ান অপারেশনে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মৃতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান এবং বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রসূতি কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হোক। চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা বা জরুরি চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপারেশন ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও সহায়ক জনবলের যোগ্যতা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬


গোদাগাড়ীতে সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ১০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় মোসা. কমলি বেগম (৩৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাতে গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, অপারেশন ব্যবস্থাপনা ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিহতের স্বজনরা।

নিহতের স্বজনদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত বলেও দাবি করেন তারা।

জানা গেছে, গোদাগাড়ী পৌর সদরের মেডিকেল মোড় এলাকার মনিরুল ইসলামের স্ত্রী কমলি বেগমকে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে সন্তান প্রসবের জন্য গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত অস্ত্রোপচার করেন। অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. তানজিল কুমার। এ সময় হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের একপর্যায়ে কমলি বেগমের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।

প্রসূতির ভাতিজা রুবেল ইসলাম তার চাচি পারভিন বেগমের বরাত দিয়ে বলেন, অপারেশনে দীর্ঘ সময় লাগায় তিনি জানালা দিয়ে অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে দেখার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি বড় চাদর রক্তে ভেজা অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি।

রুবেল ইসলাম অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকদের অসাবধানতায় একটি রক্তনালি কেটে যাওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তার দাবি, ওই সময় হাসপাতালে না রেখে দ্রুত রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কমলি বেগমকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

গোদাগাড়ী মডেল হাসপাতালের ম্যানেজার আব্দুল খালেক বলেন, ডা. শারমিন শওকতের নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারটি হয়। এ সময় অ্যানেসথেসিয়া চিকিৎসক ডা. তানজিল কুমার, হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসক ডা. শারমিন শওকত বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে। চিকিৎসকদের কোনো গাফিলতি ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

অপারেশন থিয়েটারে হাসপাতালের পরিচালক শামসুজ্জোহা বাবুর উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শারমিন শওকত বলেন, সহযোগী হিসেবে কাউকে উপস্থিত থাকতে হয়, সে কারণেই তিনি সেখানে ছিলেন। তবে তিনি প্রশিক্ষিত বা অভিজ্ঞ সহযোগী কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসকটি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, এর আগেও ওই হাসপাতালে প্রসূতির অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালের পরিচালক নিজেও কখনো কখনো সিজারিয়ান অপারেশনে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মৃতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জামের মান এবং বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন রয়েছে। কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

প্রসূতি কমলি বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হোক। চিকিৎসায় কোনো ধরনের গাফিলতি, অব্যবস্থাপনা বা জরুরি চিকিৎসা প্রদানে ব্যর্থতা ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপারেশন ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও সহায়ক জনবলের যোগ্যতা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে তদারকিরও দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক - মোঃ আতিকুল ইসলাম
প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ রাকিব হোসাইন হৃদয় 
সহ-সম্পাদক- মোঃ জাকারিয়া হোসেন
বার্তা সম্পাদক - 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
গোদাগাড়ীতে সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ
0:00 0:00
1.0x