সাবেক বিএনপি নেতা আলম বাদশা মেম্বার গুরুতর আহত, দুই পা ভাঙার দাবি—শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝিরা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক বোহাইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলম বাদশা মেম্বার গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি দুই পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৫টার দিকে দক্ষিণ মাঝিরা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, জমি দখল ও ভূমি-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিহত করতে গেলে একদল লোক হামলা চালায়। এতে আলম বাদশা মেম্বারসহ কয়েকজন আহত হন।
আহত ও হামলার শিকার হওয়ার দাবি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আলম বাদশা মেম্বার, যোবায়ের হোসেন, আব্দুর রশিদ, স্বপন মনি, নাজমুল হক সুজন, জুয়েল রানা, লিয়ন, মাহমুদ চপল ও ইব্রাহিম।
হামলার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগে হামলায় জড়িত হিসেবে শাহ জিহাদুল ইসলাম, আলামিন মুন্সি, কামরুল, রাকিব (পিতা—আলামিন মুন্সি), শুকুর মুন্সি, গফুর মুন্সি, হুমায়ুন মুন্সি, মোনায়েম মুন্সি, অফিল মুন্সি, সেলিম মুন্সি, রমজান মুন্সি, রাসেল মুন্সি, নাসিম মুন্সি, বাবু মুন্সি, আজম মুন্সি, শিপন ব্যাপারি, রাকিব মুন্সি (পিতা—গফুর মুন্সি) ও আসাদ মুন্সিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের আরও অভিযোগ, শাহ জিহাদুল ইসলাম একজন বহিরাগত ব্যক্তি হিসেবে চন্দনবাইশা ইউনিয়ন থেকে বোহাইল এলাকায় এসে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে একটি দল গড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসা পরীক্ষায় দুই পা ভাঙার দাবি
হামলার পর গুরুতর আহত আলম বাদশা মেম্বারকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার দুই পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মাথায়ও গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসির কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান আসাদ-এর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে—ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জমি দখল, হামলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা
এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
সাবেক বিএনপি নেতা আলম বাদশা মেম্বার গুরুতর আহত, দুই পা ভাঙার দাবি—শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বোহাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ মাঝিরা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক বোহাইল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলম বাদশা মেম্বার গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি দুই পা ভেঙে গেছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৫টার দিকে দক্ষিণ মাঝিরা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, জমি দখল ও ভূমি-সংক্রান্ত অনিয়ম প্রতিহত করতে গেলে একদল লোক হামলা চালায়। এতে আলম বাদশা মেম্বারসহ কয়েকজন আহত হন।
আহত ও হামলার শিকার হওয়ার দাবি করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—আলম বাদশা মেম্বার, যোবায়ের হোসেন, আব্দুর রশিদ, স্বপন মনি, নাজমুল হক সুজন, জুয়েল রানা, লিয়ন, মাহমুদ চপল ও ইব্রাহিম।
হামলার ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ
ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগে হামলায় জড়িত হিসেবে শাহ জিহাদুল ইসলাম, আলামিন মুন্সি, কামরুল, রাকিব (পিতা—আলামিন মুন্সি), শুকুর মুন্সি, গফুর মুন্সি, হুমায়ুন মুন্সি, মোনায়েম মুন্সি, অফিল মুন্সি, সেলিম মুন্সি, রমজান মুন্সি, রাসেল মুন্সি, নাসিম মুন্সি, বাবু মুন্সি, আজম মুন্সি, শিপন ব্যাপারি, রাকিব মুন্সি (পিতা—গফুর মুন্সি) ও আসাদ মুন্সিসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পক্ষের আরও অভিযোগ, শাহ জিহাদুল ইসলাম একজন বহিরাগত ব্যক্তি হিসেবে চন্দনবাইশা ইউনিয়ন থেকে বোহাইল এলাকায় এসে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে একটি দল গড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা দখলসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসা পরীক্ষায় দুই পা ভাঙার দাবি
হামলার পর গুরুতর আহত আলম বাদশা মেম্বারকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার দুই পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। মাথায়ও গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ওসির কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ফ ম আসাদুজ্জামান আসাদ-এর প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে—ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জমি দখল, হামলা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।
সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা
এদিকে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ কাজী রফিকুল ইসলাম-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ পুলিশি তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন