ঢাকা    সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

আইন-আদালত

পরিচয় গোপন করতেই মেরিনাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন: পুলিশ

পরিচয় গোপন করতেই মেরিনাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন: পুলিশ
পরিচয় গোপন করতেই মেরিনাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন: পুলিশ

নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূ মেরিনা বেগমকে হত্যার পর তাঁর পরিচয় আড়াল করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধামইরহাটের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক (২১)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের একটি আমবাগান থেকে এক নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। একই সময়ে মেরিনা বেগম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর ছেলে কাউসার আলী ধামইরহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে আসেন। পরে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও মরদেহ দেখে তিনি তাঁর মাকে শনাক্ত করেন।

এরপর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তারেক রহমানের নাম উঠে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত মোবাইল ফোনে তাদের যোগাযোগ হতো। একপর্যায়ে মেরিনা বাবুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও পুলিশের কাছে দাবি করেছেন বাবুল।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বাবুল তখন মেরিনাকে ১৬ আগস্ট বিয়ে করার কথা জানান। বিয়ের আশ্বাসে মেরিনা নতুন জামা, জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তবে বিয়ের পরিবর্তে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট দুপুরে মেরিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ কয়েকজন তাঁকে নিতে শাহাপুর ইউনিয়নে যায়। সেখান থেকে তাঁকে অগ্রাদিগুণ বাজারে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে মনিহারি-তালপুকুর সড়কের পাশে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরের ভলকাডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ দুজন মেরিনার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে মরদেহের ওপর খড়কুটো জড়ো করা হয়। পরে বাবুল মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে বাবুল ও তারেক ছাড়াও আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সূত্র: চ্যানেল ২৪

আপনার মতামত লিখুন

ইনসাফ টাইম ২৪

সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬


পরিচয় গোপন করতেই মেরিনাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন: পুলিশ

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নওগাঁর ধামইরহাটে গৃহবধূ মেরিনা বেগমকে হত্যার পর তাঁর পরিচয় আড়াল করতে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ধামইরহাটের সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও একই এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে তারেক (২১)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের একটি আমবাগান থেকে এক নারীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশে প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। একই সময়ে মেরিনা বেগম নিখোঁজ হয়েছেন জানিয়ে তাঁর ছেলে কাউসার আলী ধামইরহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে আসেন। পরে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেলে সেখানে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র ও মরদেহ দেখে তিনি তাঁর মাকে শনাক্ত করেন।

এরপর ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজন হিসেবে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তারেক রহমানের নাম উঠে আসে। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত মোবাইল ফোনে তাদের যোগাযোগ হতো। একপর্যায়ে মেরিনা বাবুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিয়ে না করলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন বলেও পুলিশের কাছে দাবি করেছেন বাবুল।

পুলিশ সুপার আরও জানান, বাবুল তখন মেরিনাকে ১৬ আগস্ট বিয়ে করার কথা জানান। বিয়ের আশ্বাসে মেরিনা নতুন জামা, জুতা, প্রসাধনী সামগ্রী ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। তবে বিয়ের পরিবর্তে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট দুপুরে মেরিনা বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ কয়েকজন তাঁকে নিতে শাহাপুর ইউনিয়নে যায়। সেখান থেকে তাঁকে অগ্রাদিগুণ বাজারে নেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশায় করে মনিহারি-তালপুকুর সড়কের পাশে নেওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে প্রায় ৩০০ ফুট দূরের ভলকাডাঙ্গা এলাকার একটি আমবাগানে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, সেখানে বাবুলের নির্দেশে তারেকসহ দুজন মেরিনার গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে দুই দিক থেকে টান দেন। একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে মরদেহের ওপর খড়কুটো জড়ো করা হয়। পরে বাবুল মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে বাবুল ও তারেক ছাড়াও আরও দুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সূত্র: চ্যানেল ২৪


ইনসাফ টাইম ২৪

প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান - মোঃ জাকারিয়া আহম্মেদ 

কপিরাইট © ২০২৬ ইনসাফ টাইম ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
পরিচয় গোপন করতেই মেরিনাকে হত্যার পর মরদেহে আগুন: পুলিশ
0:00 0:00
1.0x