সর্বোচ্চ ২৫৫ ভোট পেয়ে তার জয়কে শুধু নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার পর এটি একজন নেতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা, ১১ দফা কারাবরণ এবং স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের সময়েও বন্দিজীবন—এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়েও তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য-চর্চায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও নেলসন ম্যান্ডেলার দর্শনও তার চিন্তাজগতে প্রভাব ফেলেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আল মাহমুদের কবিতার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ—এসব ঘটনাও তার সাহিত্যনির্ভর ব্যক্তিত্বের দিকটি তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন—এমন মূল্যায়নও রয়েছে লেখাটিতে। মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতে বঙ্গভবন যেন দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে—এমন অভিমতও তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও লেখক তার হেয়ার রোডের বাসভবনে যান।
সেসময় তিনি বাসার সবুজ চত্বরে দিনকাল অনলাইনকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। পরে তাদের ড্রয়িংরুমে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টিমুখ করান এবং প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ঘরের দেয়ালে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তার কবিতা আবৃত্তির একটি ছবি ছিল।
আলাপচারিতায় তিনি বিএনপিতে যোগদান, দলের মহাসচিবের দায়িত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, কারাবরণ, সাহিত্য ও বই পড়ার প্রতি নিজের আগ্রহ এবং জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি ৮৮ ভোট পান।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ছয়জন ভোটদানে বিরত থাকেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ব্যালট বাক্স ও স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান লাল গোলাপ দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও তাকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
এর ফলে সংসদে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার রাজনৈতিক জীবন প্রায় পাঁচ দশকের। দলের জন্য তার ত্যাগের কথাও লেখাটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এবং এর আগে ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। লেখাটিতে তাকে দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা হয় এবং তিনি ১১ বার কারাগারে যান।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম গুরুতর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় মির্জা ফখরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের পুরো সময় তাকে কারাগারে থাকতে হয়। লেখাটিতে এটিকে তার জীবনের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত ত্যাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, সংযত ভাষা এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতার কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন বলে লেখাটিতে বলা হয়েছে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের সংসদীয় ও সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা ধরনের নির্যাতনের পরও দল ছেড়ে যাননি।
দীর্ঘ সময় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বারবার কারাবরণের বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর মাধ্যমে তার ত্যাগের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে সভায় বলা হয়।
তারেক রহমান আরও আবেগঘনভাবে বলেন, বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময়ে মির্জা ফখরুল যখন বারবার কারাগারে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সেই সিনিয়র নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মির্জা ফখরুলের মতো একজন মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন মূল্যায়নও লেখাটিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রপতির যে ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ছিল, তার বাইরে একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও সেখানে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দলের আস্থার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন।
ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং শপথ গ্রহণের পর তিনি এটিকে ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা না করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও ত্যাগের ফল হিসেবে দেখার কথা জানান।
রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ১১ বার কারাগারে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় সব মিলিয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর বা তারও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কিছু অভিযোগকে লেখাটিতে অবাস্তব, বানোয়াট ও হাস্যকর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সাবেক এই মন্ত্রীকে ময়লার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় তাকে বোমা বা ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশের ওয়াকিটকি সেট ও সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে গাড়ি বা বাস ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাকে হুকুমের আসামি কিংবা সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহু মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।
বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বরের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। এর আগের দিন নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে মির্জা ফখরুল নিজের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। লেখাটিতে বলা হয়েছে, একজন প্রবীণ জাতীয় নেতাকে পুলিশ কর্মকর্তারা রূঢ় ভাষায় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে নিষেধ করেন।
আদালতে নেওয়া ও আদালত থেকে ফেরানোর সময় তাকে সাধারণ কয়েদিদের মতো প্রিজন ভ্যানে দীর্ঘ সময় রাখা হতো বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা টানাহেঁচড়ার মতো আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করে। ওই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য প্রেস ক্লাব ঘিরে রেখেছেন। প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার এড়ানো এবং ক্লাবের ভেতরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি সেদিন রাতে প্রেস ক্লাবেই থেকে যান। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই একটি সাধারণ কক্ষে তাকে রাত কাটাতে হয় বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ জানুয়ারি দুপুরে তিনি প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি ঘিরে তাকে নামতে বলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ গাড়ির দরজা খুলে তাকে টানাহেঁচড়া করে নামিয়ে আনে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।
পরে তাকে পুলিশের মাইক্রোবাসে করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হলেও সেখানে পুলিশি অবরোধ এবং একজন প্রবীণ নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে লেখাটিতে ক্লাবটির ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়ের ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি ব্লকেজ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং বয়সজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, একাধিকবার কারাবরণ, কারাগারে চিকিৎসার অভাব এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও সেখানে বলা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের বড় শক্তি, রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসারের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারার কথা তিনি নিজেই বলেছেন। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সন্তানদের দেখাশোনা করেছেন, সংসার পরিচালনা করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতা সামলেছেন—এ কারণে তিনি স্ত্রীকে তার রাজনৈতিক জীবনের পেছনের একজন ‘নীরব যোদ্ধা’ হিসেবে দেখেন।
তিনি মনে করেন, স্ত্রীর এই সহযোগিতা ছাড়া দেশ ও দলের জন্য তার পক্ষে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব হতো না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লেখাটিতে সাহিত্য, দর্শন ও বিশ্বসাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী একজন প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা সাবেক এই শিক্ষক বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের নিয়মিত পাঠক। কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি কঠিন সময়েও সাহিত্যকে তিনি আত্মিক শক্তির উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তার বক্তব্যে জীবনানন্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়ে বই ও কবিতা তার সঙ্গী ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলে থাকাকালে ডায়েরি লেখা এবং কবিতা আবৃত্তি করে সময় কাটানোর কথাও তিনি বলেছেন।
তার রাজনৈতিক দর্শনে সাহিত্য ও মানবিকতার সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, আর সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তোলে; তাই সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনীতি রুক্ষ ও বিপজ্জনক হতে পারে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইয়ের ভাবনা উল্লেখ করেছেন। বড় একটি লক্ষ্য অর্জনের পরও সামনে আরও অনেক পথ বাকি থাকে—এই ধারণাকে তিনি গণতন্ত্রের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কারাগারে থাকাকালে ইতালীয় দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির ‘প্রিজন নোট বুকস’ থেকেও তিনি রাজনৈতিক চিন্তার কথা তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে হতাশা থাকলেও ইচ্ছাশক্তি ও চেতনায় আশাবাদ ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল প্রায়ই জীবনানন্দ দাশের কবিতার আশ্রয় নেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বড় জনসভায় দেশের মানুষের দুর্দশা বোঝাতে তিনি জীবনানন্দের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।
বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময় নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি প্রার্থনামূলক বক্তব্যও ব্যবহার করতেন। সেখানে বিপদের সময় ভয় না পাওয়া এবং ঈশ্বরের শক্তির ওপর আস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
গণতন্ত্র সম্পর্কে তার বক্তব্যে শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়, বরং নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। তার মতে, জিয়াউর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেননি; বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মতের মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন।
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং খাল খনন, তৈরি পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানির সূচনার মতো অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথাও মির্জা ফখরুলের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তার মতে, আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরিতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও সাধারণ জীবনযাপনকেও তিনি বর্তমান তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় মনে করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তার সাধারণ জীবনধারাকে ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি ও জনগণের সেবার দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সিপাহি ও জনতা রাজপথে নেমে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের শাসনভার তার হাতে তুলে দিয়েছিল।
তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান কোনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেননি; দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে জনগণই তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতেন এবং দলের নেতাকর্মী ও শিল্পীরা গান-কবিতা পরিবেশন করতেন।
এমন একটি অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ ও আশাবাদের কবিতা আবৃত্তি করেন। তার আবৃত্তিতে বেগম খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আয়োজিত এক আবেগঘন শোকসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কবি আল মাহমুদের ‘খালেদা’ কবিতা আবৃত্তি করেন।
কবিতাটিতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকসভায় মির্জা ফখরুল যখন কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন, তখন তার নিজের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। কবিতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের আবেগঘন দিকটি তিনি তুলে ধরেন।
এমন একজন রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে বঙ্গভবন আরও আলোকিত হোক এবং সেই আলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে লেখাটির সমাপ্তি টানা হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
সর্বোচ্চ ২৫৫ ভোট পেয়ে তার জয়কে শুধু নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার পর এটি একজন নেতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা, ১১ দফা কারাবরণ এবং স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের সময়েও বন্দিজীবন—এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন।
রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়েও তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য-চর্চায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও নেলসন ম্যান্ডেলার দর্শনও তার চিন্তাজগতে প্রভাব ফেলেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আল মাহমুদের কবিতার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ—এসব ঘটনাও তার সাহিত্যনির্ভর ব্যক্তিত্বের দিকটি তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন—এমন মূল্যায়নও রয়েছে লেখাটিতে। মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতে বঙ্গভবন যেন দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে—এমন অভিমতও তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও লেখক তার হেয়ার রোডের বাসভবনে যান।
সেসময় তিনি বাসার সবুজ চত্বরে দিনকাল অনলাইনকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। পরে তাদের ড্রয়িংরুমে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টিমুখ করান এবং প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ঘরের দেয়ালে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তার কবিতা আবৃত্তির একটি ছবি ছিল।
আলাপচারিতায় তিনি বিএনপিতে যোগদান, দলের মহাসচিবের দায়িত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, কারাবরণ, সাহিত্য ও বই পড়ার প্রতি নিজের আগ্রহ এবং জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি ৮৮ ভোট পান।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।
জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ছয়জন ভোটদানে বিরত থাকেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ব্যালট বাক্স ও স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান লাল গোলাপ দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও তাকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানান।
এর ফলে সংসদে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার রাজনৈতিক জীবন প্রায় পাঁচ দশকের। দলের জন্য তার ত্যাগের কথাও লেখাটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এবং এর আগে ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। লেখাটিতে তাকে দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা হয় এবং তিনি ১১ বার কারাগারে যান।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম গুরুতর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় মির্জা ফখরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের পুরো সময় তাকে কারাগারে থাকতে হয়। লেখাটিতে এটিকে তার জীবনের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত ত্যাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, সংযত ভাষা এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতার কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন বলে লেখাটিতে বলা হয়েছে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের সংসদীয় ও সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা ধরনের নির্যাতনের পরও দল ছেড়ে যাননি।
দীর্ঘ সময় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বারবার কারাবরণের বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর মাধ্যমে তার ত্যাগের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে সভায় বলা হয়।
তারেক রহমান আরও আবেগঘনভাবে বলেন, বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময়ে মির্জা ফখরুল যখন বারবার কারাগারে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সেই সিনিয়র নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
মির্জা ফখরুলের মতো একজন মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন মূল্যায়নও লেখাটিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রপতির যে ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ছিল, তার বাইরে একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও সেখানে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দলের আস্থার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন।
ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং শপথ গ্রহণের পর তিনি এটিকে ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা না করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও ত্যাগের ফল হিসেবে দেখার কথা জানান।
রাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ১১ বার কারাগারে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় সব মিলিয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর বা তারও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কিছু অভিযোগকে লেখাটিতে অবাস্তব, বানোয়াট ও হাস্যকর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সাবেক এই মন্ত্রীকে ময়লার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় তাকে বোমা বা ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশের ওয়াকিটকি সেট ও সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকার বিভিন্ন সড়কে গাড়ি বা বাস ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাকে হুকুমের আসামি কিংবা সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহু মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।
বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বরের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। এর আগের দিন নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।
পরদিন সকালে মির্জা ফখরুল নিজের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। লেখাটিতে বলা হয়েছে, একজন প্রবীণ জাতীয় নেতাকে পুলিশ কর্মকর্তারা রূঢ় ভাষায় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে নিষেধ করেন।
আদালতে নেওয়া ও আদালত থেকে ফেরানোর সময় তাকে সাধারণ কয়েদিদের মতো প্রিজন ভ্যানে দীর্ঘ সময় রাখা হতো বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা টানাহেঁচড়ার মতো আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করে। ওই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য প্রেস ক্লাব ঘিরে রেখেছেন। প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার এড়ানো এবং ক্লাবের ভেতরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি সেদিন রাতে প্রেস ক্লাবেই থেকে যান। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই একটি সাধারণ কক্ষে তাকে রাত কাটাতে হয় বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৬ জানুয়ারি দুপুরে তিনি প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি ঘিরে তাকে নামতে বলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ গাড়ির দরজা খুলে তাকে টানাহেঁচড়া করে নামিয়ে আনে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।
পরে তাকে পুলিশের মাইক্রোবাসে করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হলেও সেখানে পুলিশি অবরোধ এবং একজন প্রবীণ নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে লেখাটিতে ক্লাবটির ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়ের ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি ব্লকেজ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং বয়সজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, একাধিকবার কারাবরণ, কারাগারে চিকিৎসার অভাব এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও সেখানে বলা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের বড় শক্তি, রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসারের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারার কথা তিনি নিজেই বলেছেন। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সন্তানদের দেখাশোনা করেছেন, সংসার পরিচালনা করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতা সামলেছেন—এ কারণে তিনি স্ত্রীকে তার রাজনৈতিক জীবনের পেছনের একজন ‘নীরব যোদ্ধা’ হিসেবে দেখেন।
তিনি মনে করেন, স্ত্রীর এই সহযোগিতা ছাড়া দেশ ও দলের জন্য তার পক্ষে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব হতো না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লেখাটিতে সাহিত্য, দর্শন ও বিশ্বসাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী একজন প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা সাবেক এই শিক্ষক বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের নিয়মিত পাঠক। কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি কঠিন সময়েও সাহিত্যকে তিনি আত্মিক শক্তির উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
তার বক্তব্যে জীবনানন্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়ে বই ও কবিতা তার সঙ্গী ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলে থাকাকালে ডায়েরি লেখা এবং কবিতা আবৃত্তি করে সময় কাটানোর কথাও তিনি বলেছেন।
তার রাজনৈতিক দর্শনে সাহিত্য ও মানবিকতার সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, আর সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তোলে; তাই সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনীতি রুক্ষ ও বিপজ্জনক হতে পারে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইয়ের ভাবনা উল্লেখ করেছেন। বড় একটি লক্ষ্য অর্জনের পরও সামনে আরও অনেক পথ বাকি থাকে—এই ধারণাকে তিনি গণতন্ত্রের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
কারাগারে থাকাকালে ইতালীয় দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির ‘প্রিজন নোট বুকস’ থেকেও তিনি রাজনৈতিক চিন্তার কথা তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে হতাশা থাকলেও ইচ্ছাশক্তি ও চেতনায় আশাবাদ ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল প্রায়ই জীবনানন্দ দাশের কবিতার আশ্রয় নেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বড় জনসভায় দেশের মানুষের দুর্দশা বোঝাতে তিনি জীবনানন্দের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।
বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময় নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি প্রার্থনামূলক বক্তব্যও ব্যবহার করতেন। সেখানে বিপদের সময় ভয় না পাওয়া এবং ঈশ্বরের শক্তির ওপর আস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
গণতন্ত্র সম্পর্কে তার বক্তব্যে শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়, বরং নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেন।
একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। তার মতে, জিয়াউর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেননি; বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মতের মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন।
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং খাল খনন, তৈরি পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানির সূচনার মতো অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথাও মির্জা ফখরুলের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তার মতে, আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরিতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও সাধারণ জীবনযাপনকেও তিনি বর্তমান তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় মনে করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তার সাধারণ জীবনধারাকে ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি ও জনগণের সেবার দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সিপাহি ও জনতা রাজপথে নেমে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের শাসনভার তার হাতে তুলে দিয়েছিল।
তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান কোনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেননি; দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে জনগণই তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।
প্রতি বছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতেন এবং দলের নেতাকর্মী ও শিল্পীরা গান-কবিতা পরিবেশন করতেন।
এমন একটি অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ ও আশাবাদের কবিতা আবৃত্তি করেন। তার আবৃত্তিতে বেগম খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আয়োজিত এক আবেগঘন শোকসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কবি আল মাহমুদের ‘খালেদা’ কবিতা আবৃত্তি করেন।
কবিতাটিতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকসভায় মির্জা ফখরুল যখন কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন, তখন তার নিজের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। কবিতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের আবেগঘন দিকটি তিনি তুলে ধরেন।
এমন একজন রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে বঙ্গভবন আরও আলোকিত হোক এবং সেই আলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে লেখাটির সমাপ্তি টানা হয়েছে।
সূত্র: আমার দেশ

আপনার মতামত লিখুন