নওগাঁর পোরশায় আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান।সভায় উপজেলার ১৯টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সিসিটিভি স্থাপন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।এ সময় পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং পূজা উদযাপন কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
আজ ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজশাহী বিভাগের মান্যবর বিভাগীয় কমিশনার জনাব মোঃ ইউসুফ আলী সিরাজগঞ্জ জেলা সফরের অংশ হিসেবে তাড়াশ উপজেলা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন মহোদয়ের সাথে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ আমিনুল ইসলাম ও তাড়াশ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ নুসরাত জাহান।সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তাড়াশ উপজেলায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরবর্তীতে তাড়াশ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন এবং বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।শিক্ষার মানোন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান সময়ে পরকীয়া একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিবাহবহির্ভূত এ ধরনের সম্পর্কের কারণে পরিবারে অশান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে। নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনা দেখা যায়।বিশেষ করে জীবিকা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে অনেক পুরুষ স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় প্রবাসে অবস্থান করেন। এ সময় কখনো কখনো তাদের স্ত্রী পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক এবং জেনা-ব্যভিচারের মতো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার পর নিজের ভুল উপলব্ধি করে তওবা করলে তার সঙ্গে স্বামীর সংসার করা জায়েজ কি না—এমন প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই রয়েছে।সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহর কাছে এক ব্যক্তি এ বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, পরকীয়া বা ব্যভিচারে জড়িয়ে পড়ার কারণে স্বামী-স্ত্রীর বিদ্যমান বিবাহ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায় না। স্ত্রী তওবা করার পরও নতুন করে বিয়ে পড়ানোর প্রয়োজন নেই; আগের বিবাহই বহাল থাকে।শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, স্ত্রীকে অবশ্যই আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। খাঁটি তওবার জন্য পাপের কারণে অনুতপ্ত হওয়া, সঙ্গে সঙ্গে সেই পাপের কাজ ছেড়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে আর কখনো ওই কাজে জড়িত না হওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।তিনি আরও বলেন, এরপর স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণভাবে স্বামীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। স্বামী যদি মনে করেন, তিনি স্ত্রীকে ক্ষমা করে অতীতের বিষয়টি পেছনে ফেলে নতুনভাবে সুন্দর দাম্পত্য জীবন শুরু করতে পারবেন, তাহলে তিনি সংসার চালিয়ে যেতে পারেন।আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলামে মানুষের পাপ গোপন রাখার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই স্ত্রীর এমন পাপের বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ না করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উত্তম।তবে স্বামী যদি মনে করেন, এ ধরনের বিশ্বাসভঙ্গ মেনে নিয়ে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবে সংসার করা সম্ভব নয় এবং এর ফলে দাম্পত্য জীবনে স্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি হবে, তাহলে শরীয়ত তাকে স্ত্রীকে তালাক দেওয়া কিংবা আলাদা হয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।তবে স্ত্রী যদি প্রথমবার এমন ভুল করে এবং পরে আন্তরিকভাবে তওবা করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই উচিত বলে মত দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। সূত্র: যুগান্তর
সম্প্রতি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের একটি এক্স পোস্ট থেকে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে নাকি একটি ‘অভূতপূর্ব চুক্তি’ হয়েছে। ওই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘আরও’ বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে নতুন করে ঠিক কতটি উড়োজাহাজ কেনা হবে, সে তথ্য সার্জিও গোর তার পোস্টে প্রকাশ করেননি।বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক বাস্তবতার মধ্যে বিবিসি, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে এ-সংক্রান্ত খবর পড়তে গিয়ে ছোটবেলার একটি গল্প মনে পড়ে যায়। তখন গ্রামবাংলা এখনকার মতো নাগরিক আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বিদ্যুতের বাতি না থাকলেও কুপিবাতি ও হারিকেনের আলোতেই মানুষের জীবন চলত। পথঘাট ছিল অনুন্নত ও অসমান। এখনকার মতো রিকশা কিংবা ব্যাটারিচালিত যানবাহনের আধিপত্যও তখন ছিল না। মালামাল বহনের ক্ষেত্রে চতুষ্পদ ঘোটক বা ঘোড়াই ছিল প্রধান ভরসা।বাংলায় গর্দভের অনুপস্থিতির কারণে ঘোড়াকেই অনেক ক্ষেত্রে গর্দভের কাজ করতে হতো। যারা ঘোড়ার পিঠে ধান-চাল পরিবহনের দৃশ্য দেখেছেন, তারা জানেন, সাধারণত ঘোড়ার দুই পাশে দুটি বস্তা রশি দিয়ে বিশেষভাবে ঝুলিয়ে বাঁধা হতো। পাশাপাশি পেটের চারপাশে একটি বেল্ট দিয়ে তা আটকানো থাকত। তবে কখনো কখনো অবিবেচক সহিস ঘোড়ার পিঠের ওপর আরও একটি বস্তা তুলে দিতেন। পরে সেটিকেও পেটের চারপাশের চ্যাপটা বেল্টের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হতো।শোনা যায়, ঘোড়ার পেটের বেল্ট যত বেশি শক্ত বা টাইট করে বাঁধা হতো, তার চলার গতি নাকি তত বেড়ে যেত। কিন্তু এতে ঘোড়ার পেটে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হতো। ফলে তার অন্ত্রে জমে থাকা বাতাস ভটভট শব্দ করে পশ্চাদ্দেশ দিয়ে বের হতে থাকত, যাকে নেত্রকোনার আঞ্চলিক ভাষায় ‘পাদ’ দেওয়া বলা হয়।একবার নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার একেবারে উত্তরের একটি গ্রাম থেকে এক সহিস তিন বস্তা ধান ঘোড়ায় করে বিক্রির জন্য বারহাট্টা বাজারে নিয়ে আসবেন। দুটি বস্তা পর্যন্ত কোনো সমস্যা ছিল না। কিন্তু তৃতীয় বস্তাটি ঘোড়ার পিঠে তুলে বেল্ট শক্ত করে বাঁধতে শুরু করতেই তার পশ্চাদ্দেশ দিয়ে ভটভট শব্দে বাতাস বের হতে থাকে। কিন্তু সহিস ছিলেন নাছোড়বান্দা। তিনি ঘোড়াকে লক্ষ্য করে বলতে থাকেন, ‘বেটা ঘোড়া, যতই পাদাপাদি করো, বারহাট্টা তোমাকে যেতেই হবে।’গত কয়েক বছরে বাংলার সাধারণ মানুষের ওপর যেভাবে একের পর এক আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে, তাতে পরিস্থিতি যেন সেই বারহাট্টার ঘোড়ার মতোই হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিনই যেন তাদের পিঠে নতুন কোনো বোঝা যুক্ত হচ্ছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে মানুষের আয় কমে যাচ্ছে। এই দ্বিমুখী চাপে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম।ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে যে মূল্যবৃদ্ধির শুরু হয়েছিল, তার যেন আর শেষ নেই। কখনো পেঁয়াজের দাম বাড়ছে, কখনো সয়াবিনের। এরপর চাল, ডাল, মরিচ—একটির পর একটি নিত্যপণ্যের মূল্য বেড়েছে। কিন্তু মানুষের আয়ের মিটার সেই হারে কখনোই ঊর্ধ্বমুখী হয়নি। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার, ডিজেল ও পেট্রোলের ব্যয় তো রয়েছেই।সমাজজীবনের এমন বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নতুন করে ‘আরও’ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—যার কথা লেখার শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির ধারাবাহিকতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে চলতি বছরের এপ্রিলে বিমানের সঙ্গে বোয়িংয়ের ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল।ওই চুক্তি অনুযায়ী আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট কেনার কথা রয়েছে। এই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বোয়িংয়ের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। আর বাকি উড়োজাহাজগুলো ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।বোয়িং কেনার এ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সে সময় যাদের জন্য এসব উড়োজাহাজ কেনা হবে, সেই ‘বিমান কর্তৃপক্ষ’ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল যে, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানে না।এরপর গত ৩০ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদের সভায় ১৪টি বোয়িং কেনার বিষয়ে ‘নীতিগত’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত একটি ‘অপ্রকাশযোগ্য বাণিজ্য চুক্তি’তে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই পরিস্থিতিতে বর্তমান সরকার আগের ১৪টি উড়োজাহাজের সঙ্গে নতুন করে ‘আরও’ বোয়িং কেনার উদ্যোগ নিচ্ছে।জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনসের বহরে বোয়িংয়ের মতো সম্ভ্রান্ত বংশীয় উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার কথা শুনতে ভালোই লাগে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, এসব উড়োজাহাজ কেনার অর্থ আসবে কোথা থেকে? অর্থনীতিবিদরা হিসাব দিয়ে বলছেন, দেশের বৈশ্বিক ঋণ ইতোমধ্যে ১১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। টাকার হিসাবে সেই অঙ্ক কত, তা হয়তো সবার মাথায় সহজে আসে না। তবে এতটুকু বোঝা যায় যে, জাতীয় ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত ঘোড়ারূপী জনগণের পিঠেই গিয়ে পড়ে।এর মধ্যেই কয়েক মাস আগে, ২০২৬ সালের জুনে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ছে।কৃষকের ব্যবহৃত সারের দামও বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ২৩ জুলাই প্রকাশিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা সম্পর্কিত সর্বশেষ বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৮১ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়তে পারে। এদের মধ্যে ৭ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ আইপিসি ফেজ ৩ বা তার ওপরে, অর্থাৎ চরম জরুরি অবস্থার মুখে পড়তে পারে।অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ক্রমেই ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে সম্প্রতি মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত একটি এফএসআরইউ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ১৬ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এলএনজি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরকারের ভর্তুকির চাপও বাড়ছে।২০১৮-১৯ অর্থবছরে এলএনজি আমদানি শুরু হওয়ার সময় সরকার প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছিল। এরপর ২০২১-২২, ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪—এই তিন অর্থবছরে প্রতিবছর ভর্তুকির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে পৌঁছেছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। (ডেইলি স্টার, ২৯ জুলাই, ২০২৬)।শুধু গ্যাস, বিদ্যুৎ কিংবা তেলের দামই নয়, মাছ, মাংস, সবজিসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বাড়ছে। এর পাশাপাশি বাড়ছে বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও ওষুধের খরচ, যাতায়াত ব্যয় এবং সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। অন্যদিকে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও ধীরে ধীরে কমে আসছে।বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে নানা কারণে পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে কয়েক লাখ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।এমন পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যেই সরকার প্রথমে ১৪টি এবং পরে অনির্দিষ্টসংখ্যক ‘আরও’ বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনীতির সাধারণ নিয়মে এসব সিদ্ধান্ত ও বাড়তি ব্যয়ের চাপ কখনো সরাসরি, আবার কখনো পরোক্ষভাবে জনগণের ওপরই এসে পড়ে।ফলে বারহাট্টার সেই ঘোড়ার মতো জনগণের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে অহর্নিশি যে ভটভট শব্দ বের হচ্ছে, তা সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন তারাই, যাদের ওপর এই বোঝা চাপছে। কিন্তু সময়ের সেই অদৃশ্য সহিস যেন এখনো বলে চলেছে—‘যতই ভটভট করো না কেন, দাম আর খরচের বোঝা তোমাকে টানতেই হবে’। সূত্র: ইত্তেফাক
স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। একটি ফোনের মধ্যেই থাকে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ব্যাংকিং তথ্য এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট।তাই ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে দেরি না করে দ্রুত কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।প্রথমেই—ফোনটি লক করার চেষ্টা করুন।অন্য কোনো ফোন বা কম্পিউটার থেকে আপনার Android-এর Google Account-এর Find My Device অথবা iPhone-এর Find My ব্যবহার করে ফোনটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। ফোন অনলাইনে থাকলে এর অবস্থান দেখা, লক করা কিংবা প্রয়োজন হলে ডিভাইসের তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ থাকতে পারে।দ্বিতীয়ত—গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত করুন।ফোনে যদি Gmail, Facebook, Messenger, WhatsApp কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্ট লগইন করা থাকে, দ্রুত পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন এবং সম্ভব হলে অন্য ডিভাইস থেকে হারানো ফোনের সেশন লগআউট করুন।তৃতীয়ত—সিম কার্ড বন্ধ করুন।আপনার ফোনে থাকা সিম ব্যবহার করে কেউ যেন কল, SMS বা OTP-এর অপব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিমটি বন্ধ করে নতুন SIM নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।চতুর্থত—মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।ফোনে বিকাশ, নগদ, ব্যাংকিং অ্যাপ বা অন্য কোনো আর্থিক সেবা থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেবাদাতার অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করুন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিন।কেউ ফোন ফেরত দেওয়ার কথা বলে আপনার PIN, OTP বা পাসওয়ার্ড চাইলে কখনোই দেবেন না।পঞ্চমত—পুলিশকে জানান।ফোন চুরি হলে নিকটস্থ থানায় বিষয়টি জানান এবং প্রয়োজনীয় জিডি/অভিযোগ করার ব্যবস্থা করুন। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের কাছে জানানো ঘটনাগুলো সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে।এ সময় ফোনের IMEI নম্বর, মোবাইল নম্বর, ফোনের মডেল ও কেনার প্রমাণপত্র থাকলে সঙ্গে রাখুন। IMEI নম্বর সাধারণত ফোনের বাক্স, ক্রয় রসিদ বা আগে সংরক্ষণ করে রাখা তথ্য থেকে পাওয়া যেতে পারে।বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থায় IMEI barring-এর ব্যবস্থা রয়েছে।আর যদি অপারেটর বা সংশ্লিষ্ট সেবার বিষয়ে অভিযোগের সমাধান না হয়, বিটিআরসির অভিযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমেও অভিযোগ করা যায়।সবশেষে মনে রাখবেন—ফোন হারানোর পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।ফোন খোঁজার পাশাপাশি নিজের SIM, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আর্থিক অ্যাকাউন্টগুলো নিরাপদ করুন।আপনার ফোন চুরি বা হারিয়ে গেলে দেরি না করে আজই এই বিষয়গুলো মনে রাখুন।এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন এবং নিউজটি শেয়ার করে অন্যদেরও জানিয়ে দিন।
বাংলার নিভৃত জলাভূমি, ঘন ঝোঁপঝাড় কিংবা পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনে নীরবে বসবাস করে এক চতুর শিকারি—জাঙ্গল ক্যাট, যা আমাদের কাছে বন বিড়াল, জংলি বিড়াল বা খাগড়া বিড়াল নামেই বেশি পরিচিত। মানুষের চোখের আড়ালে থাকলেও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।অভিযোজন আর বেঁচে থাকার লড়াইবন বিড়াল অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার অধিকারী। গাছে ওঠা, সাঁতার কাটা কিংবা দ্রুত দৌড়ানো—সব ক্ষেত্রেই এরা পারদর্শী। নিশাচর হওয়ায় দিনের আলোয় খুব কমই দেখা মেলে এদের। রাত নামলেই শুরু হয় খাদ্য অনুসন্ধান, আর সেই খোঁজে এক রাতে ৩ থেকে ৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করাও এদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। বাংলাদেশের হাওর-বাঁওড়, নদী-তীরবর্তী এলাকা এবং ধানক্ষেত ঘেঁষা ঝোঁপঝাড়ে এদের উপস্থিতি বেশি। পরিবেশের সঙ্গে এমনভাবে মিশে থাকতে পারে যে, অনেক সময় কাছাকাছি থাকলেও মানুষ টের পায় না।কৃষকের নীরব বন্ধুবন বিড়ালের খাদ্যতালিকায় আছে পাখি, খরগোশ, গিরগিটি, মাছ, ব্যাঙ, এমনকি সাপও। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এরা বিপুল পরিমাণ ইঁদুর ও ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এই ইঁদুরই ধান ও অন্যান্য ফসলের বড় শত্রু। ফলে বন বিড়াল কৃষকের অজান্তেই ফসল রক্ষা করে। এক অর্থে বলা যায়, রাসায়নিক কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে প্রাকৃতিকভাবেই কাজ করছে প্রাণীটি। যদিও মাঝে মাঝে খাবারের অভাবে গ্রামাঞ্চলের হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়ে হানা দেয় কিন্তু সেই ক্ষতি সামগ্রিক উপকারের তুলনায় খুবই সামান্য।মানুষের সঙ্গে দ্বন্দ্বমানুষের সঙ্গে বন বিড়ালের সম্পর্ক সব সময় ইতিবাচক নয়। অনেক সময় মানুষ এটিকে ক্ষতিকর ভেবে হত্যা করে। আবার গ্রামাঞ্চলে ‘বাঘের বাচ্চা’ বা ‘বিপজ্জনক প্রাণী’ বলে ভুল ধারণাও আছে। এই ভুল বোঝাবুঝির কারণেই অনেক বন বিড়াল অকারণে প্রাণ হারাচ্ছে। অথচ বাস্তবে এরা মানুষের জন্য হুমকি নয়।হুমকির মুখে আবাসস্থলবর্তমানে বন বিড়ালের সবচেয়ে বড় সংকট হলো আবাসস্থল হারানো। জলাভূমি ভরাট, বন উজাড়, কৃষিজমির পরিবর্তন—এসব কারণে এদের বসবাসের জায়গা দ্রুত কমে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাপী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব ন্যাচার বন বিড়ালকে ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও স্থানীয়ভাবে অনেক জায়গায় এদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক ।আইন ও সংরক্ষণ উদ্যোগবাংলাদেশে ওয়াইল্ডলাইফ (কনজারভেশন অ্যান্ড সিকিউরিটি) অ্যাক্ট অনুযায়ী বন বিড়াল সংরক্ষিত প্রাণী। এ আইনের আওতায় এই প্রাণী হত্যা, শিকার বা ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে শুধু আইন করলেই যথেষ্ট নয়—প্রয়োজন বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা। প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীরই নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। বন বিড়াল খাদ্যশৃঙ্খলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রেখে এটি ফসল রক্ষা করে এবং একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে। এদের সংখ্যা কমে গেলে ইঁদুরের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে—যা সরাসরি মানুষের জীবনেও প্রভাব ফেলবে।সচেতনতা প্রয়োজনপ্রকৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, বন বিড়াল রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সচেতনতা বৃদ্ধি। এজন্য দরকার গ্রামাঞ্চলে প্রচারণা চালানো, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা ও স্কুল-কলেজ পর্যায়ে পরিবেশ শিক্ষা জোরদার করা। এসব উদ্যোগ গ্রহণ করলে বন বিড়ালসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী নিরাপদে বেঁচে থাকতে পারবে।নিঃশব্দে, নিভৃতে নিজের কাজ করে যায় বন বিড়াল। মানুষের উপকার করেও বিনিময়ে পায় অবহেলা, কখনো নির্মমতা। প্রকৃতির এই অজানা সহযোদ্ধাকে রক্ষা করা মানে শুধু একটি প্রাণীকে বাঁচানো নয়—বরং আমাদের নিজেদের পরিবেশ, কৃষি ও ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। প্রকৃতি আর প্রাণের এই সূক্ষ্ম ভারসাম্য টিকিয়ে রাখতে বন বিড়াল বেঁচে থাকুক—এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম ভিত্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা ও নিরপেক্ষতা। তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বর্তমানে এসব মৌলিক নীতির ক্ষেত্রে এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কথিত নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো সাংবাদিকতার দীর্ঘদিনের ক্ষতকে আবারও সামনে এনেছে। শরীয়তপুরে সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর ওপর হামলা, ধারাবাহিক হয়রানি ও আইনি জটিলতার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান মফস্বল সাংবাদিকতার একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে।সাংবাদিক নেতারা যখন একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জটিল হয়ে পড়ে। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব কিংবা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না থাকায় ক্ষমতাশালী মহলের সামনে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন।পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তা, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শরীয়তপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসন—এই তিন ধরনের চাপের কারণে সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়।রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায়শরীয়তপুরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক নেতৃত্ব—এই তিনটি ক্ষমতাকাঠামোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার শুরুতে কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ও তিনটি দেয়াল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।প্রেসক্লাবের সদস্যরা প্রায় ৩০ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে জায়গাটির উন্নয়ন করে আসছিলেন। এর মধ্যে পার্ক সম্প্রসারণের কথা বলে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয় যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতেই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মফস্বল সাংবাদিকতার একটি বড় সংকট সামনে আসে। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার একই সময়ে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ কার্যক্রম মেনে নেওয়া সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ট্যাগ এবং মব-জাস্টিসের অভিযোগপ্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী অবস্থান নেন। এরপর তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ইসরাফিলের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’এ ধরনের বক্তব্যকে শুধু ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ বলেও দেখা হচ্ছে। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, সেখানে রাজনৈতিক ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি জায়গা করে নেয়, তাহলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া কঠিন হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতাদের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। দলীয় পদধারী এসব নেতার বিরুদ্ধে ভিন্নমতের সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার অভিযোগও রয়েছে। আবার ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা বা জেল-জুলুমের শিকার হলেও তারা প্রতিবাদ না করে বরং সেই পরিস্থিতিকে সমর্থন করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানির অভিযোগশরীয়তপুরের ঘটনাপ্রবাহে সাংবাদিক নির্যাতনের আরেকটি দিক হিসেবে পাল্টা মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। সাংবাদিক ইসরাফিলসহ আক্রান্ত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা এবং পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ করা হলে পুলিশ তা গ্রহণ করেছে।সাংবাদিকদের অভিযোগ, এটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সাংবাদিকদের চাপে রাখার একটি কৌশল। তাদের ভাষ্য, কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নিলে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের আইনি জটিলতায় ফেলে মানসিকভাবে দুর্বল করা এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।সাংবাদিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়’—বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই কথাটি অনেকের কাছে কঠিন সত্য হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য কেউ কেউ সাংবাদিক নেতৃত্বের অবস্থান থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকায় যুক্ত হন। এতে সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও দলীয় এজেন্ডা থেকে পেশাগতভাবে দূরে থাকা।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক প্রেসক্লাব সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতির প্রভাববলয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা বা দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও লবিং বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।একজন সাংবাদিক নেতা যখন একই সঙ্গে বড় রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার আনুগত্য সাংবাদিকতার চেয়ে দলের প্রতি বেশি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে দলীয় কোনো নেতা-কর্মীর হাতে সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতারা নীরব থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে আক্রান্ত সাংবাদিকদেরই মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।শরীয়তপুরের ক্ষেত্রেও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের আরও একাকী করে তুলছে।প্রশাসন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাসাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট।ঢাকাকেন্দ্রিক গণমাধ্যমের মালিক ও নীতিনির্ধারকেরা মফস্বল প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেন না—এমন অভিযোগ রয়েছে। মফস্বলের সাংবাদিকদের অনেকেই সীমিত বেতন কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে শুধু লাইনেজ বা প্রকাশিত সংবাদের পরিমাণের ভিত্তিতে পাওয়া অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন।স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা কিংবা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু এসব প্রতিবেদন করার কারণে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে হুমকি বা হামলার মুখে পড়লে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান অনেক সময় দূরত্ব কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণ দেখিয়ে পিছিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিকও এমন পরিস্থিতিতে নিজের প্রতিষ্ঠানকে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের আরও দুর্বল করে দেয়। নিজের প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব ও স্থানীয় প্রশাসন—কেউ পাশে না থাকলে ক্ষমতাশালী মহলের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া সাংবাদিকের সামনে আর কোনো পথ থাকে না—এমন বাস্তবতাই সামনে আসে।সারাদেশেই সাংবাদিক নির্যাতনের একই চিত্রশরীয়তপুরের ঘটনাকে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতার চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতনের একটি অভিন্ন ধারা চোখে পড়ে।এর প্রথম ধাপ হিসেবে তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত করার বিষয়টি সামনে আসে। সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের তথ্য চাইলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন কিংবা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। কোনো নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভেঙে ফেলা যেমন প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার উদাহরণ, তেমনি সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি আড়াল করতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, মফস্বল এলাকায় পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় ক্ষমতাশালী বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন হয়ে কাজ করে—এমন অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে মামলা নিতে গড়িমসি করা, অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া এবং পরে তাদের ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলা—এসব অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। বিপরীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ দ্রুত তা গ্রহণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ নীরব থাকে কিংবা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে। সাংবাদিকদের নিজেদের এই বিভক্তিকেই অপরাধীরা কাজে লাগায় বলে অভিযোগ রয়েছে।সাংবাদিকতায় জরুরি সংস্কারসাংবাদিকতার এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সাংবাদিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন।প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রে এমন বিধান থাকা প্রয়োজন, কোনো ব্যক্তি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে কিংবা রাজনৈতিক দলের পদে থাকলে তিনি সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। কারণ সাংবাদিকতা ও সক্রিয় দলীয় রাজনীতি একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল থাকা প্রয়োজন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো প্রতিনিধি হামলা বা মামলার শিকার হলে কেন্দ্রীয় আইনি দলের মাধ্যমে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেওয়া উচিত।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা জাতীয় সংসদের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিক হামলা বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার হলে কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে। স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার সুযোগও থাকা প্রয়োজন।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে দায়ের করা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষ সেল থাকা দরকার। তদন্ত ছাড়া এসব মামলায় কোনো সাংবাদিককে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা যাবে না—এমন আইনি বিধানও প্রয়োজন।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল ও জাহিদ হাসান রনিদের লড়াই শুধু ব্যক্তিগত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নয়; এটি মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার সংগ্রামও। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব ও কর্মস্থলের সহায়তার অভাবে সাংবাদিকরা যেভাবে ক্ষমতাশালী মহলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ছেন, তা গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া জরুরি। তা না হলে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।ডেস্কে বসে তৈরি করা সংবাদের তুলনায় মাঠে গিয়ে সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে যারা ঝুঁকি নিচ্ছেন, তাদের একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাংবাদিক সমাজ—সবার। ক্ষমতাশালী মহলের সামনে সাংবাদিকদের আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে অন্যায়, নির্যাতন ও দুর্নীতির খবর মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: দি ডেইলি এদিন
একটি গণমাধ্যমের শক্তি তার লোগোতে নয়, মানুষের আস্থায়। দর্শক-শ্রোতা-পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনগণের কথা তুলে ধরার সক্ষমতাই একটি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন গণমাধ্যম—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বাংলাদেশ বেতারকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।বিটিভির লোগো পরিবর্তন নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—শুধু লোগো পরিবর্তন করলেই কি রাষ্ট্রায়ত্ত এই সম্প্রচারমাধ্যমের দর্শক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে? নাকি প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, সংবাদ পরিবেশনের ধরন, ব্যবস্থাপনা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন?বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের মতে, বিটিভির লোগো পরিবর্তনের চেয়ে বেশি জরুরি প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্বশীল ও গণমুখী গণমাধ্যমে পরিণত করা। সংগঠনটির দাবি, বিটিভির দর্শক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের বসবাস রাজধানীর বাইরে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিদিনের অসংখ্য ঘটনা জাতীয় গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে থেকে যায়। অথচ এসব এলাকার মানুষের জীবন, সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়নচিত্রই বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম যদি জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়, তাহলে তার সংবাদ কাভারেজও হওয়া উচিত জনগণকেন্দ্রিক। উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি থাকলে স্থানীয় সমস্যা, প্রশাসনের কার্যক্রম, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি, নদীভাঙন, দুর্যোগ, অপরাধ, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার খবর সরাসরি জাতীয় সম্প্রচারে উঠে আসতে পারে।এতে শুধু বিটিভির সংবাদভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে না; তৃণমূলের মানুষও রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে নিজেদের গণমাধ্যম হিসেবে ভাবার সুযোগ পাবে।আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও ভাবনার বিষয়রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাও নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিটিভির আয় ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।আগের কয়েক বছরের হিসাবেও আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, বিপরীতে ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, আর ব্যয় বেড়ে হয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা।২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার টাকা, বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩০৭ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা।এই পরিসংখ্যান কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের কার্যকারিতা, ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে।বাসসের সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকারবাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা—বাসসের অবস্থাও নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। দেশে বিপুলসংখ্যক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও বাসসের গ্রাহকসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।বাসসের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির গ্রাহক ৪৮টি; এর মধ্যে নিয়মিত সেবা নেয় ২৮টি মিডিয়া। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাসসের নিজস্ব সংবাদসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংস্থার সঙ্গে খবর আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকলেও বিদেশে বাসসের নিজস্ব গ্রাহক না থাকা প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির গ্রাহক বাসস। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহে বাসসকে অন্য সংস্থার সেবা নিতে হচ্ছে, অথচ নিজের উৎপাদিত সংবাদ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সক্ষমতা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।বাসসের বিজ্ঞাপন আয়ও নেই। বার্ষিক গ্রাহক ফি থেকে আয় প্রায় ৬৭ লাখ টাকা হলেও সেই অর্থও অনাদায়ী থাকার কথা বলা হচ্ছে। বিপরীতে সরকার থেকে বছরে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অনুদান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠতেই পারে—রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত একটি সংবাদ সংস্থা কীভাবে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য অপরিহার্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে?বাসসকে ঘিরে দলীয়করণ, ইচ্ছেমতো নিয়োগ ও পদোন্নতির মতো অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের চাকরি ও অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জনস্বার্থে অবদান।ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশ বেতারের চ্যালেঞ্জবিটিভি ও বাসসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারও রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় দেশের কোটি মানুষের কাছে সংবাদ, বিনোদন ও জনসচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বেতার।কিন্তু ডিজিটাল যুগে মানুষের তথ্য গ্রহণের অভ্যাস বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে।এই বাস্তবতায় শুধু পুরোনো কাঠামো ধরে রাখলে হবে না। বাংলাদেশ বেতারকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় কনটেন্ট, দ্রুত সংবাদ এবং জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি।তৃণমূলে প্রতিনিধি বাড়ানোর প্রয়োজনবাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির ১৪ দফা দাবির মধ্যেও এটি অন্যতম।দাবিটি বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি সাংবাদিকের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর সুফল শুধু কর্মসংস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহের পরিধিও বহুগুণে বাড়তে পারে।একজন স্থানীয় প্রতিনিধি তার এলাকার এমন অনেক খবর জানেন, যা ঢাকার কোনো ডেস্কের পক্ষে নিয়মিতভাবে জানা সম্ভব নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, নৈতিকতার মানদণ্ড এবং পেশাগত জবাবদিহির আওতায় এসব প্রতিনিধিকে কাজে লাগানো গেলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সংবাদভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।লোগোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আস্থাএকটি গণমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ব্র্যান্ডের বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পরিবর্তন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।বিটিভির পর্দায় নতুন লোগো দর্শকের চোখে পড়বে; কিন্তু দর্শককে ধরে রাখবে ভালো অনুষ্ঠান, নির্ভরযোগ্য সংবাদ, দ্রুত আপডেট, স্থানীয় মানুষের কথা এবং রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া সাংবাদিকতা।একইভাবে বাসসের নতুন প্রযুক্তি কিংবা নতুন স্লোগান তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সংবাদ দেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ বেতারও তখনই তার পুরোনো শক্তি ফিরে পাবে, যখন শ্রোতা মনে করবেন—এই মাধ্যমটি তার জীবনের কথা বলে।প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কাররাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে কার্যকর করতে শুধু সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, পেশাদার নেতৃত্ব, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সংবাদ পরিবেশনের সংস্কৃতি এবং কঠোর জবাবদিহি।এর পাশাপাশি প্রয়োজন এমন সাংবাদিক, যারা চাকরিকে শুধু বেতন-ভাতার সুযোগ হিসেবে দেখবেন না; বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন। যারা মাঠে যাবেন, মানুষের কথা শুনবেন, তথ্য যাচাই করবেন এবং রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবেন।বেসরকারি গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে সরকারি প্রতিষ্ঠানসুলভ ধীরগতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পেশাদার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে হবে।বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতার কেবল সরকারি দপ্তর নয়; এগুলো জনগণের অর্থে পরিচালিত জাতীয় গণমাধ্যম। তাই এগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গে জনগণের অর্থ, তথ্যের অধিকার এবং দেশের গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।লোগো পরিবর্তন একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু দর্শকের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বড় পরিবর্তন—তৃণমূলে প্রতিনিধি, দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠান, দক্ষ মানবসম্পদ, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি সামাজিক দায়বদ্ধতা।রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে যদি সত্যিকার অর্থে গণমুখী করা যায়, তাহলে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরশীল এই তিন প্রতিষ্ঠানও একদিন বেসরকারি গণমাধ্যমের জন্য শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে।এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের দায়িত্বশীলরা কি পারবেন দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারকে আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও গণমানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে? লেখক: আহমেদ আবু জাফর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি,
নতুন মোটরসাইকেলের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায় বলে অনেকেই পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে বাহ্যিকভাবে ভালো দেখালেই মোটরসাইকেলটি ভালো—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। সামান্য অসতর্কতায় পুরাতন মোটরসাইকেল কিনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগে সবার আগে কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাই করা জরুরি। বিক্রেতার পরিচয় ও মালিকানার তথ্য মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর কাগজপত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।এরপর পরীক্ষা করতে হবে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অবস্থা। ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত ধোঁয়া, তেল লিকেজ বা অস্বাভাবিক কম্পন রয়েছে কি না লক্ষ্য করতে হবে। সম্ভব হলে ঠান্ডা ইঞ্জিনে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে পরীক্ষা করা ভালো।এছাড়া গিয়ার, ক্লাচ, ব্রেক, সাসপেনশন, চেইন-স্প্রকেট ও টায়ার ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, ব্রেক লাইট, হর্ন, মিটার, ব্যাটারি ও সেলফ-স্টার্টসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশও পরীক্ষা করে নিতে হবে।মোটরসাইকেলটি আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চেসিস বাঁকা, অতিরিক্ত ওয়েল্ডিং, নতুন রং বা বড় ধরনের মেরামতের চিহ্ন থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু কম দাম বা সুন্দর চেহারা দেখে পুরাতন মোটরসাইকেল কেনা উচিত নয়। কেনার আগে কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে ইঞ্জিন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।তাই পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিয়ে প্রতিটি বিষয় যাচাই করুন। কয়েক মিনিটের সতর্কতা আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
নতুন ফোনের তুলনায় কম দামে পুরাতন বা ব্যবহৃত স্মার্টফোন কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে যাচাই-বাছাই না করে পুরাতন ফোন কিনলে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ ফোন কেনার ঝুঁকিও রয়েছে।পুরাতন ফোন কেনার আগে প্রথমেই ফোনটির IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি। ফোনে *#06# ডায়াল করে IMEI নম্বর বের করে বক্স, রসিদ ও ফোনের নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি ফোনটি হারানো বা চুরি সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় আছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।এরপর ফোনের ডিসপ্লে, টাচস্ক্রিন, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। ফোনে অতিরিক্ত গরম হওয়া, দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, ডিসপ্লেতে দাগ বা লাইন এবং হঠাৎ রিস্টার্ট হওয়ার মতো সমস্যা আছে কি না লক্ষ্য করা প্রয়োজন।বিশেষ করে Google Account/FRP Lock অথবা iPhone-এর Activation Lock রয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট ফোনে থেকে গেলে পরবর্তীতে ফোন ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হতে পারে।এছাড়া ফোনটি আগে খোলা বা মেরামত করা হয়েছে কি না, কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং ফোনের RAM, Storage ও মডেল নম্বর সঠিক আছে কি না—সেটিও যাচাই করা উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরাতন ফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফোনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, মালিকানার প্রমাণ ও IMEI যাচাই করে কেনা নিরাপদ। সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশ্বস্ত টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ফোনটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।তাই পুরাতন ফোন কেনার আগে একটু সময় নিয়ে যাচাই করুন, এতে ভবিষ্যতে প্রতারণা ও অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।