লক্ষাধিক গ্রাহকের এই দুর্ভোগ শুধু ঘরবন্দি ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকগাছার অর্থনীতিতে। বিদ্যুৎনির্ভর মিল-কলকারখানা, বরফকল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পোল্ট্রি খামারের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, সেচ ও শিল্পসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে সচল গ্রাহক প্রায় ৮৫ হাজার। অথচ প্রতিদিন যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে গত দুই দিনে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি এতটাই প্রকট যে, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বরফকলগুলো পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। সময়মতো বরফ না পাওয়ায় মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, আর লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
একই চিত্র ধান-চাল ও তেল মাড়াইয়ের মিল, পোল্ট্রি খামারসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে বা আয় কমে বিপাকে পড়ছেন শ্রমিকরা।
গোপালপুর এলাকার নাহিদ হাসান রাইস মিলের মালিক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো মিল চালাতে পারছি না। উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”
মিল শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে মিল বন্ধ থাকে, আর মিল বন্ধ থাকলে আমাদের কাজও থাকে না। এতে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনের ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত দুই দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—চাহিদার তুলনায় এত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে কীভাবে একটি উপজেলার লক্ষাধিক গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এমন লোডশেডিং চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লোডশেডিংকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পাইকগাছাবাসীর প্রশ্ন একটাই—বিদ্যুতের বিল দিতে হয় নিয়মিত, কিন্তু বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে অনিয়মিত কেন? দ্রুত সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
লক্ষাধিক গ্রাহকের এই দুর্ভোগ শুধু ঘরবন্দি ভোগান্তিতেই সীমাবদ্ধ নেই; এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পাইকগাছার অর্থনীতিতে। বিদ্যুৎনির্ভর মিল-কলকারখানা, বরফকল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পোল্ট্রি খামারের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠান চালু রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছায় আবাসিক, বাণিজ্যিক, সেচ ও শিল্পসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় এক লাখ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে সচল গ্রাহক প্রায় ৮৫ হাজার। অথচ প্রতিদিন যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে গত দুই দিনে সরবরাহ মিলেছে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট।
অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি এতটাই প্রকট যে, স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যত ভেঙে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বরফকলগুলো পর্যাপ্ত বরফ উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে মাছ সংরক্ষণ ও পরিবহনে দেখা দিয়েছে চরম সংকট। সময়মতো বরফ না পাওয়ায় মাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে, আর লোকসানের বোঝা বইতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
একই চিত্র ধান-চাল ও তেল মাড়াইয়ের মিল, পোল্ট্রি খামারসহ বিভিন্ন বিদ্যুৎনির্ভর প্রতিষ্ঠানে। উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে কাজ হারিয়ে বা আয় কমে বিপাকে পড়ছেন শ্রমিকরা।
গোপালপুর এলাকার নাহিদ হাসান রাইস মিলের মালিক আমিনুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো মিল চালাতে পারছি না। উৎপাদন কমে যাচ্ছে, ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।”
মিল শ্রমিক শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলে মিল বন্ধ থাকে, আর মিল বন্ধ থাকলে আমাদের কাজও থাকে না। এতে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।”
খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাইকগাছা জোনের ডিজিএম অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, পাইকগাছায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু গত দুই দিনে মাত্র ৩ থেকে ৪ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া গেছে। সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
এদিকে প্রশ্ন উঠেছে—চাহিদার তুলনায় এত কম বিদ্যুৎ সরবরাহ দিয়ে কীভাবে একটি উপজেলার লক্ষাধিক গ্রাহকের স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা সম্ভব?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন এমন লোডশেডিং চললেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বিদ্যুৎ সংকটে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবাই ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লোডশেডিংকে ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই। দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতি আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
পাইকগাছাবাসীর প্রশ্ন একটাই—বিদ্যুতের বিল দিতে হয় নিয়মিত, কিন্তু বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে অনিয়মিত কেন? দ্রুত সংকট নিরসনে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন