জানা গেছে, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সিসিএতে বিনিয়োগকারীদের জমা রাখা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এই পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের ৬০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এনআরবিসি সিকিউরিটিজে ৫২ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করেছে ডিএসই। তবে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন এখনো চালু রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও ১৭টি সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ, সিনহা সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, সালতা ক্যাপিটাল, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ডন সিকিউরিটিজ, ইনডিকেট সিকিউরিটিজ, আল ফয়সাল সিকিউরিটিজ, শাহ মুহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানি, ট্রেডক্যাপ স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ড, কবির সিকিউরিটিজ, মনার্ক হোল্ডিংস, স্নিগ্ধা ইকুইটিজ, সোনালি সিকিউরিটিজ, ট্রেড এক্স সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ ও সামিন সিকিউরিটিজ।
বিএসইসি মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে বলেন, গত কয়েক বছরে যেসব ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, সেগুলোর অর্থ দ্রুত বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে পরিশোধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বিক্রি, মালিকদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, যারা লুটপাট করেছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আসাদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অনেক ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়েও অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুন প্রধান কার্যালয় বন্ধ করে আত্মগোপনে যাওয়ার পর ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে অনুসন্ধান চালায় ডিএসই। এতে ১২৬ কোটি টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়। ডিএসইর আইনি পদক্ষেপের পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা গ্রেপ্তার হন। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
২০২১ সালের ৭ জুন বাংকো সিকিউরিটিজে ১২৮ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়। এর পর ১৫ জুন প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসই। সে সময় চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে তিনিও জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর তামহা সিকিউরিটিজে ১৪০ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে মশিউর সিকিউরিটিজে ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত হয়। এরপর ২৮ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই।
ডিএসই কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএতে বিনিয়োগকারীদের জমা অর্থ আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের কারণে এসব সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
বন্ধ থাকা মশিউর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, তিনি বেতনের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। ২০২৪ সালে জানতে পারেন, তার ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। এরপর থেকে নিজের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করে আসছেন। তবে এখনো তিনি অর্থ ফেরত পাননি।
মশিউর সিকিউরিটিজের পরিচালক শেখ মোগল জান রহমান মৃদুল বলেন, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটায় থাকা তাদের আবাসিক হোটেল বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। মাওনায় থাকা আরও কিছু সম্পদও বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কিছু তহবিল রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে গ্রাহকদের চেক দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ইকবাল হাসান বলেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ রয়েছে, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে ফরেনসিক অডিট করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের সংকট দেখা দিলে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না কেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বেনামে ব্যবসা করে সুবিধা নিয়েছেন। এ কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ফরেনসিক অডিট হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎকারীদের সম্পদ জব্দ করে সেই অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ডিএসইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, এ দায় ডিএসইর। এ বিষয়ে ডিএসইকেই প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর আগে একই ধরনের সমস্যায় মেম্বারশিপ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎকারী ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ অডিটর প্যানেল গঠন করে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই যেকোনো সময় পরিদর্শনে পাঠাতে স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইভাবে বিএসইসিও ব্রোকারেজ হাউসগুলো পরিদর্শন করবে।
গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে যেসব বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার তছরুপ হয়েছে, সেগুলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে দ্রুত পরিশোধের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
সূত্র: আমার দেশ

সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ আগস্ট ২০২৬
জানা গেছে, কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সিসিএতে বিনিয়োগকারীদের জমা রাখা অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। আলোচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাংকো সিকিউরিটিজ লিমিটেড, তামহা সিকিউরিটিজ লিমিটেড ও মশিউর সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এই পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের ৬০৭ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এনআরবিসি সিকিউরিটিজে ৫২ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করেছে ডিএসই। তবে প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন এখনো চালু রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরও ১৭টি সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন স্থগিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—বেক্সিমকো সিকিউরিটিজ, সিনহা সিকিউরিটিজ, পিএফআই সিকিউরিটিজ, সালতা ক্যাপিটাল, অ্যালায়েন্স সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, ডন সিকিউরিটিজ, ইনডিকেট সিকিউরিটিজ, আল ফয়সাল সিকিউরিটিজ, শাহ মুহাম্মদ সগির অ্যান্ড কোম্পানি, ট্রেডক্যাপ স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ড, কবির সিকিউরিটিজ, মনার্ক হোল্ডিংস, স্নিগ্ধা ইকুইটিজ, সোনালি সিকিউরিটিজ, ট্রেড এক্স সিকিউরিটিজ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ ও সামিন সিকিউরিটিজ।
বিএসইসি মুখপাত্র আবুল কালাম আমার দেশকে বলেন, গত কয়েক বছরে যেসব ব্রোকারেজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে, সেগুলোর অর্থ দ্রুত বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে পরিশোধ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ বিক্রি, মালিকদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, যারা লুটপাট করেছে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) আসাদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, অনেক ট্রেকহোল্ডার কোম্পানি দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটির প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি। কিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়েও অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দুয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৪ জুন প্রধান কার্যালয় বন্ধ করে আত্মগোপনে যাওয়ার পর ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে অনুসন্ধান চালায় ডিএসই। এতে ১২৬ কোটি টাকার ঘাটতি পাওয়া যায়। ডিএসইর আইনি পদক্ষেপের পর প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা গ্রেপ্তার হন। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
২০২১ সালের ৭ জুন বাংকো সিকিউরিটিজে ১২৮ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত করা হয়। এর পর ১৫ জুন প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডিএসই। সে সময় চেয়ারম্যান আব্দুল মুহিত ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তী সময়ে তিনিও জামিনে মুক্তি পান।
এ ছাড়া ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর তামহা সিকিউরিটিজে ১৪০ কোটি টাকা এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে মশিউর সিকিউরিটিজে ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি শনাক্ত হয়। এরপর ২৮ অক্টোবর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন স্থগিত করে ডিএসই।
ডিএসই কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত গ্রাহক হিসাব বা সিসিএতে বিনিয়োগকারীদের জমা অর্থ আইনবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের কারণে এসব সিকিউরিটিজ হাউসের লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।
বন্ধ থাকা মশিউর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী জানান, তিনি বেতনের অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। ২০২৪ সালে জানতে পারেন, তার ব্রোকারেজ হাউস বিনিয়োগকারীদের অর্থ পরিশোধ করতে পারছে না। এরপর থেকে নিজের টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করে আসছেন। তবে এখনো তিনি অর্থ ফেরত পাননি।
মশিউর সিকিউরিটিজের পরিচালক শেখ মোগল জান রহমান মৃদুল বলেন, গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটায় থাকা তাদের আবাসিক হোটেল বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। মাওনায় থাকা আরও কিছু সম্পদও বিক্রি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কিছু তহবিল রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে গ্রাহকদের চেক দেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক চেয়ারম্যান আহমেদ ইকবাল হাসান বলেন, কেন দীর্ঘদিন ধরে ট্রেকহোল্ডার কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ রয়েছে, তার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে ফরেনসিক অডিট করা হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের সংকট দেখা দিলে শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না কেন, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তার অভিযোগ, স্টক এক্সচেঞ্জের কর্মকর্তারা বেনামে ব্যবসা করে সুবিধা নিয়েছেন। এ কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। ফরেনসিক অডিট হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎকারীদের সম্পদ জব্দ করে সেই অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ডিএসইর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আহমেদ রশিদ লালী বলেন, এ দায় ডিএসইর। এ বিষয়ে ডিএসইকেই প্রয়োজনীয় নীতি গ্রহণ করতে হবে। এর আগে একই ধরনের সমস্যায় মেম্বারশিপ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
জানা গেছে, বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও অর্থ আত্মসাৎকারী ব্রোকারেজ হাউসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে শেয়ারবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশেষ অডিটর প্যানেল গঠন করে কোনো ধরনের পূর্বঘোষণা ছাড়াই যেকোনো সময় পরিদর্শনে পাঠাতে স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইভাবে বিএসইসিও ব্রোকারেজ হাউসগুলো পরিদর্শন করবে।
গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করার পাশাপাশি প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে গত কয়েক বছরে যেসব বিনিয়োগকারীর অর্থ ও শেয়ার তছরুপ হয়েছে, সেগুলো বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল থেকে দ্রুত পরিশোধের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জকে নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন