গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় মোট ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫২ জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
গোপন বৈঠকের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে যুব মহিলা লীগের নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা এবং তার স্বামী রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোতালেব হোসেনের নাম এসেছে। দুজনই রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।
মেহজাবিন আক্তার মালা মোতালেব হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে মোতালেব আরও একটি বিয়ে করেছিলেন এবং সেই সংসারে তার চার সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে জমি দখল, চাঁদাবাজি, জমির সেটেলমেন্ট ও বালুর ব্যবসার মাধ্যমে এই দম্পতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এরপর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকের নিরিবিলি পরিবেশে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা গোপনে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয় সূত্রগুলো ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোতালেবের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। বসুন্ধরা এম ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের ২১৭৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। ভবনটি বসুন্ধরা এলাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মালিকের বলে জানা গেছে। তবে ওই বাড়ির মালিক সেখানে বসবাস করেন না।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বসুন্ধরার ওই সড়কটি বেশ নিরিবিলি। আশপাশের অনেক প্লট এখনো খালি থাকায় অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসেবে জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সেখানে আসতে থাকেন। ভবনের প্রধান ফটকে নেমে মোতালেব ও তার স্ত্রী মালা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিবেশীদের তারা জানান, ফ্ল্যাটে একটি ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছে। তবে ক্ষমতার প্রভাব দেখানো এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনায় বাড়ির মালিকের সন্দেহ তৈরি হয়।
রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানা পুলিশ ওই বাসাটি ঘিরে ফেলে। পরে ফ্ল্যাটে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক প্ররোচনামূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেসমাস্ক ও নাশকতার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে মালা ও মোতালেবসহ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির আরও একজন সদস্যকে আটক করা হয়। এতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ জনে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে ১৫ আগস্টের আগেই রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।
বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানোর পর পুলিশের তদন্ত এখন শুধু গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত, অর্থের উৎস কী ছিল, কার নির্দেশে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী ছিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই ওই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বসুন্ধরার বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মেহজাবিন আক্তার মালা ও তার স্বামী মোতালেব হোসেনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই ফ্ল্যাট ব্যবহার করে তারা গোপনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মোতালেবের বিরুদ্ধে অতীতে জমি, বালু ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলন দমনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে।
ফ্ল্যাটটিতে নিয়মিত অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগেই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলেও প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে সরাসরি প্রশ্ন করার সাহস পাননি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, বসুন্ধরার এই ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। চলতি আগস্টে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৩১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১১ আগস্ট বনানীতে মিছিলের প্রস্তুতির সময় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় মশাল মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়।
বসুন্ধরার অভিযানের পাশাপাশি মিরপুর থেকেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতা ও অঙ্গসংগঠনের একজন কর্মীকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার নামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
১৫ আগস্টকে সামনে রেখে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশপথে তল্লাশি, গোয়েন্দা নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ডিবি ও সিটিটিসির কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মেট্রোরেল স্টেশন, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, শপিংমলসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকেও সাইবার স্পেসে নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক পোস্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাতে উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
বসুন্ধরার ফ্ল্যাটে অভিযান শেষ হলেও তদন্ত এখনো চলছে। ওই ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর অন্য কোথাও যোগাযোগ বা প্রস্তুতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে ৫৪ জনের উপস্থিতি, তাদের মধ্যে ৫২ জনকে কারাগারে পাঠানো এবং দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর মধ্য দিয়ে ঘটনাটির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে।
ফ্ল্যাটটি কে ভাড়া নিয়েছিল, কারা সেখানে লোকজনকে ডেকেছিল, বৈঠকের অর্থের উৎস কী, কোথায় মিছিল হওয়ার কথা ছিল, মাঠপর্যায়ে কারা দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এই বৈঠকের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে ‘জন্মদিনের আয়োজন’ হিসেবে যে জমায়েতের কথা বলা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে রূপ নেয় এবং ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ সত্য হলে, এটি কেবল একটি গোপন বৈঠক নয়; বরং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল। ওই সূত্র ধরেই রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সূত্র: আমার দেশ

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় মোট ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫২ জনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
গোপন বৈঠকের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে যুব মহিলা লীগের নেত্রী মেহজাবিন আক্তার মালা এবং তার স্বামী রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোতালেব হোসেনের নাম এসেছে। দুজনই রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা।
