জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সন্তানের পড়াশোনা ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানোয় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। এতে ডিজেল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির পর এক বেসরকারি কোম্পানির কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়লেও কোম্পানির চাকরি করা মানুষের বেতন সেই হারে বাড়ে না। অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে সংসারের খরচ।”
তিনি বলেন, একটি সাধারণ পরিবারের ন্যূনতম খরচও এখন অনেক বেড়ে গেছে। মাসে এক-দুই দিন মাংস, কয়েকদিন মাছ এবং বাকি দিনগুলোতে সবজি দিয়ে সংসার চালানোর পরও বাসাভাড়া, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে মাসে ২০–২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি প্রয়োজন হয়।
তার প্রশ্ন, “কোম্পানিতে চাকরি করে যাদের বেতন এত বেশি নয়, তারা এই বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবে? তেলের দাম বাড়লে শুধু তেলের খরচই বাড়বে না, যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই পড়বে।”
ওই কর্মী আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিলের চাপও বেড়েছে। তার দাবি, আগে যেখানে ২০০–৩০০ টাকা বিল আসত, এখন অনেক সময় ৬০০–৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাজার খরচ, বাসাভাড়া ও জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানোর দিকটিও বিবেচনা করুন। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে যদি বাড়তি খরচের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে, তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে?”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন হিসাব করে বাজার করে, খাবারের তালিকা কমিয়ে সংসার চালায়। সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পর হাতে কিছু থাকে না। এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।”
সরকারের ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়েছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
বিভাগের হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়, জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমানো এবং বিপিসির আর্থিক চাপ কমানোর কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।
তবে দাম বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষ কীভাবে সংসারের ভার সামলাবে?

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, সন্তানের পড়াশোনা ও যাতায়াত ব্যয়ের চাপ সামলাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বাড়ানোয় সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। এতে ডিজেল ১১৫ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির পর এক বেসরকারি কোম্পানির কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়লেও কোম্পানির চাকরি করা মানুষের বেতন সেই হারে বাড়ে না। অথচ প্রতিদিনই বাড়ছে সংসারের খরচ।”
তিনি বলেন, একটি সাধারণ পরিবারের ন্যূনতম খরচও এখন অনেক বেড়ে গেছে। মাসে এক-দুই দিন মাংস, কয়েকদিন মাছ এবং বাকি দিনগুলোতে সবজি দিয়ে সংসার চালানোর পরও বাসাভাড়া, যাতায়াত ও সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিলিয়ে মাসে ২০–২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি প্রয়োজন হয়।
তার প্রশ্ন, “কোম্পানিতে চাকরি করে যাদের বেতন এত বেশি নয়, তারা এই বাড়তি খরচ কীভাবে সামলাবে? তেলের দাম বাড়লে শুধু তেলের খরচই বাড়বে না, যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই পড়বে।”
ওই কর্মী আরও বলেন, বিদ্যুৎ বিলের চাপও বেড়েছে। তার দাবি, আগে যেখানে ২০০–৩০০ টাকা বিল আসত, এখন অনেক সময় ৬০০–৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে বাজার খরচ, বাসাভাড়া ও জ্বালানি ব্যয় বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের আয় বাড়ানোর দিকটিও বিবেচনা করুন। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়িয়ে যদি বাড়তি খরচের চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে, তাহলে বেসরকারি চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ কীভাবে সংসার চালাবে?”
তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন হিসাব করে বাজার করে, খাবারের তালিকা কমিয়ে সংসার চালায়। সন্তানদের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার পর হাতে কিছু থাকে না। এর মধ্যে আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে।”
সরকারের ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও ফ্রেইট চার্জ বেড়েছে। এতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে।
বিভাগের হিসাবে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির লোকসান হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়, জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি কমানো এবং বিপিসির আর্থিক চাপ কমানোর কারণ দেখিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।
তবে দাম বৃদ্ধির পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আয় না বাড়িয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় এভাবে বাড়তে থাকলে সীমিত আয়ের মানুষ কীভাবে সংসারের ভার সামলাবে?

আপনার মতামত লিখুন