ঢাকা    বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
ইনসাফ টাইম ২৪

মতামত

সাংবাদিকের রাজনীতি নাকি রাজনীতির চাপে সাংবাদিকতা?

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম ভিত্তি হলো বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভীকতা ও নিরপেক্ষতা। তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা বর্তমানে এসব মৌলিক নীতির ক্ষেত্রে এক গভীর অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।সম্প্রতি শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের কথিত নিষ্ক্রিয়তা এবং স্থানীয় প্রেসক্লাবের ভূমিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলো সাংবাদিকতার দীর্ঘদিনের ক্ষতকে আবারও সামনে এনেছে। শরীয়তপুরে সময় টিভির প্রতিনিধি এ বি এম ইসরাফিল, নিউজ ২৪-এর প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি, দ্য ডেইলি স্টারের জাহিদ হাসান রনি এবং দৈনিক এদিনের শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ বরকত উল্লাহর ওপর হামলা, ধারাবাহিক হয়রানি ও আইনি জটিলতার অভিযোগকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি বাংলাদেশের বর্তমান মফস্বল সাংবাদিকতার একটি কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরে।সাংবাদিক নেতারা যখন একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন, তখন সাধারণ সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই জটিল হয়ে পড়ে। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব কিংবা সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না থাকায় ক্ষমতাশালী মহলের সামনে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকরা অনেক সময় অসহায় হয়ে পড়েন।পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তা, প্রকাশ্য হুমকি কিংবা নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। শরীয়তপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতা ও আমলাতান্ত্রিক আগ্রাসন—এই তিন ধরনের চাপের কারণে সাংবাদিকরা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়।রক্ষকই যখন ভক্ষকের ভূমিকায়শরীয়তপুরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাংবাদিক নেতৃত্ব—এই তিনটি ক্ষমতাকাঠামোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার শুরুতে কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যবাহী শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ও তিনটি দেয়াল ভেঙে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।প্রেসক্লাবের সদস্যরা প্রায় ৩০ বছর ধরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ নিয়ে জায়গাটির উন্নয়ন করে আসছিলেন। এর মধ্যে পার্ক সম্প্রসারণের কথা বলে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমের নেতৃত্বে রাতের আঁধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আরও বিতর্কিত হয় যখন জেলা প্রশাসক দাবি করেন, প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেনের সম্মতিতেই এই উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মফস্বল সাংবাদিকতার একটি বড় সংকট সামনে আসে। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। একজন সাংবাদিক নেতার একই সময়ে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা তার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির ৮০ শতাংশ সদস্যের তথাকথিত মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ কার্যক্রম মেনে নেওয়া সাধারণ সাংবাদিকদের স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ট্যাগ এবং মব-জাস্টিসের অভিযোগপ্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সময় টিভির প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এ বি এম ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী অবস্থান নেন। এরপর তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ ওঠে।মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেনের ছেলে পলাশ এবং তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ইসরাফিলের ওপর হামলা চালান। এ ছাড়া প্রেসক্লাব উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় চত্বরে সাংবাদিক জাহিদ হাসান, বিধান মজুমদার ও বরকত মোল্লাও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা লেখবা, আমরা তোমাগো পিডামু। আমাগো কাছে অনেক সাংবাদিকের তালিকা আছে, রেডি থাইক্কো।’এ ধরনের বক্তব্যকে শুধু ব্যক্তিগত হুমকি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি স্বাধীন মতপ্রকাশ ও মুক্ত গণমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ বলেও দেখা হচ্ছে। স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষ যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, সেখানে রাজনৈতিক ক্যাডারভিত্তিক মব-জাস্টিস এবং গণমাধ্যমের ওপর হামলার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতনের পর যদি আরেকটি উগ্র ও সহিংস রাজনৈতিক সংস্কৃতি জায়গা করে নেয়, তাহলে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়া কঠিন হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও উপজেলা প্রেসক্লাব থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক নেতাদের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। দলীয় পদধারী এসব নেতার বিরুদ্ধে ভিন্নমতের সাংবাদিকদের কোণঠাসা করার অভিযোগও রয়েছে। আবার ভিন্নমতের সাংবাদিকরা হামলা বা জেল-জুলুমের শিকার হলেও তারা প্রতিবাদ না করে বরং সেই পরিস্থিতিকে সমর্থন করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে।হামলা, পাল্টা মামলা ও আইনি হয়রানির অভিযোগশরীয়তপুরের ঘটনাপ্রবাহে সাংবাদিক নির্যাতনের আরেকটি দিক হিসেবে পাল্টা মামলা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে এসেছে। সাংবাদিক ইসরাফিলসহ আক্রান্ত সাংবাদিকরা থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।অন্যদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা এবং পরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ করা হলে পুলিশ তা গ্রহণ করেছে।সাংবাদিকদের অভিযোগ, এটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া সাংবাদিকদের চাপে রাখার একটি কৌশল। তাদের ভাষ্য, কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা আইনি পদক্ষেপ নিলে পাল্টা চাঁদাবাজি বা মানহানির মামলা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সাংবাদিকদের আইনি জটিলতায় ফেলে মানসিকভাবে দুর্বল করা এবং শেষ পর্যন্ত আপস বা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।সাংবাদিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি‘সাংবাদিকরা যখন রাজনৈতিক নেতা হয়, তখন সাধারণ সাংবাদিকরা মার খায়’—বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় এই কথাটি অনেকের কাছে কঠিন সত্য হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।ব্যক্তিগত সুবিধা অর্জনের জন্য কেউ কেউ সাংবাদিক নেতৃত্বের অবস্থান থেকে সরাসরি রাজনৈতিক ভূমিকায় যুক্ত হন। এতে সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্যতম শর্ত হলো রাজনৈতিক দলের আদর্শ ও দলীয় এজেন্ডা থেকে পেশাগতভাবে দূরে থাকা।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অনেক প্রেসক্লাব সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতির প্রভাববলয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সংগঠনের নেতৃত্বে আসার ক্ষেত্রে পেশাগত যোগ্যতা বা দক্ষতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও লবিং বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।একজন সাংবাদিক নেতা যখন একই সঙ্গে বড় রাজনৈতিক দলের সহ-সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক হন, তখন তার আনুগত্য সাংবাদিকতার চেয়ে দলের প্রতি বেশি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। ফলে দলীয় কোনো নেতা-কর্মীর হাতে সাংবাদিক আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক নেতারা নীরব থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসন বা পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগের পরিবর্তে আক্রান্ত সাংবাদিকদেরই মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।শরীয়তপুরের ক্ষেত্রেও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন আক্রান্ত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কোনো উদ্যোগ নেননি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি মফস্বলের সৎ ও নির্ভীক সাংবাদিকদের আরও একাকী করে তুলছে।প্রশাসন ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের উদাসীনতাসাংবাদিক আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট।ঢাকাকেন্দ্রিক গণমাধ্যমের মালিক ও নীতিনির্ধারকেরা মফস্বল প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়ে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেন না—এমন অভিযোগ রয়েছে। মফস্বলের সাংবাদিকদের অনেকেই সীমিত বেতন কিংবা অনেক ক্ষেত্রে বিনা বেতনে শুধু লাইনেজ বা প্রকাশিত সংবাদের পরিমাণের ভিত্তিতে পাওয়া অর্থের বিনিময়ে কাজ করেন।স্থানীয় ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ আমলা কিংবা রাজনৈতিক ক্যাডারদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো পাঠক, টিআরপি বা ভিউ বাড়ানোর সুযোগ পায়। কিন্তু এসব প্রতিবেদন করার কারণে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও তার পরিবার স্থানীয়ভাবে হুমকি বা হামলার মুখে পড়লে কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান অনেক সময় দূরত্ব কিংবা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণ দেখিয়ে পিছিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।শরীয়তপুরে আক্রান্ত এক সাংবাদিকও এমন পরিস্থিতিতে নিজের প্রতিষ্ঠানকে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ করেছেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা মফস্বল সাংবাদিকদের আরও দুর্বল করে দেয়। নিজের প্রতিষ্ঠান, প্রেসক্লাব ও স্থানীয় প্রশাসন—কেউ পাশে না থাকলে ক্ষমতাশালী মহলের কাছে আত্মসমর্পণ করা ছাড়া সাংবাদিকের সামনে আর কোনো পথ থাকে না—এমন বাস্তবতাই সামনে আসে।সারাদেশেই সাংবাদিক নির্যাতনের একই চিত্রশরীয়তপুরের ঘটনাকে বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংবাদিকতার চিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাংবাদিক নির্যাতনের একটি অভিন্ন ধারা চোখে পড়ে।এর প্রথম ধাপ হিসেবে তথ্য পাওয়ার অধিকার সীমিত করার বিষয়টি সামনে আসে। সরকারি বা স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের তথ্য চাইলে সাংবাদিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, বর্তমানের সাইবার নিরাপত্তা আইন কিংবা সরকারি গোপনীয়তা আইনের ভয় দেখানো হয়। কোনো নোটিশ ছাড়া প্রেসক্লাবের দেয়াল ভেঙে ফেলা যেমন প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার উদাহরণ, তেমনি সরকারি প্রকল্পের দুর্নীতি আড়াল করতে সাংবাদিকদের তথ্য না দেওয়াও একই সংস্কৃতির অংশ।দ্বিতীয়ত, মফস্বল এলাকায় পুলিশ প্রশাসন স্থানীয় ক্ষমতাশালী বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন হয়ে কাজ করে—এমন অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিক আক্রান্ত হলে মামলা নিতে গড়িমসি করা, অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ দেওয়া এবং পরে তাদের ‘খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না’ বলা—এসব অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে। বিপরীতে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা করলে পুলিশ দ্রুত তা গ্রহণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রেসক্লাবগুলোও আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, জামায়াতপন্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পক্ষের সাংবাদিক আক্রান্ত হলে অন্য পক্ষ নীরব থাকে কিংবা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখে। সাংবাদিকদের নিজেদের এই বিভক্তিকেই অপরাধীরা কাজে লাগায় বলে অভিযোগ রয়েছে।সাংবাদিকতায় জরুরি সংস্কারসাংবাদিকতার এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সাংবাদিকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু মৌলিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন প্রয়োজন।প্রেসক্লাব বা সাংবাদিক সংগঠনের গঠনতন্ত্রে এমন বিধান থাকা প্রয়োজন, কোনো ব্যক্তি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে কিংবা রাজনৈতিক দলের পদে থাকলে তিনি সাংবাদিক সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচন বা নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। কারণ সাংবাদিকতা ও সক্রিয় দলীয় রাজনীতি একসঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।ঢাকার মূলধারার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর মফস্বল প্রতিনিধিদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়োগপত্র, সম্মানী এবং জরুরি আইনি ও চিকিৎসা তহবিল থাকা প্রয়োজন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো প্রতিনিধি হামলা বা মামলার শিকার হলে কেন্দ্রীয় আইনি দলের মাধ্যমে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেওয়া উচিত।রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন সাংবাদিক সুরক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা জাতীয় সংসদের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবে। কোনো সাংবাদিক হামলা বা হয়রানিমূলক মামলার শিকার হলে কমিশন স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে। স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনের গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করার সুযোগও থাকা প্রয়োজন।সাংবাদিকদের সত্য প্রকাশে বাধা দিতে দায়ের করা হয়রানিমূলক পাল্টা মামলা কিংবা চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিশেষ সেল থাকা দরকার। তদন্ত ছাড়া এসব মামলায় কোনো সাংবাদিককে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা যাবে না—এমন আইনি বিধানও প্রয়োজন।শরীয়তপুরের মোহাম্মদ বরকত উল্লাহ, বিধান মজুমদার, এ বি এম ইসরাফিল ও জাহিদ হাসান রনিদের লড়াই শুধু ব্যক্তিগত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই নয়; এটি মফস্বল সাংবাদিকতার স্বাধীনতা টিকিয়ে রাখার সংগ্রামও। প্রশাসন, পুলিশ, প্রেসক্লাব ও কর্মস্থলের সহায়তার অভাবে সাংবাদিকরা যেভাবে ক্ষমতাশালী মহলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ছেন, তা গণতান্ত্রিক ও সভ্য সমাজের জন্য উদ্বেগজনক।সাংবাদিক নেতাদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বন্ধ করা এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কর্মীদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নেওয়া জরুরি। তা না হলে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়বে।ডেস্কে বসে তৈরি করা সংবাদের তুলনায় মাঠে গিয়ে সত্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে যারা ঝুঁকি নিচ্ছেন, তাদের একাকীত্ব ও অসহায়ত্ব দূর করার দায়িত্ব রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাংবাদিক সমাজ—সবার। ক্ষমতাশালী মহলের সামনে সাংবাদিকদের আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করা না গেলে ভবিষ্যতে অন্যায়, নির্যাতন ও দুর্নীতির খবর মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। সূত্র: দি ডেইলি এদিন

মতামত ৩০ মিনিট আগে

বিটিভির লোগো নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমে রূপান্তর

একটি গণমাধ্যমের শক্তি তার লোগোতে নয়, মানুষের আস্থায়। দর্শক-শ্রোতা-পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনগণের কথা তুলে ধরার সক্ষমতাই একটি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করে। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন গণমাধ্যম—বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বাংলাদেশ বেতারকে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।বিটিভির লোগো পরিবর্তন নিয়ে যখন আলোচনা চলছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—শুধু লোগো পরিবর্তন করলেই কি রাষ্ট্রায়ত্ত এই সম্প্রচারমাধ্যমের দর্শক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে? নাকি প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামো, সংবাদ পরিবেশনের ধরন, ব্যবস্থাপনা এবং তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন?বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের মতে, বিটিভির লোগো পরিবর্তনের চেয়ে বেশি জরুরি প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্বশীল ও গণমুখী গণমাধ্যমে পরিণত করা। সংগঠনটির দাবি, বিটিভির দর্শক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধির সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের বসবাস রাজধানীর বাইরে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকার প্রতিদিনের অসংখ্য ঘটনা জাতীয় গণমাধ্যমের আলোচনার বাইরে থেকে যায়। অথচ এসব এলাকার মানুষের জীবন, সংকট, সম্ভাবনা ও উন্নয়নচিত্রই বাংলাদেশের সামগ্রিক বাস্তবতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম যদি জনগণের অর্থে পরিচালিত হয়, তাহলে তার সংবাদ কাভারেজও হওয়া উচিত জনগণকেন্দ্রিক। উপজেলা পর্যায়ে দক্ষ ও দায়িত্বশীল প্রতিনিধি থাকলে স্থানীয় সমস্যা, প্রশাসনের কার্যক্রম, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কৃষি, নদীভাঙন, দুর্যোগ, অপরাধ, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার খবর সরাসরি জাতীয় সম্প্রচারে উঠে আসতে পারে।এতে শুধু বিটিভির সংবাদভাণ্ডার সমৃদ্ধ হবে না; তৃণমূলের মানুষও রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে নিজেদের গণমাধ্যম হিসেবে ভাবার সুযোগ পাবে।আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও ভাবনার বিষয়রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনাও নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বিটিভির আয় ছিল ৮ কোটি ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৫৪ কোটি ১৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।আগের কয়েক বছরের হিসাবেও আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা যায়। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৩৪ কোটি ৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা, বিপরীতে ব্যয় ২৮০ কোটি ৮১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে আয় ৪০ কোটি ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ২৮৫ কোটি ৪৭ লাখ ২৭ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আয় দাঁড়ায় ৩০ কোটি ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, আর ব্যয় বেড়ে হয় ৩৭০ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার টাকা।২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিটিভির আয় ছিল ৪৪ কোটি ৪১ লাখ ২২ হাজার টাকা, বিপরীতে ব্যয় হয়েছে ২৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ২৭ কোটি ৪৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ব্যয় ৩০৭ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা।এই পরিসংখ্যান কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের কার্যকারিতা, ব্যবস্থাপনা ও জনসম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে।বাসসের সংকটও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকারবাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা—বাসসের অবস্থাও নতুন করে মূল্যায়নের দাবি রাখে। দেশে বিপুলসংখ্যক সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেল থাকলেও বাসসের গ্রাহকসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়।বাসসের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির গ্রাহক ৪৮টি; এর মধ্যে নিয়মিত সেবা নেয় ২৮টি মিডিয়া। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাসসের নিজস্ব সংবাদসেবা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংবাদ সংস্থার সঙ্গে খবর আদান-প্রদানের ব্যবস্থা থাকলেও বিদেশে বাসসের নিজস্ব গ্রাহক না থাকা প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপির গ্রাহক বাসস। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংগ্রহে বাসসকে অন্য সংস্থার সেবা নিতে হচ্ছে, অথচ নিজের উৎপাদিত সংবাদ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সক্ষমতা এখনো প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি।বাসসের বিজ্ঞাপন আয়ও নেই। বার্ষিক গ্রাহক ফি থেকে আয় প্রায় ৬৭ লাখ টাকা হলেও সেই অর্থও অনাদায়ী থাকার কথা বলা হচ্ছে। বিপরীতে সরকার থেকে বছরে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অনুদান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে।এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠতেই পারে—রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত একটি সংবাদ সংস্থা কীভাবে আরও দক্ষ, প্রতিযোগিতামূলক ও সংবাদমাধ্যমগুলোর জন্য অপরিহার্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে?বাসসকে ঘিরে দলীয়করণ, ইচ্ছেমতো নিয়োগ ও পদোন্নতির মতো অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিক ও কর্মীদের চাকরি ও অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা ও জনস্বার্থে অবদান।ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশ বেতারের চ্যালেঞ্জবিটিভি ও বাসসের পাশাপাশি বাংলাদেশ বেতারও রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একসময় দেশের কোটি মানুষের কাছে সংবাদ, বিনোদন ও জনসচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বেতার।কিন্তু ডিজিটাল যুগে মানুষের তথ্য গ্রহণের অভ্যাস বদলে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমগুলোর প্রতিযোগিতা বেড়েছে।এই বাস্তবতায় শুধু পুরোনো কাঠামো ধরে রাখলে হবে না। বাংলাদেশ বেতারকে নতুন প্রজন্মের শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, স্থানীয় কনটেন্ট, দ্রুত সংবাদ এবং জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠানকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিনিধি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি।তৃণমূলে প্রতিনিধি বাড়ানোর প্রয়োজনবাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারে উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসছে। সাংবাদিকদের রুটি-রুজির ১৪ দফা দাবির মধ্যেও এটি অন্যতম।দাবিটি বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে দেড় হাজারের বেশি সাংবাদিকের কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এর সুফল শুধু কর্মসংস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহের পরিধিও বহুগুণে বাড়তে পারে।একজন স্থানীয় প্রতিনিধি তার এলাকার এমন অনেক খবর জানেন, যা ঢাকার কোনো ডেস্কের পক্ষে নিয়মিতভাবে জানা সম্ভব নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, নৈতিকতার মানদণ্ড এবং পেশাগত জবাবদিহির আওতায় এসব প্রতিনিধিকে কাজে লাগানো গেলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সংবাদভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে।লোগোর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আস্থাএকটি গণমাধ্যমের ব্র্যান্ডিং গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ব্র্যান্ডের বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পরিবর্তন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।বিটিভির পর্দায় নতুন লোগো দর্শকের চোখে পড়বে; কিন্তু দর্শককে ধরে রাখবে ভালো অনুষ্ঠান, নির্ভরযোগ্য সংবাদ, দ্রুত আপডেট, স্থানীয় মানুষের কথা এবং রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া সাংবাদিকতা।একইভাবে বাসসের নতুন প্রযুক্তি কিংবা নতুন স্লোগান তখনই অর্থবহ হবে, যখন তার সংবাদ দেশের সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ বেতারও তখনই তার পুরোনো শক্তি ফিরে পাবে, যখন শ্রোতা মনে করবেন—এই মাধ্যমটি তার জীবনের কথা বলে।প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কাররাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে কার্যকর করতে শুধু সরকারি বরাদ্দ বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, পেশাদার নেতৃত্ব, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সংবাদ পরিবেশনের সংস্কৃতি এবং কঠোর জবাবদিহি।এর পাশাপাশি প্রয়োজন এমন সাংবাদিক, যারা চাকরিকে শুধু বেতন-ভাতার সুযোগ হিসেবে দেখবেন না; বরং জনগণের প্রতি দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবেন। যারা মাঠে যাবেন, মানুষের কথা শুনবেন, তথ্য যাচাই করবেন এবং রাষ্ট্রের অর্থে পরিচালিত গণমাধ্যমকে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবেন।বেসরকারি গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হলে রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে সরকারি প্রতিষ্ঠানসুলভ ধীরগতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে পেশাদার গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে হবে।বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতার কেবল সরকারি দপ্তর নয়; এগুলো জনগণের অর্থে পরিচালিত জাতীয় গণমাধ্যম। তাই এগুলোর সাফল্য-ব্যর্থতার সঙ্গে জনগণের অর্থ, তথ্যের অধিকার এবং দেশের গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।লোগো পরিবর্তন একটি দৃশ্যমান পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু দর্শকের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজন তার চেয়ে অনেক বড় পরিবর্তন—তৃণমূলে প্রতিনিধি, দ্রুত ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠান, দক্ষ মানবসম্পদ, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি সামাজিক দায়বদ্ধতা।রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে যদি সত্যিকার অর্থে গণমুখী করা যায়, তাহলে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভরশীল এই তিন প্রতিষ্ঠানও একদিন বেসরকারি গণমাধ্যমের জন্য শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে।এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের দায়িত্বশীলরা কি পারবেন দীর্ঘদিনের সংকট কাটিয়ে বিটিভি, বাসস ও বাংলাদেশ বেতারকে আরও দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও গণমানুষের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে? লেখক: আহমেদ আবু জাফর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি,

মতামত ২ ঘন্টা আগে

পুরাতন মোটরসাইকেল কিনছেন? প্রতারিত হওয়ার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন।

নতুন মোটরসাইকেলের তুলনায় কম দামে পাওয়া যায় বলে অনেকেই পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তবে বাহ্যিকভাবে ভালো দেখালেই মোটরসাইকেলটি ভালো—এমনটা ভাবা ঠিক নয়। সামান্য অসতর্কতায় পুরাতন মোটরসাইকেল কিনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগে সবার আগে কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাই করা জরুরি। বিক্রেতার পরিচয় ও মালিকানার তথ্য মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন নম্বর ও চেসিস নম্বর কাগজপত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে হুবহু মিলছে কি না নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।এরপর পরীক্ষা করতে হবে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের অবস্থা। ইঞ্জিনে অস্বাভাবিক শব্দ, অতিরিক্ত ধোঁয়া, তেল লিকেজ বা অস্বাভাবিক কম্পন রয়েছে কি না লক্ষ্য করতে হবে। সম্ভব হলে ঠান্ডা ইঞ্জিনে মোটরসাইকেল স্টার্ট দিয়ে পরীক্ষা করা ভালো।এছাড়া গিয়ার, ক্লাচ, ব্রেক, সাসপেনশন, চেইন-স্প্রকেট ও টায়ার ভালোভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। হেডলাইট, ইন্ডিকেটর, ব্রেক লাইট, হর্ন, মিটার, ব্যাটারি ও সেলফ-স্টার্টসহ সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশও পরীক্ষা করে নিতে হবে।মোটরসাইকেলটি আগে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। চেসিস বাঁকা, অতিরিক্ত ওয়েল্ডিং, নতুন রং বা বড় ধরনের মেরামতের চিহ্ন থাকলে সতর্ক হওয়া উচিত।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, শুধু কম দাম বা সুন্দর চেহারা দেখে পুরাতন মোটরসাইকেল কেনা উচিত নয়। কেনার আগে কাগজপত্র ও মালিকানা যাচাইয়ের পাশাপাশি অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে ইঞ্জিন ও গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া নিরাপদ।তাই পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সময় নিয়ে প্রতিটি বিষয় যাচাই করুন। কয়েক মিনিটের সতর্কতা আপনাকে ভবিষ্যতের বড় আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

মতামত ৩০ আগস্ট ২০২৬

পুরাতন ফোন কেনার আগে সতর্কতা, যে বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন।

নতুন ফোনের তুলনায় কম দামে পুরাতন বা ব্যবহৃত স্মার্টফোন কেনার প্রতি মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। তবে যাচাই-বাছাই না করে পুরাতন ফোন কিনলে প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ ফোন কেনার ঝুঁকিও রয়েছে।পুরাতন ফোন কেনার আগে প্রথমেই ফোনটির IMEI নম্বর যাচাই করা জরুরি। ফোনে *#06# ডায়াল করে IMEI নম্বর বের করে বক্স, রসিদ ও ফোনের নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি ফোনটি হারানো বা চুরি সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় আছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।এরপর ফোনের ডিসপ্লে, টাচস্ক্রিন, ক্যামেরা, স্পিকার, মাইক্রোফোন, চার্জিং পোর্ট, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস আনলক ভালোভাবে পরীক্ষা করতে হবে। ফোনে অতিরিক্ত গরম হওয়া, দ্রুত চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, ডিসপ্লেতে দাগ বা লাইন এবং হঠাৎ রিস্টার্ট হওয়ার মতো সমস্যা আছে কি না লক্ষ্য করা প্রয়োজন।বিশেষ করে Google Account/FRP Lock অথবা iPhone-এর Activation Lock রয়েছে কি না নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট ফোনে থেকে গেলে পরবর্তীতে ফোন ব্যবহারে জটিলতা তৈরি হতে পারে।এছাড়া ফোনটি আগে খোলা বা মেরামত করা হয়েছে কি না, কোনো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং ফোনের RAM, Storage ও মডেল নম্বর সঠিক আছে কি না—সেটিও যাচাই করা উচিত।বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরাতন ফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য বা কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ফোনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, মালিকানার প্রমাণ ও IMEI যাচাই করে কেনা নিরাপদ। সম্ভব হলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা বিশ্বস্ত টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ফোনটি পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো।তাই পুরাতন ফোন কেনার আগে একটু সময় নিয়ে যাচাই করুন, এতে ভবিষ্যতে প্রতারণা ও অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

মতামত ৩০ আগস্ট ২০২৬

সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব’ নীতি ছেড়ে সামরিক জোটে যোগ দেওয়া কতটা লাভজনক

 কূটনৈতিকভাবে প্রশংসা পাওয়ার মতো মনে হলেও সদ্য গঠিত মক্কা জোটে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এখন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।**জোটটিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে ঢাকায় আলোচনা চলছে। তিনটি প্রভাবশালী মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে সামরিক অংশীদারি এবং ন্যাটোর আদলে ‘একজনের ওপর হামলা হলে সবার ওপর হামলা’—এমন প্রতিশ্রুতি প্রস্তাবটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তবে বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্ত শুধু আবেগ বা প্রতীকের ভিত্তিতে নেওয়ার বিষয় নয়।বাংলাদেশের জন্য এ ধরনের সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার অর্থ হতে পারে বড় ধরনের অনিশ্চিত ঝুঁকি গ্রহণ। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনীতি, সামরিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারা বিবেচনায় সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার আগে কূটনৈতিক স্বাধীনতা ও নমনীয়তা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।মক্কা চুক্তি সৌদি আরব, তুরস্ক কিংবা পাকিস্তানের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সেটি বাংলাদেশের জন্যও একইভাবে উপকারী হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানবাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, কোন ধরনের নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় এই জোটে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশের চারপাশের নিরাপত্তা বাস্তবতা মূলত বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর, ভারত সীমান্ত, মিয়ানমার এবং রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে। দেশের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে সমুদ্রের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা।অন্যদিকে জোটের অন্য সদস্যদের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার ভিন্ন। সৌদি আরবের প্রধান উদ্বেগ পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা, ইরানের হুমকি এবং জ্বালানি তেল সরবরাহের নিরাপত্তা। তুরস্কের মনোযোগ সিরিয়া, ইরাক ও কৃষ্ণসাগরকেন্দ্রিক রাজনীতিতে। আর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক অগ্রাধিকার মূলত ভারত ও আফগানিস্তানকে ঘিরে।এ অবস্থায় জোটটির মূল নিরাপত্তা ভাবনা যদি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে হাজার হাজার মাইল দূরের বিষয়কে কেন্দ্র করে হয়, তাহলে এতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া কতটা যুক্তিসংগত—সেটি বিবেচনা করা প্রয়োজন।পাকিস্তান ফ্যাক্টর ও ভারতের অস্বস্তিজোটে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি ভারতের জন্য দৃশ্যত আরেকটি অস্বস্তির কারণ হতে পারে।১৯৭১ সালের পর সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিষয়টি ইতিবাচক হলেও পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিহাস একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। ফলে দেশের মানুষের কাছে সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার চেতনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক জোটে যুক্ত হলে দেশটির কৌশলগত বিরোধগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশও কোনোভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে পাকিস্তান-ভারত দ্বন্দ্ব কিংবা আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের বিরোধে বাংলাদেশের কোনো জাতীয় স্বার্থ নেই।অনেকে ভারতকে কৌশলগতভাবে চাপে রাখার জন্য বাংলাদেশের মক্কা জোটে যোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে ভৌগোলিক বাস্তবতায় প্রতিবেশীদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিবেশী পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তাই বৈরিতা তৈরি না করে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ।বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুই দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। মিয়ানমারে বর্তমানে গৃহযুদ্ধ চলছে। রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতার সম্ভাবনাও পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও টানাপোড়েন রয়েছে। বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের কোনো সামরিক জোটে যোগদান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতাবাংলাদেশের উচিত সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও সহযোগিতা বজায় রাখা। পাশাপাশি দেশের সামরিক বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা প্রয়োজন। তুরস্ক থেকে আধুনিক প্রযুক্তি সংগ্রহ কিংবা সৌদি আরবের সঙ্গে জ্বালানি খাতে সম্পর্ক আরও বাড়ানোও জরুরি।তবে এসব সহযোগিতার জন্য সামরিক জোটে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। অন্য কোনো অঞ্চলের দেশ আক্রান্ত হলে তার পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশকে আগাম যুদ্ধে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে কেন—এ প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ।দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হলো কোনো নির্দিষ্ট জোট বা পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। ওয়াশিংটন, বেইজিং, লন্ডন, মস্কো, দিল্লি ও রিয়াদ বিভিন্ন ইস্যুতে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে।সামরিক জোটে যুক্ত হলে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই আবেগ কিংবা শুধু ধর্মীয় সংহতির বিষয় বিবেচনা করে জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা ঠিক হবে না। ইসলামিক মূল্যবোধ বজায় রেখেও স্বাধীনভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা সম্ভব।মক্কা চুক্তি শেষ পর্যন্ত সফল হোক বা না হোক, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হতে পারে সরাসরি সামরিক জোটে যুক্ত না হয়ে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। নিজের কৌশলগত স্বাধীনতা ধরে রাখাই জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে। সূত্র: কালের কণ্ঠ

মতামত ২৬ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দিল্লিতে অস্থিরতা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে দেশটির গণমাধ্যম ও সাবেক কূটনীতিকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের সরকারপ্রধান কখন কোন দেশে সফর করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সংশ্লিষ্ট দেশেরই। ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রচারণা দেখে মনে হচ্ছে, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি ছুটে যাওয়া উচিত ছিল। শেখ হাসিনার শাসনামলে তার ভারত সফরের ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা দেখা গেছে।শেখ হাসিনার প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে বাংলাদেশের ওপর ভারতের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা ছিল বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার হরণ ও নিপীড়নের ক্ষেত্রে ভারতীয় সমর্থনের অভিযোগও রয়েছে। জনসমর্থনহীন সরকারকে সমর্থনের বিনিময়ে দিল্লি বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই সময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে তার স্বাতন্ত্র্য হারিয়েছিল বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন দুই দেশের সম্পর্ককে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। একই সময়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা চিরদিন মনে রাখবে।’লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি কার্যত ছিল না। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লির সাউথ ব্লকের সম্প্রসারিত অংশে পরিণত হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগও ক্রমে জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার পাশাপাশি ভারতনির্ভর রাজনৈতিক দলে পরিণত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।২০২৪ সালের জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের আগে ২০২৩ সালের নভেম্বরে সাভারের এক জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘দিল্লির আছে, আমরা আছি।’ লেখাটিতে এ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জনগণের সমর্থনের বদলে দিল্লির সমর্থনই তখন ক্ষমতায় থাকার প্রধান ভিত্তি ছিল।ভারতের সমর্থনে ক্ষমতা নবায়নের প্রায় ছয় মাস পর ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ ঘটে। এর মধ্য দিয়ে ভারতের সেই প্রভাবের অবসান ঘটে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ শুরু করে এবং আগের ভারতনির্ভর নীতি থেকে বেরিয়ে আসে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।লেখাটির ভাষ্য অনুযায়ী, হাসিনার পতনের চেয়েও বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দিল্লির জন্য বড় আঘাত হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে ভারতের গণমাধ্যম, থিংকট্যাংক ও সাবেক কূটনীতিকরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। দেশের ভেতরে ভারতের সফট পাওয়ার হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম ও থিংকট্যাংকগুলোরও ড. ইউনূসের প্রতি অবস্থান পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।ভারত আশা করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের পর নির্বাচিত সরকার ধীরে ধীরে ভারতের স্বার্থের অনুকূলে কাজ করবে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক চিন্তায় পরিবর্তনের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার আত্মমর্যাদাবোধ তৈরি হয়েছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনভাবে চলার নীতি থেকে বিচ্যুত করার চেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।লেখাটিতে বলা হয়েছে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী নেতারা মনে করেছিলেন, শেখ হাসিনার মতো তারেক রহমানকেও দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানালে তিনি দ্রুত সেখানে যাবেন। এ কারণে বিমসটেকের মতো ভারতনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াতে পলাতক শেখ হাসিনাকে দিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।ভারতের মাটিতে দণ্ডিত একজন অপরাধীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিতদের ফেরত চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ এখন দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো নেই; অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তিনি ভারত সফরে যাবেন।এর পর থেকেই ভারতের গণমাধ্যম ও সাবেক কূটনীতিকদের বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা বেড়েছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে দেশের আওয়ামীপন্থী প্রচারকদেরও যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, আমন্ত্রণ পাওয়ার পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়া উচিত ছিল। নির্ধারিত সময়ে সফর না করাকে ভারতের প্রতি অসম্মান হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে—এমন বক্তব্যও প্রচার করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।লেখাটিতে বলা হয়েছে, ভারত বাংলাদেশকে কোনো পণ্য বিনা মূল্যে দেয় না; প্রতিটি পণ্য বাংলাদেশকে কিনতে হয়। ভারত থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ডিজেল কেনে, তা দেশের মোট চাহিদার দশ ভাগের এক ভাগেরও কম। বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকেও ডিজেল কেনে। ভারতের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনা নিয়েও দেশের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাপাসিটি চার্জসহ বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনার কারণে বর্তমান বিদ্যুৎ খাতে বিপর্যয় তৈরি হয়েছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।আদানি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিকে মোদি সরকারকে ঘুষ দেওয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরার পালাটানায় ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সময় যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে তিতাস নদ ভরাট করে তৈরি রাস্তা দিয়ে নেওয়া এবং আশুগঞ্জ বন্দর ব্যবহার করে বিনাশুল্কে ভারতে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।এদিকে ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ত্রিদেশীয় মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আলোচনা শুরু হয়নি এবং বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণও জানানো হয়নি বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।তবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স প্রধানমন্ত্রীকে রিয়াদ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা প্রতিরক্ষা কাঠামোতে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ বিবেচনা করে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।লেখাটিতে বলা হয়েছে, যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বা জোটে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে। ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্পর্ক বিবেচনা করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হতে পারে না। কোনো ত্রিদেশীয় জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভ হয়, তাহলে সেখানে যোগ দেওয়া উচিত বলেও মত দেওয়া হয়েছে।ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান বা তুরস্কের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কারণে বাংলাদেশ এসব দেশের সঙ্গে গড়ে ওঠা কোনো জোটে যুক্ত হতে পারবে না—দিল্লির এমন প্রত্যাশা থাকা উচিত নয় বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সার্ককে অকার্যকর করার মাধ্যমে ভারত আঞ্চলিক জোটে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রনীতি ক্ষুদ্র স্বার্থনির্ভর এবং জোট গঠন ও নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজনীয় উদার নীতির অভাব রয়েছে বলেও লেখাটিতে মন্তব্য করা হয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র ইরানকে পরিত্যাগ করে ইসরাইলকে সহায়তা করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে দেশটির মিত্রদের প্রতি ভারতের অবস্থানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।সবশেষে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে দিল্লিতে যে বাংলাদেশবিরোধী আলোচনা ও প্রচারণা চলছে, তার পেছনে শেখ হাসিনা আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রভাব হারানোর বিষয়টি কাজ করছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ওপর দিল্লির আধিপত্যেরও অবসান হয়েছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ভারত ভবিষ্যতে তারেক রহমানের সরকারের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে পারে বলেও লেখাটিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে যে আত্মমর্যাদা ফিরে পেয়েছে, তা সহজে ছাড়বে না এবং তারেক রহমানের সরকার বিষয়টি উপলব্ধি করছে বলে লেখাটির শেষাংশে মন্তব্য করা হয়েছে। সূত্র: আমার দেশ

মতামত ২৫ আগস্ট ২০২৬

পরিবর্তনের প্রত্যাশা, পুরনো রাজনীতির প্রতিফলন: সংকটে এনসিপি

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানে তরুণ প্রজন্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোটা সংস্কারের নির্দিষ্ট ও অহিংস দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ অল্প সময়ের মধ্যেই সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলনে রূপ নেয়। সে সময় মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক ঐক্য ও আবেগ তৈরি হয়েছিল, তার লক্ষ্য শুধু সরকার পরিবর্তন ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা—সামাজিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের অবসান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ এবং জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও মৌলিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়া, ক্ষমতা প্রয়োগ এবং নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া সেই প্রত্যাশাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে।গণ-অভ্যুত্থানের পর বৈষম্যবিরোধী প্ল্যাটফর্মের রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ করে। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। কিন্তু শুরু থেকেই দলটি জনগণের ব্যাপক আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এর অন্যতম কারণ হিসেবে ক্ষমতার সঙ্গে দলীয় রাজনীতির সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। আন্দোলনের দুই শীর্ষ নেতা যখন অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তখনই তাদের প্রভাবে নতুন দল গঠনের কার্যক্রম এগিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। দলনিরপেক্ষ থাকার অঙ্গীকার করা অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ হয়েও রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই সমালোচিত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, নতুন দল গঠনে রাষ্ট্রযন্ত্র, আমলাতন্ত্র ও প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা ব্যবহার করা হয়েছে। এ কারণে দলটির জন্মের সময়ই ‘কিংস পার্টি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সরকার ও দলের মধ্যকার স্বার্থের সংঘাত তরুণ নেতৃত্বের সংস্কারকামী ভাবমূর্তিকেও দুর্বল করে।জুলাই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা ছিল রাষ্ট্রীয় জুলুম, গুম, খুন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আইনের শাসনের সংকট কাটার পরিবর্তে মব ভায়োলেন্সের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। রাজনৈতিক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রেও কাউকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গণপিটুনির দিকে ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জোর করে অপমানজনকভাবে পদত্যাগ করানো, মাজার ও উপাসনালয়ে হামলা, আদালত প্রাঙ্গণে আসামিদের ওপর হামলা, থানা ও সরকারি দপ্তরে বিশৃঙ্খলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব সহিংসতার ঘটনায় বহু মানুষ নিহত, গুরুতর আহত ও পঙ্গু হন; তাদের অনেকেই সম্পূর্ণ নিরপরাধ ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একটি অংশ নিজেদের এনসিপির নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও তাদের বিরুদ্ধে যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এমনকি কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ঘটনাকে ‘জনরোষ’ বা ‘বিপ্লবী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টায় বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন দিনের সূচনার প্রত্যাশা তৈরি করা তরুণ নেতৃত্বের সময়েই আইনের বিকল্প হিসেবে মব ভায়োলেন্সের বিস্তার সমাজে নতুন নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে।ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশের পর সততা ও দুর্নীতির প্রশ্নেও দলটির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ সামনে আসে। দল গঠনের আগে ও পরে বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নিয়োগ, বদলি, টেন্ডার এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ জনপরিসরে আসে। জেলা প্রশাসক নিয়োগে প্রভাব বিস্তার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলীয় ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার চেষ্টা এবং এনসিটিবির পাঠ্যপুস্তকের কাগজ কেনাকাটায় মধ্যস্বত্বভোগী কমিশনের সঙ্গে নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ার বিষয় সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়। একই সময়ে শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত সহকারী ও স্বজনদের ঘিরে তদবির বাণিজ্যের গুঞ্জনও মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করে। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশের কোনো নিরপেক্ষ বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবুও ক্ষমতার চর্চার শুরুতেই তরুণ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে পুরনো প্রশাসনিক দুর্নীতি ও তদবির সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ মানুষের প্রত্যাশাকে দুর্বল করে। এতে বোঝা যায়, শুধু বক্তব্যের মাধ্যমে পুরনো দুর্নীতির সংস্কৃতি দূর করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি ও আন্তরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা।রাজনৈতিক আদর্শ ও মতাদর্শের ক্ষেত্রেও দলটির অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তি ও বিচ্যুতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তির মধ্যে ছিল মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। এই সর্বজনীন অবস্থানের প্রতি আস্থা রেখেই প্রগতিশীল, মধ্যপন্থি ও সাধারণ নাগরিকদের অনেকে আন্দোলনে অংশ নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলটির নেতাদের পক্ষ থেকে জুলাই আন্দোলনকে ‘দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করে। একই সঙ্গে নির্বাচনী হিসাব ও ক্ষমতার সমীকরণের কারণে জামায়াতে ইসলামীর মতো আদর্শিকভাবে ভিন্ন মেরুর দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও সমঝোতার পথে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে। এর ফলে মুক্তমনা, সেক্যুলার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনগোষ্ঠীর একটি অংশের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারমুখী অবস্থান থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতা দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করে বলে লেখাটিতে তুলে ধরা হয়েছে।দলটির সংকটের আরেকটি বড় দিক হলো আন্দোলনের সামগ্রিক ও বহুমাত্রিক চরিত্রকে উপেক্ষা করে একক দলীয় কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর অর্জন ছিল না। রাজনৈতিক কর্মীদের পাশাপাশি দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা লাখ লাখ সাধারণ ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অংশগ্রহণ, রক্ত ও আত্মত্যাগের ফলেই কর্তৃত্ববাদী শাসনের পতন সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর এনসিপি এই যৌথ অর্জন ও ব্যাপক জনসমর্থনকে নিজেদের স্থায়ী ও একক রাজনৈতিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার ভুল করেছে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে। সম্মিলিত অর্জনকে একক দলীয় সম্পদে পরিণত করার এই প্রবণতায় অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে দলটির দূরত্ব বাড়ে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জেলা সফরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া না পাওয়ার ঘটনাগুলো দলটির মাঠপর্যায়ের বিচ্ছিন্নতার চিত্র তুলে ধরে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকটগুলোর একটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে। রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসনের তাত্ত্বিক বক্তব্যের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি থেকে স্বস্তি, স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে। মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টিও হতাশা বাড়ায়। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং পরিসংখ্যানে অর্থ পাচার নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকায় হতাশা আরও বাড়ে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক স্বস্তি নিশ্চিত করার বদলে ক্ষমতার পদ-পদবি বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের মধ্যে এক ধরনের মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়েছে।২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের একটি ঐতিহাসিক বিজয় ছিল। তরুণদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, ক্ষমতার আকর্ষণ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ, মব ভায়োলেন্সের বিস্তার এবং আদর্শিক বিচ্যুতির কারণে তা এখন বড় সংকটে পড়েছে। পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যদি পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রভাব-বাণিজ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে ক্ষতি শুধু একটি দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তরুণ নেতৃত্বের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষমতার সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে গিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মূল দর্শন—ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক সাম্য এবং সবাইকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করাই নতুন রাজনৈতিক শক্তির আত্মশুদ্ধি ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পথ হিসেবে লেখাটিতে তুলে ধরা হয়েছে। সূত্র: bdnews24

মতামত ২৩ আগস্ট ২০২৬

বঙ্গভবনে শুভ্রতার নতুন আবহ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বঙ্গভবনে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর—যাকে লেখাটিতে একজন মার্জিত, সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ২১ আগস্টের সন্ধ্যায় শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।সর্বোচ্চ ২৫৫ ভোট পেয়ে তার জয়কে শুধু নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রতিকূলতার পর এটি একজন নেতার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবেও বিবেচিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা, ১১ দফা কারাবরণ এবং স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের সময়েও বন্দিজীবন—এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তিনি রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন।রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়েও তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য-চর্চায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। একই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া ও নেলসন ম্যান্ডেলার দর্শনও তার চিন্তাজগতে প্রভাব ফেলেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে নজরুলের কবিতা আবৃত্তি কিংবা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আল মাহমুদের কবিতার মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ—এসব ঘটনাও তার সাহিত্যনির্ভর ব্যক্তিত্বের দিকটি তুলে ধরে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগকে স্বীকৃতি দিয়েছেন—এমন মূল্যায়নও রয়েছে লেখাটিতে। মির্জা ফখরুলের উপস্থিতিতে বঙ্গভবন যেন দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে—এমন অভিমতও তুলে ধরা হয়েছে।রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণার পর সাক্ষাৎবিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের নাম ঘোষণার পর ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাব সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী ও লেখক তার হেয়ার রোডের বাসভবনে যান।সেসময় তিনি বাসার সবুজ চত্বরে দিনকাল অনলাইনকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন। পরে তাদের ড্রয়িংরুমে বসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টিমুখ করান এবং প্রায় এক ঘণ্টা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। ঘরের দেয়ালে বেগম খালেদা জিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে তার কবিতা আবৃত্তির একটি ছবি ছিল।আলাপচারিতায় তিনি বিএনপিতে যোগদান, দলের মহাসচিবের দায়িত্ব, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, কারাবরণ, সাহিত্য ও বই পড়ার প্রতি নিজের আগ্রহ এবং জিয়া পরিবারের প্রতি ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি ৮৮ ভোট পান।দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘটনা ঘটে। এর আগে প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে রাষ্ট্রপতিরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্যের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দেন। ছয়জন ভোটদানে বিরত থাকেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ব্যালট বাক্স ও স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।মানুষের প্রতিক্রিয়ামির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান লাল গোলাপ দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানও তাকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ড. অলি আহমদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানান।এর ফলে সংসদে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একজন সজ্জন রাজনীতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তার রাজনৈতিক জীবন প্রায় পাঁচ দশকের। দলের জন্য তার ত্যাগের কথাও লেখাটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।২০১৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এবং এর আগে ২০১১ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। লেখাটিতে তাকে দলটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালনকারী মহাসচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন।১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছাত্রনেতা হিসেবে ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। সক্রিয় রাজনীতিতে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার আগে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন।বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনামলে তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা হয় এবং তিনি ১১ বার কারাগারে যান।২০২২ সালের ডিসেম্বরে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম গুরুতর অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় মির্জা ফখরুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর অস্ত্রোপচারের পুরো সময় তাকে কারাগারে থাকতে হয়। লেখাটিতে এটিকে তার জীবনের অন্যতম বড় ব্যক্তিগত ত্যাগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও ধৈর্য, সংযত ভাষা এবং দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখার সক্ষমতার কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন বলে লেখাটিতে বলা হয়েছে। ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্ব গ্রহণকে বাংলাদেশের সংসদীয় ও সাংবিধানিক ইতিহাসের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।তারেক রহমানের মূল্যায়ন১৯ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরেন।তিনি বলেন, দলের সবচেয়ে কঠিন সময়ে মির্জা ফখরুল সাহসের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা ধরনের নির্যাতনের পরও দল ছেড়ে যাননি।দীর্ঘ সময় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বারবার কারাবরণের বিষয়টি উল্লেখ করে তাকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বসানোর মাধ্যমে তার ত্যাগের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়েছে বলে সভায় বলা হয়।তারেক রহমান আরও আবেগঘনভাবে বলেন, বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময়ে মির্জা ফখরুল যখন বারবার কারাগারে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করছিলেন। সেই সিনিয়র নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে বলে তিনি জানান।মির্জা ফখরুলের মতো একজন মার্জিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করায় বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সরকারের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে—এমন মূল্যায়নও লেখাটিতে রয়েছে। অতীতে রাষ্ট্রপতির যে ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা ছিল, তার বাইরে একজন অভিভাবকসুলভ রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলকে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও সেখানে বলা হয়েছে।রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়ারাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং দলের আস্থার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে দেখেছেন।ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর এবং শপথ গ্রহণের পর তিনি এটিকে ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে বিবেচনা না করে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও ত্যাগের ফল হিসেবে দেখার কথা জানান।১১ বার কারাবরণ, ১১২ মামলারাজনৈতিক জীবনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মোট ১১ বার কারাগারে গেছেন। তার বিরুদ্ধে ১১২টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এসব মামলায় সব মিলিয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর বা তারও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর কিছু অভিযোগকে লেখাটিতে অবাস্তব, বানোয়াট ও হাস্যকর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও সাবেক এই মন্ত্রীকে ময়লার গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আসামি করা হয়েছিল।এ ছাড়া রাজনৈতিক সমাবেশে সহিংসতার ঘটনায় তাকে বোমা বা ককটেল নিক্ষেপ, পুলিশের ওয়াকিটকি সেট ও সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।ঢাকার বিভিন্ন সড়কে গাড়ি বা বাস ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাকে হুকুমের আসামি কিংবা সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগে বহু মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দমনপীড়নের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার কাছ থেকে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, আক্রমণাত্মক ও অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল বলেও সেখানে উল্লেখ রয়েছে।২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বরের ঘটনা২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বরের ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিল। এর আগের দিন নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।পরদিন সকালে মির্জা ফখরুল নিজের কার্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। লেখাটিতে বলা হয়েছে, একজন প্রবীণ জাতীয় নেতাকে পুলিশ কর্মকর্তারা রূঢ় ভাষায় কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশে নিষেধ করেন।আদালতে নেওয়া ও আদালত থেকে ফেরানোর সময় তাকে সাধারণ কয়েদিদের মতো প্রিজন ভ্যানে দীর্ঘ সময় রাখা হতো বলেও লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বয়স ও শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাকে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রাখা কিংবা টানাহেঁচড়ার মতো আচরণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে গ্রেপ্তার২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালন করে। ওই দিন দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন মির্জা ফখরুল।সংবাদ সম্মেলন শেষে বের হওয়ার সময় তিনি দেখতে পান, বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য প্রেস ক্লাব ঘিরে রেখেছেন। প্রধান ফটকেও তালা দেওয়া হয়।গ্রেপ্তার এড়ানো এবং ক্লাবের ভেতরে সংঘর্ষের আশঙ্কায় তিনি সেদিন রাতে প্রেস ক্লাবেই থেকে যান। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও বিশ্রামের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়াই একটি সাধারণ কক্ষে তাকে রাত কাটাতে হয় বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।৬ জানুয়ারি দুপুরে তিনি প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গাড়িটি ঘিরে তাকে নামতে বলেন। তিনি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ গাড়ির দরজা খুলে তাকে টানাহেঁচড়া করে নামিয়ে আনে বলে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে।পরে তাকে পুলিশের মাইক্রোবাসে করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সাংবাদিকদের কাছে জাতীয় প্রেস ক্লাব একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে বিবেচিত হলেও সেখানে পুলিশি অবরোধ এবং একজন প্রবীণ নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে লেখাটিতে ক্লাবটির ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।স্বাস্থ্যগত সংকটমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে ঘাড়ের ইন্টারনাল ক্যারোটিড আর্টারি ব্লকেজ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং বয়সজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, একাধিকবার কারাবরণ, কারাগারে চিকিৎসার অভাব এবং মানসিক ও শারীরিক চাপের কারণে তার স্বাস্থ্যগত সমস্যাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেও সেখানে বলা হয়েছে।স্ত্রীকে ‘নীরব যোদ্ধা’ মনে করেনমির্জা ফখরুল তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের বড় শক্তি, রাজনৈতিক অনুপ্রেরণা এবং ত্যাগের প্রতীক হিসেবে মূল্যায়ন করেন।দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসারের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারার কথা তিনি নিজেই বলেছেন। তার অনুপস্থিতিতে স্ত্রী সন্তানদের দেখাশোনা করেছেন, সংসার পরিচালনা করেছেন এবং নানা প্রতিকূলতা সামলেছেন—এ কারণে তিনি স্ত্রীকে তার রাজনৈতিক জীবনের পেছনের একজন ‘নীরব যোদ্ধা’ হিসেবে দেখেন।তিনি মনে করেন, স্ত্রীর এই সহযোগিতা ছাড়া দেশ ও দলের জন্য তার পক্ষে এত বড় ত্যাগ স্বীকার করা সম্ভব হতো না।সাহিত্যনির্ভর রাজনৈতিক চিন্তামির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে লেখাটিতে সাহিত্য, দর্শন ও বিশ্বসাহিত্যের প্রতি গভীর অনুরাগী একজন প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করা সাবেক এই শিক্ষক বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের নিয়মিত পাঠক। কবিতা আবৃত্তির পাশাপাশি কঠিন সময়েও সাহিত্যকে তিনি আত্মিক শক্তির উৎস হিসেবে গ্রহণ করেছেন।তার বক্তব্যে জীবনানন্দ দাশ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার উল্লেখ পাওয়া যায়। কারাগারের নিঃসঙ্গ সময়ে বই ও কবিতা তার সঙ্গী ছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। জেলে থাকাকালে ডায়েরি লেখা এবং কবিতা আবৃত্তি করে সময় কাটানোর কথাও তিনি বলেছেন।তার রাজনৈতিক দর্শনে সাহিত্য ও মানবিকতার সম্পর্কও গুরুত্ব পেয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনীতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সম্পর্কিত, আর সাহিত্য মানুষকে মানবিক করে তোলে; তাই সাহিত্য থেকে বিচ্ছিন্ন রাজনীতি রুক্ষ ও বিপজ্জনক হতে পারে।দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের প্রসঙ্গে তিনি নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লং ওয়াক টু ফ্রিডম’ বইয়ের ভাবনা উল্লেখ করেছেন। বড় একটি লক্ষ্য অর্জনের পরও সামনে আরও অনেক পথ বাকি থাকে—এই ধারণাকে তিনি গণতন্ত্রের সংগ্রামের সঙ্গে তুলনা করেছেন।কারাগারে থাকাকালে ইতালীয় দার্শনিক আন্তোনিও গ্রামশির ‘প্রিজন নোট বুকস’ থেকেও তিনি রাজনৈতিক চিন্তার কথা তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে হতাশা থাকলেও ইচ্ছাশক্তি ও চেতনায় আশাবাদ ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।সংকটের সময়ে কবিতার আশ্রয়বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে মির্জা ফখরুল প্রায়ই জীবনানন্দ দাশের কবিতার আশ্রয় নেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বড় জনসভায় দেশের মানুষের দুর্দশা বোঝাতে তিনি জীবনানন্দের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন।বিগত সরকারের দমনপীড়নের সময় নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি প্রার্থনামূলক বক্তব্যও ব্যবহার করতেন। সেখানে বিপদের সময় ভয় না পাওয়া এবং ঈশ্বরের শক্তির ওপর আস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।গণতন্ত্র সম্পর্কে তার বক্তব্যে শুধু ভোট দেওয়ার বিষয় নয়, বরং নাগরিকের নিরাপত্তা, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নিশ্চয়তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।জিয়াউর রহমান সম্পর্কে মির্জা ফখরুলের মূল্যায়নমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আধুনিক বাংলাদেশের দূরদর্শী স্থপতি এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে মূল্যায়ন করেন।একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় রাজনীতিতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখেন। তার মতে, জিয়াউর রহমান শুধু একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেননি; বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন মতের মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রেখেছেন।জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি এবং খাল খনন, তৈরি পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানির সূচনার মতো অর্থনৈতিক উদ্যোগের কথাও মির্জা ফখরুলের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। তার মতে, আধুনিক ও স্বাবলম্বী বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরিতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা ও সাধারণ জীবনযাপনকেও তিনি বর্তমান তরুণদের জন্য শিক্ষণীয় মনে করেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থেকেও তার সাধারণ জীবনধারাকে ক্ষমতার প্রতি অনাসক্তি ও জনগণের সেবার দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি তুলে ধরেন।৭ নভেম্বর সম্পর্কে বক্তব্য১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক সিপাহি-জনতার বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই দিন সিপাহি ও জনতা রাজপথে নেমে জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশের শাসনভার তার হাতে তুলে দিয়েছিল।তিনি মনে করেন, জিয়াউর রহমান কোনো পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসেননি; দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে জনগণই তাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল।পহেলা বৈশাখে কবিতা আবৃত্তিপ্রতি বছর বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিএনপির পক্ষ থেকে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। এসব অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়া উপস্থিত থাকতেন এবং দলের নেতাকর্মী ও শিল্পীরা গান-কবিতা পরিবেশন করতেন।এমন একটি অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্রোহ ও আশাবাদের কবিতা আবৃত্তি করেন। তার আবৃত্তিতে বেগম খালেদা জিয়াসহ উপস্থিত সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ঘটনাকে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সাহিত্য ও সংস্কৃতির সংযোগের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।খালেদা জিয়ার স্মরণে আবৃত্তিবেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর আয়োজিত এক আবেগঘন শোকসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কবি আল মাহমুদের ‘খালেদা’ কবিতা আবৃত্তি করেন।কবিতাটিতে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আপসহীন নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল বলে লেখাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।শোকসভায় মির্জা ফখরুল যখন কবিতাটি আবৃত্তি করছিলেন, তখন তার নিজের চোখও অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। কবিতার মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও তার রাজনৈতিক পরিচয়ের আবেগঘন দিকটি তিনি তুলে ধরেন।এমন একজন রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে বঙ্গভবন আরও আলোকিত হোক এবং সেই আলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক—এই প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে লেখাটির সমাপ্তি টানা হয়েছে। সূত্র: আমার দেশ

মতামত ২৩ আগস্ট ২০২৬

গাছের ডাক্তার কাঠঠোকরা পাখির অজানা কাহিনি

  পরিবেশ রক্ষায় পাখি বনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।আমাদের প্রকৃতিতে এমনও অনেক বিস্ময়কর পাখি আছে, যারা খুব সহজেই কঠিন কাজগুলো করে । বলছিলাম কাঠঠোকরা পাখির কথা। এরা মিনিটে একশ বারেরও বেশি ঠোকরাতে পারে। আর দিনে প্রায় আট থেকে দশ হাজারেরও বেশি গাছ ঠোকরায়। তবে সর্বশক্তি দিয়ে কাঠ ঠোকরালেও এদের মস্তিষ্কে কোনো ক্ষতি হয় না। ক্ষতি না হওয়ার অন্যতম কারণ হলো এদের জিহ্বা। এদের জিহ্বা অবিশ্বাস্য রকমের লম্বা হয়। কখনো কখনো ঠোঁটের প্রায় দ্বিগুণ। কাঠঠোকরা গাছের ছাল ও কাণ্ডের ভেতরে লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর পোকা এবং লার্ভা খেয়ে বেঁচে থাকে। এরা বোরিং বিটল ও উইপোকার মতো কীটপতঙ্গ ধ্বংস করে। ফলে গাছগুলো পোকার আক্রমণ থেকে মুক্তি পায় এবং সুস্থ থাকে ফলে গাছকে দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে।সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, কাঠঠোকরা পাখির জিহ্বা মস্তিষ্কের পেছনের দিকে পেঁচানো থাকে। মাথার পেছন ঘুরে আবার তা সামনে চলে আসে। মূলত এই জিহ্বাই কাঠঠোকরা পাখির মাথায় সিট বেল্টের মতো কাজ করে। অর্থাৎ যখন কাঠঠোকরা পাখি গাছে আঘাত করে; তখন তাদের মাথায় বিপরীত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। সেই প্রতিক্রিয়া কাঠঠোকরার জিহ্বা শোষণ করে নেয়। ঠোকরানোর সময় তার মস্তিষ্কের ওপর চাপ কমিয়ে দেয়। কাঠঠোকরা যখন কাঠ খোঁচায়, তখন গাছের ভেতরে ছত্রাক বা পচনশীল উপাদান প্রবেশে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে। এতে মৃত কাঠ প্রাকৃতিকভাবে পচে মাটির পুষ্টিগুণ বাড়ায়।কাঠঠোকরা পাখির কাঠ ঠোকরানোর অন্যতম কারণ হলো খাদ্য সংগ্রহ করা। এরা গাছের ভেতরে থাকা গাছের জন্য ক্ষতিকর পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। এ”জন্যই কাঠঠোকরা পাখিকে” গাছের ডাক্তার” বলা হয়। কারণ এরা গাছের ভেতরে থাকা পোকামাকড় খাওয়ার ফলে গাছের রোগের সংক্রমন রোধ, দ্রুত বেড়ে ওঠা ও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাদের পরিত্যক্ত গর্তগুলোতে পরবর্তী সময়ে পেঁচা, বাদুড়, ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও অন্যান্য পাখি নিরাপদে বসবাস করে এবং ডিম পাড়ে। বনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ও খাদ্যশৃঙ্খল সচল রাখতে এরা বিশেষ অবদান রাখে।  আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ রোপনের মাধ্যমে পাখিদের জন্য “ নিরাপদ অভয় অরন্য” গড়ে তুলি। পাখি হত্যা বন্দ করি, আবাসযোগ্য দেশ গড়ি।

মতামত ১৮ আগস্ট ২০২৬

নারীদের পৃথক বাস সার্ভিসকে স্বাগত, মেয়েদের পৃথক শ্রেণিকক্ষের দাবি মুফতি আবুবকর সিদ্দিকের

নগরীতে নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি আবুবকর সিদ্দিক। একইসঙ্গে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য পৃথক শ্রেণিকক্ষের দাবি জানিয়েছেন তিনি।মুফতি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, নারীরা দেশের মোট জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ দিন দিন বাড়ছে। তাই তাদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। নারীদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।তিনি বলেন, গণপরিবহনে নারীদের নানা ধরনের বিড়ম্বনা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পৃথক বাস সার্ভিস চালু হলে কর্মজীবী নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ নারীরা নিরাপদে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। তবে শুধু পৃথক বাস সার্ভিস চালু করলেই হবে না, এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত বাস, নির্দিষ্ট রুট এবং নিয়মিত তদারকিও নিশ্চিত করতে হবে।একইসঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মেয়েদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। মুফতি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে মেয়েদের জন্য পৃথক শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা হলে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারবে। বিশেষ করে কিশোরী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বস্তি এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে এ ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি কোনোভাবেই বরদাশত করা উচিত নয়। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলোতে অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় নজরদারি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।মুফতি আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু নারীদের বিষয় নয়, এটি পুরো সমাজের দায়িত্ব। নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারলে এবং নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র আরও এগিয়ে যাবে।”তিনি সরকারের নারীবান্ধব উদ্যোগগুলোকে আরও সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মতামত ১৮ আগস্ট ২০২৬