মেহজাবিন আক্তার মালা মোতালেব হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী। এর আগে মোতালেব আরও একটি বিয়ে করেছিলেন এবং সেই সংসারে তার চার সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে জমি দখল, চাঁদাবাজি, জমির সেটেলমেন্ট ও বালুর ব্যবসার মাধ্যমে এই দম্পতি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
এরপর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এম ব্লকের নিরিবিলি পরিবেশে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা গোপনে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
স্থানীয় সূত্রগুলো ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোতালেবের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। বসুন্ধরা এম ব্লকের ২৮ নম্বর সড়কের ২১৭৩ নম্বর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালানো হয়। ভবনটি বসুন্ধরা এলাকার একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের মালিকের বলে জানা গেছে। তবে ওই বাড়ির মালিক সেখানে বসবাস করেন না।
সরেজমিন অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, বসুন্ধরার ওই সড়কটি বেশ নিরিবিলি। আশপাশের অনেক প্লট এখনো খালি থাকায় অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসেবে জায়গাটি বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার পর থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন সেখানে আসতে থাকেন। ভবনের প্রধান ফটকে নেমে মোতালেব ও তার স্ত্রী মালা তাদের অভ্যর্থনা জানান।
নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিবেশীদের তারা জানান, ফ্ল্যাটে একটি ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান চলছে। তবে ক্ষমতার প্রভাব দেখানো এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের আনাগোনায় বাড়ির মালিকের সন্দেহ তৈরি হয়।
রাত ৯টার দিকে ভাটারা থানা পুলিশ ওই বাসাটি ঘিরে ফেলে। পরে ফ্ল্যাটে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বিপুলসংখ্যক প্ররোচনামূলক ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, ফেসমাস্ক ও নাশকতার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে মালা ও মোতালেবসহ ৫৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির আরও একজন সদস্যকে আটক করা হয়। এতে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৪ জনে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই হাফিজুর রহমান ‘আমার দেশ’কে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে ১৫ আগস্টের আগেই রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে।
বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালানোর পর পুলিশের তদন্ত এখন শুধু গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখত, অর্থের উৎস কী ছিল, কার নির্দেশে বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল এবং পরবর্তী কর্মসূচি কী ছিল—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পরই ওই ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বসুন্ধরার বৈঠক থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মেহজাবিন আক্তার মালা ও তার স্বামী মোতালেব হোসেনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই ফ্ল্যাট ব্যবহার করে তারা গোপনে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, মোতালেবের বিরুদ্ধে অতীতে জমি, বালু ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। জুলাই আন্দোলন দমনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে।
ফ্ল্যাটটিতে নিয়মিত অপরিচিত ব্যক্তিদের যাতায়াত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আগেই সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন বাসিন্দা বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে থাকলেও প্রভাবশালী পরিচয়ের কারণে সরাসরি প্রশ্ন করার সাহস পাননি বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে, বসুন্ধরার এই ঘটনাটি একক কোনো ঘটনা নয়। চলতি আগস্টে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়েছে।
১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৩১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১১ আগস্ট বনানীতে মিছিলের প্রস্তুতির সময় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে ৭ আগস্ট বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামসংলগ্ন এলাকায় মশাল মিছিলের প্রস্তুতির অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়।
বসুন্ধরার অভিযানের পাশাপাশি মিরপুর থেকেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একজন নেতা ও অঙ্গসংগঠনের একজন কর্মীকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের অভিযোগ, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার নামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
১৫ আগস্টকে সামনে রেখে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশপথে তল্লাশি, গোয়েন্দা নজরদারি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ডিবি ও সিটিটিসির কার্যক্রম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
মেট্রোরেল স্টেশন, রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট, শপিংমলসহ জনসমাগম হয় এমন স্থানগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকেও সাইবার স্পেসে নজরদারি চালানোর কথা বলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক পোস্ট কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে যাতে উত্তেজনা তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
বসুন্ধরার ফ্ল্যাটে অভিযান শেষ হলেও তদন্ত এখনো চলছে। ওই ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর অন্য কোথাও যোগাযোগ বা প্রস্তুতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে ৫৪ জনের উপস্থিতি, তাদের মধ্যে ৫২ জনকে কারাগারে পাঠানো এবং দুই কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর মধ্য দিয়ে ঘটনাটির আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি বিষয় সামনে এসেছে।
ফ্ল্যাটটি কে ভাড়া নিয়েছিল, কারা সেখানে লোকজনকে ডেকেছিল, বৈঠকের অর্থের উৎস কী, কোথায় মিছিল হওয়ার কথা ছিল, মাঠপর্যায়ে কারা দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে এই বৈঠকের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় এখন তদন্তের পরবর্তী ধাপে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, বসুন্ধরার ওই ফ্ল্যাটে ‘জন্মদিনের আয়োজন’ হিসেবে যে জমায়েতের কথা বলা হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত পুলিশের অভিযানে রূপ নেয় এবং ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ সত্য হলে, এটি কেবল একটি গোপন বৈঠক নয়; বরং ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নাশকতার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ছিল। ওই সূত্র ধরেই রাজধানীর অন্যান্য এলাকাতেও নজরদারি বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন