এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং তালিকা বাতিলের দাবিতে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।
বুধবার রাত ৮টার দিকে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার পর ভিডিও বার্তায় অভিযোগগুলো তুলে ধরেন মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন। তিনি নিজেকে থানা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আল-আমিন হোসেন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, উপজেলা কর্তৃক আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল প্রকাশের পর কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ তালিকায় বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্যদের নাম দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, আত্মীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের পক্ষ থেকে বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
অন্য এক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অনেক নেতাকর্মীর নাম ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নেই। এমনকি তিনি নিজেও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ ক্ষেত্রেও তিনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন।
তালিকায় থাকা কয়েকজনের নামও প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, জাবেদ ওমর, শাহীন আলম, তানিয়া, জসিম উদ্দীন, ওমর ফারুক, তুহিন শেখ, মেহেরুন্নেসা, হাসিবুল হাসান হাবিব, লালচাদ বাদশা ও মোহাম্মদ রেজাউল পারভেজ।
অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় থাকা অধিকাংশ পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা প্রকাশিত ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রকাশ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হোসেন বলেন, তালিকা তৈরিতে বৈষম্য করা হয়েছে। যারা সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল সবাই উত্তীর্ণ হবেন। কিন্তু টাকা-পয়সা কিংবা কারও প্রভাবের কারণে তাদের ফলাফল অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর দাবি, সুপারভাইজার পদে উত্তীর্ণ চারজনের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নাম না থাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশ বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়েছে। দীর্ঘদিন নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নাম তালিকায় না থাকায় এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর।

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং তালিকা বাতিলের দাবিতে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মী।
বুধবার রাত ৮টার দিকে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়ার পর ভিডিও বার্তায় অভিযোগগুলো তুলে ধরেন মোহাম্মদ আল-আমিন হোসেন। তিনি নিজেকে থানা ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এ সময় ছাত্রদল ও যুবদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আল-আমিন হোসেন ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত ফলাফল বাতিল করে নতুন করে তালিকা প্রকাশের দাবি জানান।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, উপজেলা কর্তৃক আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারির ফল প্রকাশের পর কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ তালিকায় বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পরিবারের সদস্যদের নাম দেখতে পান। তাঁর অভিযোগ, আত্মীয়করণ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ঘটনার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবিতে ইউনিয়ন ছাত্রদল ও যুবদলের পক্ষ থেকে বিএনপি কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
অন্য এক ছাত্রদল নেতা অভিযোগ করেন, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের দীর্ঘদিনের অনেক নেতাকর্মীর নাম ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নেই। এমনকি তিনি নিজেও সুপারভাইজার পদে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু উত্তীর্ণ হতে পারেননি। এ ক্ষেত্রেও তিনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ করেন।
তালিকায় থাকা কয়েকজনের নামও প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়। তারা হলেন—মোহাম্মদ নাসিম হোসেন, মিরাজুল ইসলাম, জাবেদ ওমর, শাহীন আলম, তানিয়া, জসিম উদ্দীন, ওমর ফারুক, তুহিন শেখ, মেহেরুন্নেসা, হাসিবুল হাসান হাবিব, লালচাদ বাদশা ও মোহাম্মদ রেজাউল পারভেজ।
অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকায় থাকা অধিকাংশ পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় বিএনপির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের তালিকায় জায়গা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তারা প্রকাশিত ফলাফল পুনর্বিবেচনা করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নতুন তালিকা প্রকাশ এবং অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. শামীম হোসেন বলেন, তালিকা তৈরিতে বৈষম্য করা হয়েছে। যারা সুপারভাইজার পদে পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা ছিল সবাই উত্তীর্ণ হবেন। কিন্তু টাকা-পয়সা কিংবা কারও প্রভাবের কারণে তাদের ফলাফল অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাঁর দাবি, সুপারভাইজার পদে উত্তীর্ণ চারজনের মধ্যে তিনজনই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তালিকায় নাম না থাকায় ছাত্রদল ও যুবদলের একাংশ বিএনপি কার্যালয়ে তালা দিয়েছে। দীর্ঘদিন নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নাম তালিকায় না থাকায় এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: যুগান্তর।

আপনার মতামত লিখুন