পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ সেজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। গত ১৭ আগস্ট ফজরের সুন্নত নামাজ আদায়ের সময় তাঁর মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাঁর আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পরিবার, মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রায় দেড় বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সুনামের সঙ্গে শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করতেন।
সামান্য উপার্জন দিয়ে স্ত্রী, মাত্র আড়াই বছরের পুত্র, ছয় মাস বয়সী কন্যা ও মাকে নিয়ে কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের ওপর নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে পরিবারটির আর্থিক সংকটও আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৩ আগস্ট) জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর আহ্বানে মরহুমের পরিবারের সদস্যরা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ। মরহুমের পরিবারের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা যেন স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছে—সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুমকীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মরহুমের স্ত্রীকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা, তাকে সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের বসতঘর মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতেও ইউএনওকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছোট দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
একজন ইমামের সেজদারত অবস্থায় এমন মৃত্যু যেমন এলাকাবাসীর হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে, তেমনি তাঁর মৃত্যুর পর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।
মহান আল্লাহ মরহুম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহকে ক্ষমা করুন, তাঁর পরিবারকে এই শোক ও সংকট কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন এবং সকলের মঙ্গল করুন। আমিন।

রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মৌকরন ইউনিয়নের শ্রীরামপুর বাজার মসজিদের ইমাম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ সেজদারত অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন। গত ১৭ আগস্ট ফজরের সুন্নত নামাজ আদায়ের সময় তাঁর মৃত্যু হয়। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তাঁর আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে পরিবার, মুসল্লি ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহ প্রায় দেড় বছর ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও সুনামের সঙ্গে শ্রীরামপুর বাজার মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করতেন।
সামান্য উপার্জন দিয়ে স্ত্রী, মাত্র আড়াই বছরের পুত্র, ছয় মাস বয়সী কন্যা ও মাকে নিয়ে কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করতেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের ওপর নেমে আসে চরম অনিশ্চয়তা। একই সঙ্গে পরিবারটির আর্থিক সংকটও আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়িয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৩ আগস্ট) জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর আহ্বানে মরহুমের পরিবারের সদস্যরা পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হন। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ। মরহুমের পরিবারের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা যেন স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবারের কাছে পৌঁছে—সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), দুমকীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মরহুমের স্ত্রীকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা, তাকে সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং পরিবারের বসতঘর মেরামতের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতেও ইউএনওকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছোট দুই সন্তান ও বৃদ্ধ মাকে নিয়ে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারটি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
একজন ইমামের সেজদারত অবস্থায় এমন মৃত্যু যেমন এলাকাবাসীর হৃদয়ে গভীর রেখাপাত করেছে, তেমনি তাঁর মৃত্যুর পর অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন।
মহান আল্লাহ মরহুম হাফেজ মুহাম্মদ আতাউল্লাহকে ক্ষমা করুন, তাঁর পরিবারকে এই শোক ও সংকট কাটিয়ে ওঠার শক্তি দিন এবং সকলের মঙ্গল করুন। আমিন।

আপনার মতামত লিখুন