সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছাড়া পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে সুপারিশকারী কর্মকর্তাদের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সভায় বিসিএস (রেলওয়ে) ক্যাডারের ষষ্ঠ গ্রেডের বিভিন্ন শূন্য পদের বিপরীতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
আলোচ্যসূচিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ৮ জন, পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের ২৭টির বিপরীতে ৭ জন, বৈদ্যুতিক বিভাগের ৯টির বিপরীতে ৩ জন, যান্ত্রিক বিভাগের ১৯টির বিপরীতে ১ জন, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ১০টির বিপরীতে ২ জন এবং সরঞ্জাম বিভাগের ৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ জনের পদোন্নতির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮৫টি পদে পদোন্নতির প্রস্তাব সভায় আলোচনা হওয়ার কথা।
রেলওয়ে সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত পদোন্নতি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার কথা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগবিধি বাতিল হওয়ার পর নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বিধিমালার একটি প্রস্তাব বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যেই বিধিমালা ছাড়াই পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে ডিপিসির সদস্যরাও চাপে রয়েছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, প্রায় ৪৭ হাজার জনবলের খসড়া নিয়োগ বিধিমালার ভিত্তিতে রেলে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই খসড়া বিধিমালা অনুসারেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পদোন্নতি সংক্রান্ত ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির কার্যক্রম রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করবে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।
রোববার রেলওয়ে বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে সভা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিটির সদস্য রুপম আনোয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তথ্য অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ বলেন, নিয়োগবিধি রয়েছে কি না, তা তিনি এখনো জানেন না। যদি বিধি না থাকে, তাহলে আগের নজির অনুসরণ করা হবে। তার ভাষ্য, পদোন্নতি একজন চাকরিজীবীর নৈতিক অধিকার। তবে তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নৈতিক দায়িত্বের জায়গা থেকে বিষয়টি দেখবেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে পদোন্নতির সুপারিশের সুযোগ থাকলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হবে, আর সুযোগ না থাকলে অন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, এরপরও ওপর থেকে কোনো চাপ দিয়ে নৈতিক সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করা হলে নিজের আত্মরক্ষার জন্য তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবেন। বিধি ও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
কমিটির আরেক সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্মসচিব রায়হান আখতার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পদোন্নতির সুপারিশের ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি থাকা জরুরি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধি না থাকলে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সভা আহ্বান করার কথা নয়। তবে কমিটির সভায় আলোচনার পর বিষয়টি তার কাছে আরও পরিষ্কার হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিধিবহির্ভূত বা অনুশাসনবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলে ডিপিসির সদস্যদের ওপর আইনি দায় তৈরি হতে পারে। জনপ্রশাসন ও সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, বৈধ পদোন্নতি বিধি ছাড়া পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন হতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, পদোন্নতি কমিটির কোনো সদস্য নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির নথিতে স্বাক্ষর করলে ভবিষ্যতে অডিট বা আদালতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তখন বিষয়টি ‘অসদাচরণ’ ও ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনগত বৈধতা না থাকায় পদোন্নতি বাতিল হলে কমিটির সদস্যদের প্রশাসনিক তদন্ত, বিভাগীয় মামলা কিংবা পদোন্নতি সংক্রান্ত সুবিধা আটকে যাওয়ার মতো পেশাগত ঝুঁকিতেও পড়তে হতে পারে।
এদিকে, নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতির উদ্যোগকে সুশাসনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সাবেক আমলারা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, নিয়োগবিধি যেকোনো পদোন্নতির প্রধান আইনগত ভিত্তি। বিধিমালা চূড়ান্ত না করে কিংবা বাতিল হয়ে যাওয়া বিধির ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি দেওয়া সমীচীন নয়। এটি সরকারি চাকরি বিধিমালা ও প্রশাসনিক নীতিশাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এর সমাধান তড়িঘড়ি কোনো বেআইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত দ্রুত নতুন বিধিমালা জারি করে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। তা না হলে পরবর্তী সময়ে পুরো পদোন্নতি প্রক্রিয়া আইনগতভাবে বাতিল হতে পারে এবং কমিটির সদস্যরাও সমস্যায় পড়তে পারেন।
ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় তৈরি হওয়া ক্ষোভ নিরসনে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক আমলারা। তাদের মতে, ১৯৮০ সালের পুরোনো বিধিমালা পর্যালোচনা করা অথবা বর্তমানে প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালাটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তা না করে পদোন্নতি ত্বরান্বিত করা হলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা আগে নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করে এরপর পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সুপারিশ করার তাগিদ দিয়েছেন।
সূত্র: আমার দেশ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি ছাড়া পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে সুপারিশকারী কর্মকর্তাদের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। রেলওয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সভায় বিসিএস (রেলওয়ে) ক্যাডারের ষষ্ঠ গ্রেডের বিভিন্ন শূন্য পদের বিপরীতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
আলোচ্যসূচিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ৮ জন, পরিবহন ও বাণিজ্যিক বিভাগের ২৭টির বিপরীতে ৭ জন, বৈদ্যুতিক বিভাগের ৯টির বিপরীতে ৩ জন, যান্ত্রিক বিভাগের ১৯টির বিপরীতে ১ জন, সংকেত ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ১০টির বিপরীতে ২ জন এবং সরঞ্জাম বিভাগের ৫টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ জনের পদোন্নতির প্রস্তাব রয়েছে। সব মিলিয়ে ৮৫টি পদে পদোন্নতির প্রস্তাব সভায় আলোচনা হওয়ার কথা।
রেলওয়ে সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত পদোন্নতি কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন করে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে রয়েছেন। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার কথা।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিতর্কিত নিয়োগবিধি বাতিল হওয়ার পর নতুন বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন বিধিমালার একটি প্রস্তাব বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন রয়েছে। কিন্তু সেটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। এর মধ্যেই বিধিমালা ছাড়াই পদোন্নতির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে ডিপিসির সদস্যরাও চাপে রয়েছেন।
এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন আমার দেশকে বলেন, প্রায় ৪৭ হাজার জনবলের খসড়া নিয়োগ বিধিমালার ভিত্তিতে রেলে কিছু নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমানে ওই খসড়া বিধিমালা অনুসারেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, পদোন্নতি সংক্রান্ত ডিপার্টমেন্টাল প্রমোশন কমিটির কার্যক্রম রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করবে। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে।
রোববার রেলওয়ে বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিয়ে সভা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন রেলওয়ের অতিরিক্ত সচিব ও কমিটির সদস্য রুপম আনোয়ার। তিনি আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে তথ্য অধিকার আইনের বিধান অনুযায়ী আবেদন করতে পারেন।
অন্যদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য মোস্তাক আহমেদ বলেন, নিয়োগবিধি রয়েছে কি না, তা তিনি এখনো জানেন না। যদি বিধি না থাকে, তাহলে আগের নজির অনুসরণ করা হবে। তার ভাষ্য, পদোন্নতি একজন চাকরিজীবীর নৈতিক অধিকার। তবে তিনি একজন সরকারি কর্মচারী হিসেবে নৈতিক দায়িত্বের জায়গা থেকে বিষয়টি দেখবেন। সবকিছু পর্যালোচনা করে পদোন্নতির সুপারিশের সুযোগ থাকলে এক ধরনের সিদ্ধান্ত হবে, আর সুযোগ না থাকলে অন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মোস্তাক আহমেদ আরও বলেন, এরপরও ওপর থেকে কোনো চাপ দিয়ে নৈতিক সমর্থন নেওয়ার চেষ্টা করা হলে নিজের আত্মরক্ষার জন্য তিনি ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেবেন। বিধি ও রুলস অব প্রসিডিউরের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
কমিটির আরেক সদস্য এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি যুগ্মসচিব রায়হান আখতার এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পদোন্নতির সুপারিশের ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি থাকা জরুরি কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিধি না থাকলে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সভা আহ্বান করার কথা নয়। তবে কমিটির সভায় আলোচনার পর বিষয়টি তার কাছে আরও পরিষ্কার হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিধিবহির্ভূত বা অনুশাসনবহির্ভূতভাবে পদোন্নতি দেওয়া হলে ডিপিসির সদস্যদের ওপর আইনি দায় তৈরি হতে পারে। জনপ্রশাসন ও সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, বৈধ পদোন্নতি বিধি ছাড়া পদোন্নতির অনুমোদন দেওয়া ‘রুলস অব প্রসিডিউর’ এবং সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালার লঙ্ঘন হতে পারে।
সূত্রটি আরও জানায়, পদোন্নতি কমিটির কোনো সদস্য নিয়মবহির্ভূত পদোন্নতির নথিতে স্বাক্ষর করলে ভবিষ্যতে অডিট বা আদালতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তখন বিষয়টি ‘অসদাচরণ’ ও ‘দায়িত্বে অবহেলা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইনগত বৈধতা না থাকায় পদোন্নতি বাতিল হলে কমিটির সদস্যদের প্রশাসনিক তদন্ত, বিভাগীয় মামলা কিংবা পদোন্নতি সংক্রান্ত সুবিধা আটকে যাওয়ার মতো পেশাগত ঝুঁকিতেও পড়তে হতে পারে।
এদিকে, নিয়মের বাইরে গিয়ে পদোন্নতির উদ্যোগকে সুশাসনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সাবেক আমলারা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, নিয়োগবিধি যেকোনো পদোন্নতির প্রধান আইনগত ভিত্তি। বিধিমালা চূড়ান্ত না করে কিংবা বাতিল হয়ে যাওয়া বিধির ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি দেওয়া সমীচীন নয়। এটি সরকারি চাকরি বিধিমালা ও প্রশাসনিক নীতিশাস্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে এর সমাধান তড়িঘড়ি কোনো বেআইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে করা উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উচিত দ্রুত নতুন বিধিমালা জারি করে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতির ব্যবস্থা করা। তা না হলে পরবর্তী সময়ে পুরো পদোন্নতি প্রক্রিয়া আইনগতভাবে বাতিল হতে পারে এবং কমিটির সদস্যরাও সমস্যায় পড়তে পারেন।
ক্যাডার কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় তৈরি হওয়া ক্ষোভ নিরসনে জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক আমলারা। তাদের মতে, ১৯৮০ সালের পুরোনো বিধিমালা পর্যালোচনা করা অথবা বর্তমানে প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালাটি দ্রুত গেজেট আকারে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তা না করে পদোন্নতি ত্বরান্বিত করা হলে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়তে পারে। সংশ্লিষ্টরা আগে নিয়োগবিধি চূড়ান্ত করে এরপর পদোন্নতি কমিটি গঠন ও সুপারিশ করার তাগিদ দিয়েছেন।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন